কেমন লাগে জীবনের করুণ বাস্তবতা জানার পর?

সারাজীবন যখন শিখলেন, জানলেন, পড়লেন আদর্শই সব। তারপর বড় হয়ে যখন দেখলেন, এমন কিছু আসলে নেই। তখন কেমন লাগে?

নীতি সব, ভালো মানুষ হওয়াই জীবনের সব, বিনয়ীরাই শ্রেষ্ঠ, এসব পড়লেন। বড় হয়ে দেখলেন, দানবরাই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ পায়। অনুভূতিটা কেমন?

নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান আপনি। রক্ত পানি করা টাকা খরচ করলেন, জীবনের সোনালী সময় ব্যয় করলেন, যোগ্যতা অর্জন করলেন। শেষ বেলায় দেখলেন, ঘুষ ছাড়া চাকরী হয় না। পৃথিবীটা কেমন লাগে তখন?

অনার্স মাস্টার্স পাশ করেছেন। শিক্ষিত হয়েছেন। ঢের জ্ঞান আপনার। কিন্তু ওপরতলার নীতিনির্ধারকদের ফাঁকে পড়ে জব হচ্ছে না। বেকার বসে আপনি। সমাজের চোখে অন্তত আপনার শিক্ষার কোন মূল্য নেই। মূল্যহীন এমনকি আপনিও। কেমন লাগে মুহূর্তগুলো?

অথবা চাকরী করেন। কিন্তু বড় পদে নয়। কিংবা সরকারী চাকরী নয়। আসতে যেতে মানুষের কাছে কোন পাত্তাই পান না। ভেতরে বাড়তে থাকা ব্যথাটা কেমন লাগে তখন?

আপনি আদর্শবান। আদর্শ বজায় রাখতে গিয়ে ছাল-বাকল কিছুই ঠিক থাকছে না। জীবন আপনাকে শেখাচ্ছে, টাকাই সব। বিষয়টা কেমন পীড়াদায়ক?

একদিকে আপনি আদর্শের বাণী প্রচার করছেন, অন্যদিকে পাপের দুনিয়ার কাছে সব জিম্মি। এতে আদৌ কোন লাভ হচ্ছে আমাদের? একেবারেই না।

দিনশেষে এত আদর্শ আদর্শ করে কোন ফায়দা হচ্ছে না, কেউ দাম দিচ্ছে না। বিনোদনে মত্ত সবাই। বিলাসিতায় আচ্ছন্ন। ফলে দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে। কার্যত এই উচ্ছন্নে যাওয়া নিয়ে নীতিনির্ধারকদের চিন্তাভাবনা নেই।

কেননা এতে করে তাদের পকেট ভারী হয়। কিন্তু গড়পড়তা সকল মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষেরা এসবের জন্য বিপদে পড়ে যাচ্ছে। জীবিত থেকেও আজ তারা মৃত। তাদের জীবন্মৃত দশায় ওপরতলার লোকেরা ভাবলেশহীন হয়ে আছে, নয়তো পৈশাচিক মজা নিচ্ছে৷ এসব নিতান্তই প্রমাণ করে আমরা আদর্শবান নই।

আপনারা কি বুঝতে পারছেন- ভোগবিলাস, বস্তুবাদী মোহাচ্ছন্ন মানসিকতা আমাদেরকে নেতিবাচক পুঁজিবাদী সমাজের দিকে ঠেলে দিয়েছে?

ইতিবাচক পুঁজিবাদী সমাজেরও একটা গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু যখন একটি উৎকৃষ্ট আদর্শের ভেতরে থেকেও ঘূণ ধরা সমাজ আমাদেরকে দেখতে হয়, তখন সেটি পুঁজিবাদের চেয়েও ভয়ানক কিছু।

আমরা খুব গর্বের সাথেই পরিচয় দেই- আমরা মুসলিম, ইসলাম আমাদের আদর্শ। আরও বলি- এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই।

অথচ চারদিকে তাকালে বোঝা যায় এদেশে সবই আছে নেই শুধু ‘ইসলাম’।

‘প্রসঙ্গ যখন আদর্শ’

– Tayran Abir

 

 

 


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *