বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়- একজন কালজয়ী লেখকের গল্প

বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত ভূমিতে যেসব লেখকরা কলম দিয়ে চাষ করে গেছেন, তাদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম সেরা একজন। নিজের লেখা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করা চাট্টিখানি কাজ নয়, এমনকি সমাজ সংস্কারের মতো জটিল কাজেও নিজেকে জড়িত রাখাটা কষ্টসাধ্যই বটে। তবুও বঙ্কিমচন্দ্রের মতো সাহিত্যিকরা দুরূহ এই কাজটি করে গেছেন। নিজের লেখালেখির গুণে মানুষকে করেছেন আলোকিত।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের অগ্রদূত। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনীর রচয়িতাও তিনি। যেই সময়ে উপন্যাসকে শক্তিশালী ধরণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো না, ঠিক সেই সময়ে তিনি বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের ভীতকে শক্তিশালী করেছেন। তার লেখার মধ্যে ছিলো আধুনিকতার ছাপ। এ কারণে তাকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক উপন্যাসের জনক বলা হয়ে থাকে।

এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ধর্মীয় সংস্কারের জায়গা বিবেচনা করলেও উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব রেখে গেছেন৷ তিনি ছিলেন একজন সংস্কারক। নিজস্ব চিন্তা ও লেখার মাধ্যমে বাঙালীর ইতিহাস শাস্ত্রের বিকাশ ঘটান তিনি। তৎকালীন সময়ে প্রচলিত যেসব কুসংস্কার সমাজকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো, সেসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। দু’হাত ভরে লিখে গেছেন, করেছেন বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ। বাংলা সাহিত্যে সীমাহীন অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্য সম্রাট’ উপাধি লাভ করেন।

জন্মগ্রহণ ও পারিবারিক জীবন

১৯৩৮ সালের ২৬ জুন। ভারতের চব্বিশ পরগনার অন্তর্গত কাঁঠালপাড়া গ্রামে বঙ্কিমচন্দ্ৰ চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের সবাই ছিলো গোঁড়া ব্রাহ্মণ। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের অধীনে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তিনি হুগলি জেলার কালেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। তিন ভাইয়ের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন সবচাইতে ছোট। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মাত্র এগারো বছর বয়সে সাংসারিক জীবনে পদার্পণ করেন। তখনকার সময়ের অনুসারে হয়তো এটি আশ্চর্য হওয়ার মতো কোন বিষয় ছিলো না, যদিও বর্তমান সময়ের হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্রের বিয়ের বয়স নিয়ে বিস্মিত হওয়ার মতো মানুষও কম নেই! তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, প্রথম স্ত্রীর সাথে আজীবন থাকা হয়নি তার। ১৮৪৯ সালে বিয়ে করেন তিনি। প্রথম স্ত্রী ছিলেন নারায়ণপুর গ্রামের পঞ্চমবর্ষীয়া এক বালিকা। মাত্র ১০ বছর পর বঙ্কিমচন্দ্রকে একাকীত্বের সাগরে ভাসিয়েই ১৮৫৯ সালে তার স্ত্রী মারা যান। পরবর্তীতে তিনি আবার বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম ছিলো রাজলক্ষ্মী দেবী। ব্যক্তিজীবনে তিন কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

শিক্ষাজীবন

বঙ্কিমচন্দ্র শৈশব থেকেই বেশ মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তার মেধা সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্রমাফিক নানা কথা জানা যায়। তার ভাই পূর্ণচন্দ্র একবার বলেছিলেন- ‘শুনিয়াছি বঙ্কিমচন্দ্র একদিনে বাংলা বর্ণমালা আয়ত্ত করিয়াছিলেন।’ বঙ্কিমচন্দ্রের শৈশবের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়েছিলো কুল-পুরোহিত বিশ্বম্ভর ভট্টাচার্যের হাতে। এরপর শিক্ষাগুরু রামপ্রাণের হাতেই তার শৈশবের পাঠগ্রহণ চলতে থাকে। গ্রামের পাঠশালাতে না গেলেও, রামপ্রাণই তাকে বাড়িতে পড়াতে আসতেন। তিনি ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গৃহশিক্ষক। তবে ধারণা করা হয়ে থাকে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্দান্ত মেধা অর্জনের পেছনে রামপ্রাণের অবদান ছিলো না বললেই চলে। জীবদ্দশায় খোদ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ই এ ব্যাপারে নিজের নেতিবাচক মতামত জানিয়েছিলেন।

প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনা শেষ করে হুগলি কলেজ ভর্তি হন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেখানেও তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। নিজের মেধার বদৌলতে শিক্ষাবৃত্তি পান তিনি। এরপর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক শেষ করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

পেশাগত জীবন

পড়াশোনা শেষ করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি কালেক্টর পদে নিযুক্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে চাকরীজীবন শুরু করেন। তার চাকরীজীবন মোটামুটি দীর্ঘই ছিলো বলা চলে। প্রায় ত্রিশ বছর ব্রিটিশদের অধীনে কাজ করেছেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হন। ১৮৯১ সালে তিনি সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। লেখালেখির প্রতি তার ছিলো ভীষণ অনুরাগ। কবি ইশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে তাঁর আদর্শ হিসেবে মানতেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্রিটিশ সকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের চাকরি করার ফলে তার লেখায় ইংরেজপ্রীতি প্রকাশ পায়। তবে একথাও সত্য যে, তিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলমন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’ এর স্রষ্টা। বন্দেমাতরম খ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠের জন্য তাকে অনেক মাশুল দিতে হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস লিখেছিলেন। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু জাতীয়তাবাদের মূল প্রতিপাদ্য এটি।

তার বাবার মতো তিনিও সরকারি চাকরিতে সারা জীবন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যান। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে দুটি খেতাবে ভূষিত করে- ১৮৯১ সালে রায় বাহাদুর খেতাব এবং ১৮৯৪ সালে ‘কম্প্যানিয়ন অফ দ্য মোস্ট এমিনেন্ট অর্ডার অফ দ্য ইন্ডিয়ান এম্পায়ার’ খেতাব।

সাহিত্যে অবদান

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হচ্ছে Raj Mohan’s Wife । এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজী ভাষায় লেখা এই উপন্যাস সবার প্রশংসা অর্জনে ব্যর্থ হয়। ফলে তিনি বাংলায় উপন্যাস লেখা শুরু করেন। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয় বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্যিক জীবনে মোট ১৪টি উপন্যাস রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে তার লেখার ধরণে আলাদা ছাপ রয়েছে। তার লেখার ধরণকে ‘বঙ্কিমী রীতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। মূলত বঙ্কিমই প্রথম বাংলা ভাষাকে মর্যাদার জায়গায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন নিজের লেখালেখির মাধ্যমে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাসসমূহঃ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস রচনায় ইংরেজ ঔপন্যাসিক স্যার ওয়াল্টার স্কটের রোমান্স-আশ্রয়ী উপন্যাসের আদর্শের অনুসারী ছিলেন। তবে তিনি বাঙলির সামাজিক পারিবারিক আদর্শেও অনেকগুলো উপন্যাস রচনা করেন। তার সাহিত্যিক জীবনে সর্বমোট ১৪ টি বিখ্যাত উপন্যাস রচনা করেছিলেন তিনি। এগুলো হচ্ছে-

১। দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস। দুর্গেশনন্দিনী অর্থ হচ্ছে দুর্গ প্রধানের কন্যা। ষোল শতকের শেষে, উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যকার সংগ্রামই এই উপন্যাসের উপজীব্য।

২। কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।

৩। মৃণালিনী (১৮৬৯)- বাংলাদেশে তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।

৪। বিষবৃক্ষ (১৮৭৩)- এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।

৫। ইন্দিরা (১৮৭৩)- উপন্যাসে ঘটনাপ্রবাহে ইন্দিরার শ্বশুরবাড়ি যাত্রার পথে যে বৃহৎ দীঘি পড়ে, যেটা ডাকাতদের আস্তানা, সেই কালোদীঘি নামক স্থানেই ইন্দিরা ডাকাতদের কবলে পড়ে। ইন্দিরার সহযাত্রী ষোলজন বাহক, চারজন দারোয়ান ও অন্যান্য লোক থাকা সত্ত্বেও তাকে ডাকাতদের হাতে জিম্মি হতে হয়। এসব নিয়েই উপন্যাসের কাহিনী।

৬। যুগলাঙ্গুরীয় (১৮৭৪)- যুগলাঙ্গরীয় খুব ছোট্ট একটা আখ্যান । কেউ বলে থাকেন নভেলা বা ছোট উপন্যাস, কেউ বলেন বড় গল্প। বঙ্কিম একে বলেছেন উপকথা। প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনী।

৭। রাধারাণী (১৮৭৫)- রাধারাণী উপন্যাসের প্রেক্ষাপট শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা।

৮। চন্দ্রশেখর (১৮৭৫)- ইংরেজ শাসন ও মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের সংগ্রামের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস এটি।

৯। রজনী (১৮৭৭)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণাত্মক উপন্যাস।

১০। কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮)- এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।

১১। রাজসিংহ (১৮৮১)- এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।

১২। আনন্দমঠ (১৮৮২)- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে সন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত।

১৩। দেবী চৌধুরাণী (১৮৮৪)- দেবী চৌধুরানী এক জীবন সংগ্রামীর কাহিনী। বাল্যকালেই যিনি হয়েছেন পিতৃহারা, লাঞ্ছনা আর অপমানের শিকার। সহায়-সম্বলহীন মায়ের সঙ্গেই বেড়ে ওঠেন ‘দেবী চৌধুরানী’। সব প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে দুঃখ-কষ্ট জয় করে একসময় ইংরেজ ও জমিদারদের শাসন-শোষণের শিকার নিরীহ মানুষদের নয়নের মণি হয়ে ওঠেন দেবী চৌধুরানী।

১৪। সীতারাম (১৮৮৭)- সীতারাম একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধ সমূহঃ

১। কৃষ্ণচরিত (১৮৮৬)
২। কমলাকান্তর দপ্তর (১৮৭৫)
৩। ধর্মতত্ত্ব (১৮৮৮)
৪। দেবতত্ত্ব (মরণোত্তর প্রকাশিত)
৫। লোক রহস্য (১৮৭৪)
৬। বিজ্ঞান রহস্য (১৮৭৫)
৭। বিবিধ প্রবন্ধ, সাম্য (১৮৮৯)
৮। ললিতা তথা মানস (১৮৫৬)

সম্পাদিত গ্রন্থাবলীঃ

১। দীনবন্ধু মিত্রের জীবনী
২। বাঙ্গলা সাহিত্যে প্যারীচাঁদ মিত্রের স্থান
৩। সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তিসমূহঃ

• একজন স্ত্রী সতীত্ব সম্বন্ধে কোন দোষ করিলে সে আর মুখ দেখাইতে পারে না।

• যাকে ভালবাসো তাকে চোখের আড়াল কোরো না।

• পথিক তুমি পথ হারাইছো।

• কতকগুলি লোক আছে, এদেশের লোক তাহাদের বর্ণনার সময় বলে, “ইহারা কুকুর মারে, কিন্তু হাঁড়ি ফেলে না।”

• যে ক্ষুধার্ত নয়, তাকেই বেশি করে খাওয়াতে চায় ৷

• আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জন করা তাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে—কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে। তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?

• যে কখনো রোদন করে নাই, সে মনুষ্য মধ্যে অধম। তাহাকে কখনও বিশ্বাস করিও না। নিশ্চিত জানিও সে পৃথিবীর সুখ কখনো ভোগ করে নাই। এর সুখও তাহার সহ্য হয় না।

• পাহাড় যত নিকট দেখায়, তত নিকট নয়।

• ওপারে যে যন্ত্রণার কথা শুনিতে পাও, সে আমরা এই পার হইতে সঙ্গে করিয়া লইয়া যাই। আমাদের এ জন্মের সঞ্চিত পাপগুলি আমরা গাঁটরি বাঁধিয়া, বৈতরিণীর সেই ক্ষেয়ারীর ক্ষেয়ায় বোঝাই দিয়া, বিনা কড়িতে পার করিয়া লইয়া যাই। পরে যমালয়ে গিয়া গাঁটরি খুলিয়া ধীরে সুস্থে সেই ঐশ্বর্য্য একা একা ভোগ করি।

• স্ত্রীলোকদিগের উপর যেমন কঠিন শাসন, পুরুষের উপর তেমন কিছু নেই। কথায় কিছু হয় না, ভ্রষ্ট পুরুষের কোন সামাজিক দণ্ড নেই। একজন স্ত্রী সতীত্ব সম্বন্ধে কোন দোষ করিলে সে আর মুখ দেখাইতে পারে না। হয়তো আত্মীয় স্বজন তাকে বিষ প্রদান করেন, আর একজন পুরুষ প্রকাশ্যে সেই সব কাজ করিয়া রোশনাই করিয়া জুড়ি হাকাইয়া রাত্রিশেষে পত্নীকে চরণরেণু স্পর্শ করাইয়া আসেন, পত্নী পুলকিত হয়েন।

• কুসুম আপনার জন্য ফোটে না, পরের জন্য তোমার হৃদয় কুসুমটিকে প্রস্ফুটিত করিও।

মৃত্যু

সাহিত্য জগতে অসামান্য অবদান রাখা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জীবন চলার পথে এক পর্যায়ে এসে ডায়াবেটিসে ভুগতে থাকেন তিনি। চিকিৎসা চালু থাকলেও দিনের পর দিন তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ফলে প্রচন্ড দায়িত্বশীল এই মানুষটি কম বয়সেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকগমন করেন। ১৮৯৪ সালের ৮ ই এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন সাহিত্যের মহারথী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো মাত্র ৫৬ বছর। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা সময়ের সমাপ্তি ঘটে।

জরুরী তথ্য সংগ্রহ-

১। Wikipedia
২। Mukhosh(.)net
৩। Dorponpotrika(.)com
৪। Azharbdacademy(.)com
৫। ‘বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’- ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত
৬। বঙ্কিম-জীবনী, শচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, পুস্তক বিপণি, কলিকাতা, ১৯৫২, পৃ. ৯
৭। প্রবন্ধ- বঙ্কিমচন্দ্রের বাল্যশিক্ষা, পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম-প্রসঙ্গ গ্রন্থ, সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত
৮। বঙ্কিমচন্দ্রজীবনী, অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ১৯৯১, পৃ. ২৫ থেকে উদ্ধৃত
৯। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (জীবনকথা), বঙ্কিম রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, যোগেশচন্দ্র বাগল সম্পাদিত, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯
১০। শনোলী দেবনাথ (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০)। “কুস্তি লড়বে কপালকুণ্ডলা! বঙ্কিমী উপন্যাসের অসীম নয় ছয়”। দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস৷ সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০।

 

ত্বাইরান আবির

লেখক, অনুবাদক

শেয়ার করুনঃFacebookTwitter
আলোচনায় যোগ দিন

Instagram

Instagram has returned empty data. Please authorize your Instagram account in the plugin settings .