অভিযোগ যেভাবে আপনাকে পিছিয়ে দেয়!

আপনি কি জীবন নিয়ে প্রচুর পরিমাণে অভিযোগ করেন? আপনার পরিস্থিতি নিয়ে? অথবা বিভিন্ন কাজে মানুষকে নিয়ে? উত্তর যদি হ্যা হয়ে থাকে, তাহলে আমি আপনাকে বলবো, এখনই এসব বন্ধ করুন। অভিযোগ করবেন না। দিনশেষে মানুষের প্রতি অভিযোগ আপনাকে কিছুই দেয় না। অভিযোগ কোনকিছুই বদলায় না। অভিযোগ আপনাকে কোন ইতিবাচক ফলাফলের নিকটবর্তী করে না। বিশ্বাস করুন, অভিযোগের যদি নূন্যতম ইতিবাচকতা থাকতো, তাহলে আমি আপনাদেরকে অভিযোগ করার পরামর্শ দিতাম। কিন্তু সত্য হচ্ছে অভিযোগ করে কোন লাভ হয় না কারো। অধিকাংশ মানুষই আপনার করা অভিযোগ আমলে নেয় না। আপনি তাদেরকে নিয়ে কী অভিযোগ করছেন, কী বলছেন, এসব নিয়ে তাদের কোনো চিন্তাই নেই। আবার অনেকেই আছে, যারা আপনি ভালো নেই, এটা দেখে শান্তি পায়। তারা মনে মনে সুখী হয় এটা ভেবে যে, আপনি সুখে নেই। অবাক হলেও সত্য পৃথিবীতে এই ধরণের মানুষ আপনি বহু পাবেন। কেননা, দিনশেষে এটাই তো করুণ সত্য- মানুষ মাত্রই স্বার্থপর।

অভিযোগ করা এবং আপনার নিজস্ব দুঃখ আপনাকে যেখানে নিয়ে যাবে, সেটা মোটেই সুখকর কোনো অবস্থা নয়। তাই অভিযোগ করা বাদ দিন। বরং প্রশ্ন করুন, কীভাবে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো যায়? এই প্রশ্নই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবে।

উদাহরণস্বরূপ- আপনার ওজন অতিরিক্ত? ওজন কমাতে চান? তাহলে নিজের ওপর অভিযোগ না করে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে হাঁটুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। আপনার স্বপ্ন পূরণে পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না? অভিযোগ না করে একটু দ্রুত ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠুন। তারপর প্রার্থণা সেরে নিজের স্বপ্ন পূরণের কাজে লেগে পড়ুন। আপনি জীবন নিয়ে ভালো নেই? তাহলে বাবা-মা, স্ত্রী, দেশের অর্থনীতি, আবহাওয়া এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি অভিযোগ না করে সমাধান লিখুন। সব দায়ভার নিজের ওপর নিন। আপনি নিজেই নিজের সব।

আজ থেকেই অভিযোগ করা এবং দোষারোপ করার মতো বিষাক্ত স্বভাব পরিত্যাগ করুন। এসব করে দিনশেষে কোনোকিছুই পরিবর্তন হয় না। যেসব ব্যাপার আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারছে না, যেসব বিষয় আপনার জীবনকে এই মুহূর্তে মনের মতো করে গড়ে তুলতে দিচ্ছে না, সেসব নিয়ে অভিযোগ ও দোষারোপ করা ভুলে যান। নিজে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করুন। পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে না থাকলে কীভাবে অনুকূলে নিয়ে আসা যায়, সেসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন। দোষারোপ করে লাভ নেই। আপনার স্বপ্ন পূরণের রাস্তা জটিল হলে নিজেকে জটিল সময় মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী করে তুলুন। হয়তো আপনার জন্য অনেক কিছুই কঠিন, হয়তো আপনাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, কিন্তু সবকিছুই সম্ভব। আপনি চাইলেই ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করতে পারেন। আপনার পূর্বে বহু কিংবদন্তীরাই এটা করে দেখিয়েছে। সুতরাং আপনিও পারবেন।

‘লাভ ইয়োরসেলফ ফার্স্ট’ বই থেকে অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো। শীঘ্রই বইটি প্রকাশিত হবে।

© ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *