সবসময়ই মানুষের ওপর দয়াশীল হোন

নিউইয়র্কে ব্রুকলিন শহর। চশ নামের একটি স্কুল ছিলো। ঐ স্কুলে শারীরিকভাবে অক্ষম শিশুদের পড়ানো হতো। কিছু ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়তে আসতো এবং এখানেই থাকতো। বিপরীতে, বাকি সুস্থ শিশুরা মূলধারার বিদ্যালয়গুলোতে পড়তো। একদিন এক ডিনারে শিশুদের ফাদার একটি বক্তব্য রাখলেন, যা সেখানে উপস্থিত লোকদের কখনোই ভোলার নয়। তখন হঠাৎ এক লোক চিৎকার করে উঠলেন- ‘আমার পুত্র শায়ার মাঝে ঈশ্বরের সৃষ্টির যথার্থতা কোথায়? ঈশ্বর যা সৃষ্টি করেছেন সবই উপযুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমার সন্তান বাকি শিশুদের মতো করে সব বুঝতে পারে না। আমার সন্তান অন্যান্য শিশুদের মতো সকল বিষয় মনে রাখতে পারে না। তাহলে কোথায় ঈশ্বরের সৃষ্টির যথার্থতা?’ উপস্থিত লোকেরা কথাটি শুনে ভীষণ অবাক হলো এবং লোকটির রাগে বেশ কষ্ট পেলো। লোকটি ফের বললো- ‘আমি বিশ্বাস করি, যখন ঈশ্বর পৃথিবীতে একটি শিশুকে আনেন, তখন তিনি তার সৃষ্টির যথার্থতা খোঁজেন লোকে সেই মানবশিশুর ওপর কেমন আচরণ করবে সেটার ওপর।’ তিনি তারপর তার পুত্র শায়া সম্পর্কে পরের গল্পটি বললেন।

এক বিকালে শায়া তার বাবার সাথে পার্কে হাঁটতে বেরিয়েছিলো। ওখানে শায়ার পরিচিত কিছু বাচ্চারা বেজবল খেলছিলো। শায়া তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো- ‘বাবা, তোমার কি মনে হয় ওরা আমাকে খেলতে নেবে?’ শায়ার বাবা জানতেন যে তার ছেলে মোটেও এ্যাথলেট নয় এবং অধিকাংশ ছেলেই তাকে দলে নিতে চাইবে না। কিন্তু শায়ার বাবার মনে হলো তার ছেলেকে খেলতে নিলে তার মন ভালো হবে। তাই তিনি ঐ দলের একজন ছেলেকে ডেকে শায়া খেলতে পারবে কিনা সেটা জানতে চাইলেন। ছেলেটি প্রথমে তার টিমমেটদের দিকে তাকালো। তারপর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিজেই বললো- ‘আমরা এখনো নয় রান পিছিয়ে আছি। খেলায় এখন অষ্টম ইনিংস চলছে। আমার মনে হয় নবম ইনিংসে সে আমাদের হয়ে ব্যাট করতে নামতে পারবে।’

শায়ার বাবা খুবই খুশি হলেন শায়ার মুখে হাসি দেখে। শায়াকে গ্লাবস পরে মাঠের মাঝে নামতে বলা হলো। শায়ার দল অষ্টম ইনিংসে কিছু রান করলো। কিন্তু তারপরও তিন রানে পিছিয়ে ছিলো। নবম ইনিংসেও তারা পুনরায় রান করলো, তবুও দুই রানে পিছিয়ে ছিলো। আর তখনই শায়ার ব্যাট করার সময় এলো। দলটি কি আসলেই শায়ার মত একজনকে ব্যাট করতে দিয়ে তাদের জেতার সম্ভাবনাকে নষ্ট করবে? প্রশ্ন জাগার কথা।

আশ্চর্যজনকভাবে, শায়াকেই ব্যাট করতে দেয়া হলো। প্রত্যেকেই জানতো যে, শায়া বলে আঘাত করা তো দূরে থাকুক, ঠিকমতো ব্যাটও ধরতে জানে না। যাইহোক, শায়া পিচে আসতেই অপর প্রান্তের ছেলেটি বল করতে পেছনে গেলো। এরপর সজোরে বল ছুড়তেই শায়া এলোমেলোভাবে ব্যাট চালালো, কিন্তু মিস হলো। কিন্তু পরের বার শায়ার এক টিমমেট এসে তাকে হাত ধরে সব শিখিয়ে দিলো। এরপর বোলার পিচ থেকে বল ছুড়ে মারতেই শায়া ও তার টিমমেট একসাথে আঘাত করলো। বলটা গিয়ে এক ফিল্ডারের কাছে গেলো। সহজেই সে ওটা লুফে নিলো। সে যদি ফার্স্ট ব্যাটসম্যানের দিকে ওটা ছুঁড়তো তাহলে শায়া নিশ্চিত আউট হত। কিন্তু সে তা না করে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানের দিকে সেটা ছুঁড়তেই তার মাথার ওপর দিয়ে ওটা অন্যদিকে চলে গেলো। শায়ার টিমমেটরা চিৎকার করতে লাগলো- ‘দৌড়াও শায়া, দৌড়াও। জোরে দৌড় দাও।’

শায়া কখনো জোরে দৌড় দেয়নি। যতটা সম্ভব সে দৌড়ে প্রথম রান সম্পন্ন করলো। বলটি তখন আরেক ফিল্ডারের হাতে। সে ওটা ছুঁড়তে দেরি করলো, ততক্ষণে শায়া আরো একটি দৌড় সম্পন্ন করে ফেলেছে। শায়ার টিমমেটরা ফের চিৎকার করতে লাগলো- ‘দৌড়াও, জোরে দৌড়াও শায়া।’ বল ততক্ষণে আরেক ফিল্ডারের হাতে। সে তার ডান দিকে থাকা ফিল্ডারের উদ্দেশ্য বুঝতে পারছিলো। দ্রুত ছুঁড়ে মারলে শায়া আউট হয়ে যাবে। এবং হেরে যাবে শায়া ও তার দল। তাই দ্রুত বলটিকে না ছুঁড়ে ওপরের দিকে ছুঁড়ে মারলো। আর শায়ার টিমমেটরা তখন চিৎকার করে উঠলো- ‘দৌড়াও শায়া, কোর্টের দিকে দৌড় দাও। শায়া কোর্টে পৌঁছাতেই আঠারো জন ছেলের সবাইকে তাকে এসে ঘিরে দিলো। উল্লাস করতে লাগলো। কেননা, সে তার দলের জন্য জয় এনে দিয়েছিলো। সত্যি বলতে তাকে ইচ্ছে করে জিতিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

‘ঐ দিন,’ বাবাটির চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো। নরম সুরে তিনি বললেন- ‘ঐদিন সেই আঠারোটি ছেলে তাদের সৃষ্টিকর্তার নিখুঁত গুণের গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছিলো।’

মোরাল অব দ্য স্টোরি- মানুষের ওপর দয়াশীল হওয়ার মাঝেই সৃষ্টির যথার্থতা নিহিত।

মূল- ইন্টারনেট

পুনঃলিখন- ত্বাইরান আবির
লেখক, অনুবাদক, কনটেন্ট রাইটার


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *