মৃত্যুর কথা স্মরণ করেন তো সবাই?

মৃত্যুকে কে না ভয় পায়? সবাই ভয় পায়। দুই একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তবে সত্য এটাই যে, বেশিরভাগ মানুষই মৃত্যুকে ভয় পায়।

মৃত্যুর কথা মনে হলেই মানুষের ভেতর কেঁদে ওঠে। কখনো অজানা আশঙ্কায়, কখনো আবার চলে যাওয়ার দুঃখে। মৃত্যুর মাঝে সুখের কিছু নেই।

মৃত্যু নিয়ে বহু মানুষেরই বহু বক্তব্য রয়েছে। কিন্তু কোন ভাবনারই কুলকিনারা মেলেনি শেষ পর্যন্ত। মৃত্যু নিয়েই জ্ঞানের সকল শাখাই শেষ পর্যন্ত ধরাশায়ী হয়েছে। তাই মৃত্যু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা যেকোন মানুষকে সংশয়ে ফেলে, হতাশ করে দেয়।

আমাদের বাস্তব জীবনের দিকে তাকালেই বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি। তবুও একটি ঘটনা আপনাদেরকে জানাতে চাই, যা আপনাদেরকে বিষয়টি সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা দেবে।

ডক্টর ওয়েন। জীবন ও মৃত্যু নিয়ে বেশ চিন্তাভাবনা করেছেন এই ভদ্রলোক। যেই সময়ের কথা বলছি, তখন তার বয়স সতেরো বছর। ডক্টর ওয়েন তখন তার বড় ভাইয়ের সাথে মিশিগানের টাউনহল রোডের একটি বাসায় থাকতেন। ঐ বাসায় মিস্টার স্কার্ফ নামে এক ভদ্রলোক ও তার স্ত্রী থাকতেন। তাদের সাথে ভালোই সম্পর্ক ছিলো ডক্টর ওয়েনের। একদিন বড় ভাই ডেভিডের সাথে ডক্টর ওয়েন নিজেদের বারান্দায় বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মিসেস স্কার্ফকে হাতে এক কাদি কলাসহ আসতে দেখলেন তিনি। মিসেস স্কার্ফ সামনে এসে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বললেন- ‘মিস্টার স্কার্ফ আজ সকালে মারা গেছেন।’ মিসেস স্কার্ফের কথা শুনে ডক্টর ওয়েন বেশ দুঃখিত হলেন। তিনি খানিক সময়ের জন্য বিস্মিত হয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর মিসেস স্কার্ফের যন্ত্রণা প্রশমিত করার জন্য বললেন- ‘তিনি কখন ফিরে আসবেন?’ মোটামুটি পরিণত বয়সের বালকের মুখ এই কথা হতবাক হয়েছিলেন মিসেস স্কার্ফ। তারপর সহজভাবে বলেছিলেন- ‘কখনোই ফিরে আসবেন না।’

এর পরবর্তী ঘটনা নিয়ে ডক্টর ওয়েন নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন-

“মিসেস স্কার্ফের মুখে ‘কখনোই না’ শোনার পরই আমি ওপরের ঘরে চলে গেলাম সেখান থেকে। ভাবতে লাগলাম মৃত্যু নিয়ে। মিস্টার স্কার্ফ কখনোই আসবেন না? কিন্তু কেন? হাজার বছর, হাজার আলোকবর্ষ দূরে চলে গেছেন মিস্টার স্কার্ফ, সবই বুঝলাম আমি। কিন্তু এই কখনোই ফিরে না আসার বিষয়টি কোনোভাবেই মাথায় আসলো না। একসময় আমি অসুস্থ অনুভব করলাম। তারপর এটা নিয়ে ভাবনা বাদ দিয়ে নিজের কাজে জড়িয়ে পড়লাম। কার্লোস ক্যাসটেনেরা ঠিক এ কথাটিই বলেছেন- ‘আমরা সবাই জানি আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত বাকি সবার মতোই। কিন্তু আমরা মনে করি যে, মৃত্যু হয়তো হবে না। তাই চিন্তাও করি না।’ মূলত এটাই আমাদের সবচাইতে বড় ব্যর্থতা।”

এই ঘটনা আমাদেরকে প্রমাণ দেয় যে, মৃত্যু নিয়ে আপনি যত বেশি চিন্তাভাবনা করবেন, তত বেশি আপনি সংশয়ে হারিয়ে যাবেন, পড়বেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তাই বেশি চিন্তা করা অনুচিত। তবে একদমই মৃত্যুকে ভুলে গিয়ে অপকর্মে জড়িত না হওয়াটাই উত্তম। মাঝেমধ্যে মৃত্যুকে স্মরণ করুন। ইতিবাচকভাবে নিন। এটা আপনাকে ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।

ত্বাইরান আবির
লেখক, অনুবাদক, কনটেন্ট রাইটার


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *