ইতিবাচক মানুষের শক্তি সম্পর্কে জানেন?

ইতিবাচক ও নেতিবাচক শক্তির পার্থক্য চিন্তাভাবনা করেছেন কখনো? ইতিবাচক চিন্তার বিপরীতে নেতিবাচক চিন্তার শক্তির অনুপাত কতটুকু জানা হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে একটাই জবাব হতে পারে- না।

খুব কম মানুষই এসব জানে। খুব কম মানুষই এসব নিয়ে চিন্তা করে। বিশ্বের বুকে এমন মানুষ খুব কম, যারা এই শক্তির তফাৎ পরিমাপ করার চেষ্টা করেছে এবং ফলাফল প্রকাশ করেছে।

এমনই একজন ব্যক্তি হচ্ছেন ডক্টর হকিন্স। মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা ও নেতিবাচক মানসিকতার শক্তির অনুপাত পরিমাপ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। গবেষণা করে প্রকাশ করেছেন ফলাফল।

চলুন তার গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল জেনে নেয়া যাক। এতে করে আপনি ইতিবাচক মানসিকতার ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

পৃথিবীতে প্রায় ৮৭% ভাগ মানুষই দুর্বল মানসিকতা সম্পন্ন, নেতিবাচক মানসিকতার। মানে হচ্ছে ১৩% ভাগ মানুষ শক্তিশালী মানসিকতা সম্পন্ন। মূলত এই ১৩% ভাগ মানুষই পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করে, প্রচন্ড প্রভাবিত করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। তো আসল সত্য এটাই যে, পৃথিবীতে বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের তুলনায় নির্বোধ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

আরও কিছু ফ্যাক্ট জানলে অবাক হবেন আপনারা। নিচে এসব তুলে ধরা হলো-

১। একজন ব্যক্তি যিনি নিজের মাঝে উচ্চ মানসিকতা ধারণ করেন এবং অতি জাজমেন্টাল হওয়া থেকে বিরত থাকেন, তার দ্বারা ৯০ হাজার লোকের নেতিবাচকতা হ্রাস পায়, যারা নিচু মানসিকতাকে ধারণ করে।

২। একজন ব্যক্তি, যিনি তার সমস্ত জীবন জুড়ে বিশুদ্ধ ভালোবাসাকে অবলম্বন করে কাটান, তার দ্বারা ৭ লক্ষ ৫০ হাজার লোকের নেতিবাচক মনোভাবকে প্রতিরোধ করা হয় গড়পড়তা।

৩। এমন একজন ব্যক্তি, যিনি চিরস্থায়ী, স্বর্গীয় শান্তি এবং অশুভ শক্তি নির্মূলে কাজ করেন, তার দ্বারা গড়ে ১০ মিলিয়ন লোকের নেতিবাচক প্রভাব নির্মূল হয়। (বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ২২ জন এমন ব্যক্তি জীবিত আছেন বর্তমানে)

৪। এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সর্বশক্তিমানের ওপর বিশ্বাস করে দেহের মাঝে বিশুদ্ধ আত্মা ধারণ করেন, একাত্ম হয়ে মানবকল্যাণে কাজ করেন, তার সাহায্যে ৭০ মিলিয়ন লোকের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পায়। (আনুমানিক এমন লোক এই মুহূর্তে ১০ জন আছেন পৃথিবীতে)

নিচে ডক্টর হকিন্সের আরো দুটি পরিসংখ্যান দেয়া হলো, যেগুলো তিনি মানব আচরণ নিয়ে নিজের ২৯ বছরের গবেষণার আলোকে তৈরি করেছেন-

১। একজন ধর্মাবতার, যিনি নিজের মাঝে সর্বোচ্চ গুণাবলী ধারণ করেন, যেমন- ভগবান কৃষ্ণ, ভগবান বুদ্ধ, যীশু খ্রিস্ট এবং নবী মুহাম্মদ (সঃ) এমন লোকেদের মাঝে পুরো মানবজাতির সমস্ত নেতিবাচকতা দূর করার মত যোগ্যতা বিদ্যমান থাকবে।

২। সমস্ত মানবজাতির নেতিবাচকতা নিশ্চিতভাবেই দূর হয়ে যেত, যদি উন্নত মানসিকতা নেতিবাচক মানসিকতার বিকল্প হিসেবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতো।

এই পরিসংখ্যান মানব আচরণের ওপর বহু বছরের গবেষণার ফলাফল। এতক্ষণে নিশ্চয়ই একজন মানুষের উচ্চ মানসিকতা ধারণ করার ওজন কল্পনা করতে পারছেন। আপনি একাই যদি নিজের মাঝে এমন চিন্তাভাবনার সঞ্চার করেন, তাহলে আপনার দ্বারা বিশ্বের বুকে বসবাসরত ৯০ হাজার লোকের নেতিবাচক মনোভাব হ্রাস পেতে থাকবে চক্রাকারভাবে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেদের মাঝে নিচুস্তরের শক্তি হিংসা, বিদ্বেষ, রাগ, হতাশা ইত্যাদি লালন করে।

উদাহরণ হিসেবে, ১৯৬০ সালে জন এফ কেনেডি কর্তৃক কিউবান মিসাইল ক্রাইসিসের কথাটা না উল্লেখ করে পারছি না। প্রেসিডেন্ট কেনেডি তার আশেপাশে অনেক যুদ্ধবাজ উপদেষ্টা দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন। কিন্তু নিজের উচ্চতর মানসিকতা এবং বেশকিছু বিশুদ্ধ মনের সহকর্মীর পরামর্শের ফলে তিনি যুদ্ধ থেকে বিরত থাকেন। তাহলে বুঝতে পারছেন? একজন মানুষের উচ্চ মানসিকতা এমনকি সম্ভাব্য একটা যুদ্ধ থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে। এটাই হচ্ছে জীবনের দুর্দান্ত এক সত্য।

জরুরী তথ্য সংগ্রহঃ ডক্টর হকিন’স বুক

ত্বাইরান আবির
লেখক, অনুবাদক, কনটেন্ট রাইটার


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *