যেভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবেন

আপনারা প্রত্যেকে নিশ্চয়ই জীবন পথে এগিয়ে যেতে চান। সবাই চান সফল হতে। মানুষ মাত্রই চায় সমৃদ্ধ জীবন নিয়ে বাঁচতে। কখনো তারা পারে, কখনো পারে না।

কেউ কেউ সমৃদ্ধ জীবন গড়তে সফল হয়। কেউ আবার সফল হয় না। এভাবেই চলতে থাকে পৃথিবী। যাহোক, সমৃদ্ধ জীবন আপনাআপনিই গড়ে ওঠে না। জীবনকে সমৃদ্ধশালী করে তুলতে হয়।

আর জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একসময় এটাই আপনাদেরকে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে তুলতে সাহায্য করবে।

চলুন তাহলে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জরুরী কিছু ব্যাপার জেনে নেয়া যাক। যে বিষয়গুলো আপনাকে নিয়ন্ত্রিত হতে সাহায্য করে, নিচে তেমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো।

১। সহসাই ক্ষুব্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। সবসময় ঝামেলায় জড়াবেন না। কখনো কখনো ঝামেলা এড়িয়ে চলাটাও আপনাকে সুবিধা দিতে সক্ষম। তাই অযথা কারণে কারো ওপর চড়াও হবেন না।

২। সবসময় জয়ের চিন্তা বাদ দিন। সবসময় আপনি জিততে পারবেন না, জেতার প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো হেরে গিয়েও মানুষ জিতে যায়। নিজের লক্ষ্যের ওপর অটল থাকুন। ধৈর্য্য ধরুন। সুনিশ্চিত বড়সড় বিজয় হয়তো আপনার সামনে অপেক্ষা করছে।

৩। সবসময় নিজেকে সঠিক মনে করা বাদ দিন। কোন কোন দৃষ্টিকোণ থেকে আপনিও ভুল হতে পারেন। তাই সুনির্দিষ্ট কোন সমস্যায় কখনো কখনো মানুষের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দিন। ফলাফল দেখতে থাকুন। দেখবেন, তারা ভুল হয়ে থাকলে আপনার মর্যাদা একদিন নিশ্চিত বুঝতে পারবে।

৪। নিজেকেই পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ ভাববেন না। কখনো কখনো আপনিও ভুল করেন। আপনি আপনার জায়গায় নিজের মতো করে সঠিক। অন্তত মানুষের কাছে আপনি পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ নন (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ ঈর্ষার জন্য হলেও আপনাকে বিশুদ্ধ ভাবে না)। তাই তর্ক না জুড়ে নিজের মতো করে বাঁচুন। অন্তত সুখী হতে পারবেন।

৫। অল্পেই তুষ্ট থাকুন। আপনার মাঝে সন্তুষ্টি যত বেশি থাকবে, আপনি তত বেশি সুখী হবেন।

৬। অর্জন দিয়ে নিজেকে যাচাই করা থেকে বিরত থাকুন। নিজের অর্জনের জন্য কখনোই অহংকার করবেন না।

৭। নিজের মর্যাদা নিয়ে গৌরব থেকে বিরত থাকুন। অহংকার, গর্বের অতিরঞ্জন আপনাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সুতরাং, সাবধান!

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনার সমৃদ্ধি অর্জনে এসব ভূমিকা পালন করবেই। তাই ওপরের পরামর্শ মেনে চলুন।

লেখকঃ ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *