এক ছোট্ট শিশুর উদারতার গল্প

আজ এক ছোট্ট বালকের গল্প বলছি। সে ছিলো ছোট্ট এক লাজুক ছেলে। গ্রেড ওয়ানের ক্লাসে তার বেশি পরিচিতি ছিলো না। তবে দিনকাল ভালোই চলছিলো তার। চলতে চলতে একসময় ভ্যালেন্টাইন ডে এসে গেলো। ভ্যালেন্টাইন ডে’র পূর্বে একদিন ছেলেটির মা অবাক হয়ে গেলো, যখন সে দেখলো এক সন্ধ্যায় তার ছোট্ট ছেলে ক্লাসের সবার সাথে ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপনের জন্য সকলের নামগুলো মনে করে খাতায় লিখছে।

খুশি হয়ে সে নিজেও ছেলেকে সাহায্য করতে লাগলো। ছেলেটি উচ্চস্বরে একেকজনের নাম মনে করছিলো, তার মা খাতায় তুলে রাখছিলো সেসব নাম। ছোট্ট ছেলেটি এটা ভেবে ভয় পাচ্ছিল যে কারো নাম মনে করতে ভুলে যাচ্ছে কিনা।

এভাবে সবগুলো নাম লিপিবদ্ধ করা শেষ হলে শিশুটির মা ওটার একটা কপি তৈরি করলো সুন্দরভাবে কাগজে সাজিয়ে। সুন্দর কাজটি সমাপ্ত হবার পর ভ্যালেন্টাইন ডে’র দিন যত ঘনিয়ে আসতে লাগলো, তাদের সন্তুষ্টি তত বাড়তে লাগলো।

একদিন বিকেলের কথা। ছেলেটির মা চিন্তা করছিলো যে তার ছোট্ট ছেলের জন্য কেউ হয়তো সুন্দর কোনো চমক দেবার ব্যবস্থা করে রেখেছে। একইভাবে সবাইকে চমকে দেয়ার জন্য তারা মা ও ছেলে দুজন মিলে সাইত্রিশটি টোকেন তৈরি করলো। কেমন দুঃখের বিষয় হবে যদি ভালোবেসে তৈরি করা সাইত্রিশটি টোকেন সবাইকে দেবার পর একজনও তার ছোট্ট ছেলেটিকে কোনো সারপ্রাইজিং কিছু না দেয়? এটা ভেবে ছেলেটির মায়ের খুব খারাপ লাগলো।

ঐ মা আশা করছিলো অন্তত অল্প সংখ্যক বাচ্চার কাছ থেকে কিছু যেন পায় তার ছেলে। অবশ্য ছোট্ট শিশুটির মনে এসব নিয়ে কোন চিন্তা ছিলো না। ক্লাসের বন্ধুদের জন্য নিতান্তই ভালোবেসে টোকেন বানিয়েছিলো সে। তাই সে ছিলো খুব খুশি। অবশেষে নির্দিষ্ট দিন আসলো।

ভ্যালেন্টাইন ডে’র দিনে ঐ মা তার ছেলেকে তৈরি প্রস্তুত করলো স্কুলে যাওয়ার জন্য। ছোট্ট শিশুটি কাঁধে ব্যাগ আর হাতে একটি শপিং ব্যাগ নিয়ে তুষার ভরা রাস্তা ধরে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো। জানালার ধারে দাঁড়িয়ে মা এই দৃশ্য দেখলো। অতঃপর ছেলেটি আড়াল হবার পর সে প্রার্থনা করলো- ‘হে ঈশ্বর, আমার ছেলে যেন বন্ধুদের কাছ থেকে অন্তত কিছু টোকেনও পায়। এতে করে সে কষ্ট পাবে না।’

ঐদিন পুরোটা বিকেল খুব ব্যস্ততায় কেটে গেলো ছেলেটির মায়ের। কিন্তু সারাক্ষণ তার মনোযোগ ছিলো স্কুলে ছেলের কাছে। কাজ সেরে সাড়ে তিনটার দিকে যেইমাত্র সে জানালার কাছে আসলো, অমনি তার ছেলেকে হেঁটে বাড়ির দিকে আসতে দেখলো সে, একাকী। কাঁধে নিজের ব্যাগ। আর কিছু নেই।

এটা দেখে তার মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠলো। ছেলের দিকে এগিয়ে গেলো সে। নিজের মুখে হাসি এনে বেদনা আড়াল করে বললো- ‘সোনামণি আমার, দাঁড়াও তোমার স্কার্ফ খুলে দিচ্ছি। ব্যাগটা আমাকে দাও।’ ছেলেটি ব্যাগটা তার মার কাছে দিলো। মা পুনরায় জিজ্ঞেস করলো- ‘আজ বিস্কুট খেয়েছো? কেমন ছিলো কুকিজগুলো?’ তৎক্ষণাৎ ছেলেটি হাসিখুশি চেহারায় তার মায়ের দিকে তাকালো। বললো- ‘মা, তুমি জানো আজকে কী হয়েছে? আমি কারো নামই ভুলে যাইনি। একটাও না! সবাইকেই টোকেন উপহার দিয়েছি।’

মোরাল অব দ্য স্টোরি- কারো প্রতি কোন প্রত্যাশা না রেখেই মানুষকে ভালোবাসুন।
স্টোরি কালেকশন- ওয়েন ডায়ার মোটিভেশান

পুনঃলিখনঃ ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *