যে পাঁচটি বিষয় আপনাকে সফল হতে সাহায্য করতে সক্ষম

সফলতা একটি জার্নি। এটি কোন গন্তব্য নয়। এমন কথা অনেকেই বলে থাকে। কথাটি এক অর্থে সত্য। ভালো কাজের যেমন শেষ নেই, সফলতারও কোন স্তর নেই।

আপনি যত বেশি কাজ করতে পারবেন নিজের সেক্টরে, তত বেশি সফল আপনি, তত বিশাল আপনার অভিজ্ঞতার হার। সফলতার ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করতে থাকে আপনার জীবনের সমৃদ্ধির গ্রাফ।

কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোন কাজ পাওয়াটা আপনাদের জন্য গন্তব্য হিসেবেই পরিগণিত হয়। ধরা যাক, আপনি অধ্যাপক হতে চান। এক্ষেত্রে অধ্যাপক পদটি হচ্ছে আপনার গন্তব্য। সফলতার গন্তব্য। অধ্যাপক পদ পর্যন্ত পৌঁছাতেই হবে আপনাকে। নয়তো আপনি অধ্যাপক হিসেবে পরিগণিত হবেন না।

অধ্যাপক হওয়ার পর আপনি যত বেশি নিজের বিদ্যা মানুষকে দিতে পারবেন, যত বেশি গবেষণা করতে পারবেন, আপনার সফলতার পাল্লা তত ভারী হবে একজন অধ্যাপক হিসেবে। অধ্যাপক হওয়ার পর ‘অধ্যাপক হিসেবে’ তখন সেটা হয়ে উঠবে আপনার সফলতার জার্নি।

আপনি যত বেশি কার্যকরী জার্নি করতে পারবেন, আপনার জন্য তত বেশি উত্তম ফলাফল চলে আসবে। কিন্তু অধ্যাপকের দায়িত্ব পাওয়া পর্যন্ত আপনি যা করবেন, সেটা ‘অধ্যাপক’ নামক গন্তব্য সেট করার মাধ্যমেই করবেন। যে কেউ চাইলেই অধ্যাপক হতে পারবেন না।

সুতরাং, সফলতা এক অর্থে যেমন একটি জার্নি। আরেক অর্থে এর রয়েছে সুনির্দিষ্ট গন্তব্য। যাহোক, সহজ অর্থে আমি অধ্যাপনার উদাহরণ ব্যবহার করলাম। তো গন্তব্য যা ই হোক, সেখানে পৌঁছাতে গেলে আপনাদেরকে কী করতে হবে? এমন প্রশ্ন সবার মনে জাগতেই পারে।

আমি আপনাদেরকে এ ব্যাপারে বেশকিছু বিষয় জানাতে চাই। মানুষের সফলতার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য কাজের পরিধি বিস্তর। সেখান থেকেই পাঁচটি বিষয় আমি আপনাদেরকে জানাতে চাই, যা আপনাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

প্রথমত, নিজের আকাঙ্ক্ষাকে বুঝে নিন। আপনি কী ভালোবাসেন, কী হতে চান, কোন কাজ ভালো লাগে এসব জেনে নেয়া জরুরী। ভুল পথে হাঁটার পূর্বে এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন।

দ্বিতীয়ত, সফলতা পাবার পরের সময় নিয়ে চিন্তা করুন। এতে করে আপনার মনে নিজের গন্তব্য নিয়ে ভালো লাগা সৃষ্টি হবে। আপনি অনুপ্রেরণা পাবেন।

তৃতীয়ত, অদম্য মানসিকতার চর্চা করুন। ‘আমি করেই ছাড়বো’ মনের মাঝে এমন মানসিকতা বজায় রাখুন।

চতুর্থত, এমন সব কথাবার্তা, যা আপনাদেরকে অনুপ্রেরণা দিতে সক্ষম, সেসব লিখে আপনার আশেপাশে সেঁটে দিন। এটা হতে পারে বিভিন্ন উক্তি কিংবা কোন অনুপ্রেরণামূলক পত্র।

পঞ্চমত, সবসময় সৃষ্টিকর্তার প্রাচুর্যের বিষয়টি মাথায় রাখুন। সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই পরিশ্রমীকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন। তাই হতাশ হবেন না। আপনার জন্যেও নির্ধারিত রয়েছে, যা আপনাকে দেয়া হবে। অন্তরে এই দৃঢ়বিশ্বাস রেখে কাজ করে যান।

এই পাঁচটি বিষয় আপনাদেরকে সফলতার গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে সক্ষম। আপনারা যদি এসবের চর্চা নিজ জীবনে করতে পারেন, তাহলে নিজেকে সফল ব্যক্তি হিসেবেই একসময় দেখতে পাবেন, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তাই সময়কে গুরুত্ব দিন। এখন থেকেই ওপরের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করুন।

লেখকঃ ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *