মিডিয়া যেভাবে ভয়ংকর হয়ে ওঠে

বর্তমান সময়ে মিডিয়া আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। আমাদের জীবনকে প্রভাবিত এবং নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে মিডিয়া মূখ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে মিডিয়া।

মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বলুন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া বলুন, সবকিছুই আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে চলেছে দিনের পর দিন। এসব মিডিয়ায় প্রচার হতে থাকা বিষয়বস্তু আমাদের মানসিকতাকে বদলে দিচ্ছে।

কখনো আমরা হতাশ হয়ে যাচ্ছি, কখনো আবার জীবনের মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে বসছি মিডিয়ার ফাঁদে পড়ে। এ যেন এক মোহ, যা আমাদেরকে নিঃস্ব করে তুলেছে দিনের পর দিন।

মিডিয়ার ইতিবাচক দিক অবশ্যই রয়েছে। সেসব নিয়ে কারো কোন আপত্তি নেই। তবে ইতিবাচক দিকের চেয়ে নেতিবাচক দিকই বর্তমান সময়ে বেশি প্রভাবিত করছে আমাদেরকে।

মেইনস্ট্রিম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসা নেতিবাচক কনটেন্ট, ভায়োলেন্স আমাদের মেজাজকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। আপনি যত বেশি মিডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে থাকবেন, ততই নিজের বাস্তবিক জীবন থেকে দূরে সরে যাবেন। আচরণ বদলে যাবে আপনার।

এসব থেকে বেঁচে থাকার জন্য ও নিজেকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য সবসময়ই নেতিবাচক সব কনটেন্ট দেখা হতে বিরত থাকুন। নেতিবাচক কনটেন্ট শেয়ার থেকে বিরত থাকুন। টেলিভিশনে ইতিবাচক প্রোগ্রাম দেখুন। এমন কিছু দেখুন যা পরিবার ও শিশুদেরকে নিয়ে একসাথে দেখা সম্ভব।

মূলধারার মিডিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল নিয়ে আমেরিকান লেখক ওয়েন ডব্লিউ ডায়ার তার পর্যবেক্ষণ শেয়ার করেছিলেন, যা ছিলো মারাত্মক। এমন কিছু প্রোগ্রাম সম্পর্কে তিনি কথা বলেছিলেন, যেসব প্রোগ্রাম আমাদের দেশেও তৈরি করা হয়।

আরো সহজ করে বলতে গেলে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ওয়েন ডায়ারের কথাগুলো প্রযোজ্য। এমনকি তিনি টেলিভিশন দেখার হার নিয়েও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও এই হার আমেরিকার অবস্থারই প্রকাশ করে, তবুও আমাদের দেশেও এমন অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। ওয়েন ডায়ার বলেছিলেন-

“আমেরিকার প্রত্যেকটি শিশু তাদের চৌদ্দতম জন্মদিন পূর্ণ হবার আগেই টিভিতে গড়ে ১২ হাজার কাল্পনিক খুন দেখে বড় হয় তাদের লিভিংরুমে বসেই! ভাবতে পারেন বিষয়টা? ব্যবসায়িক চ্যানেলগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের ঘরে সহজেই নেতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে আসছে, যা আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে প্রতিনিয়ত। স্ক্রিনে দেখানো সেসব ভায়োলেন্স, বাজে দৃশ্য সবার মস্তিষ্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবস্থান করে প্রত্যেককেই নেতিবাচক মানসিকতার দিকে ধাবিত করছে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, এই চ্যানেলগুলোর অধিকাংশই নেতিবাচক জিনিসপত্র প্রচার করে থাকে। হাতে গোনা দুই একটা চ্যানেল হয়তো তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, যারা ইতিবাচক কিছু টেলিকাস্ট করে। এজন্য আমি টিভি দেখার ক্ষেত্রে ছোটদের সীমাবদ্ধতা আনতে ও তাদেরকে পজেটিভ বিষয়বস্তু দৃষ্টিগোচর করানোর পক্ষে ছিলাম সবসময়ই। একই কারণে ব্যবসায়িক নয় এমন চ্যানেলগুলোর দিকে আমি সবাইকে ঝুঁকতে আহ্বান করেছিলাম নেতিবাচকতা, সংঘর্ষ, নৈরাশ্য, অসম্মান এসবের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য।”

আমাদের দেশেও টেলিভিশন, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমের মাধ্যমে ভায়োলেন্সের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ছে ছোট থেকে বড় সবার মাঝে। এটা মোটেই ভালো কোন বিষয় নয় আগামী প্রজন্মের জন্য। আমাদের সবার উচিত এই বিষয়ে সময় থাকতে সতর্ক হওয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি, টেলিভিশন আসক্তি থেকে প্রজন্মকে দূরে রাখা এবং নেতিবাচক সকল কনটেন্টকে নিরুৎসাহিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হই। গড়ে তুলি সুন্দর এক পরিবেশ, আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য।

লেখকঃ ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *