মানুষ যেখানে যায় না- এক দ্বিচারিতার গল্প

এ এক বাস্তব কাহিনীর প্রকাশ। ভালো মানুষের মুখোশে দ্বিচারিতার গল্পের প্রকাশ। ভন্ড মানুষের প্রকাশ। ‘মানুষ যেখানে যায় না’ বইটিতে লেখক মঈনুল আহসান সাবের কতিপয় মুখোশ পরিহিত মানুষের বর্ণনা দিয়েছেন। তুলে এনেছেন সমাজে ভালোর মুখোশ পরে ফায়দা লোটার অভ্যন্তরীণ কাহিনী।

প্রতিনিয়তই আমরা সমাজকে, মানুষকে দোষারোপ করি নানা সমস্যার জন্য এবং নিজেকে ভালো হিসেবে জাহির করি। কিন্তু নিজের জায়গায় আমরা কতটুকু সঠিক? কতটুকু সৎ আমরা বাস্তবিক অর্থে? এসব জানার চেষ্টা করেছি কখনো? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আদৌ নিজেকে বিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে দেখতে পেয়েছি? এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা হয় না। কিন্তু অপরের দোষ নিয়ে খুব আলোচনা চলে আমাদের।

‘মানুষ যেখানে যায় না’ বইটিতে এমন গল্পই তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন চরিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে। মাহবুব, তারেক, খালেদ, রফিক- এরা সবাই বন্ধু। একেকজন একেক দায়িত্বে আছে। দেশ নিয়ে তাদের অভিযোগের শেষ নেই। দেশটা এমন, দেশটা অমন, মানুষগুলো এই সেই ইত্যাদি বলে বেড়ায় তারা। তাদের স্ত্রীদেরও যথাক্রমে একই হাল। দেশ ও মানুষ নিয়ে কেউই সন্তুষ্ট নয়। তারা নিজেরাই ভালো, সবাই খারাপ, সবার জন্য তাদের অসুবিধা হচ্ছে জীবন চালাতে- এমন হাবভাব বলা চলে তাদের।

বাকি রইলো কেবল কবি। দেশ ও মানুষ নিয়ে তার তেমন অভিযোগ নেই। সে লেখে, খায়, ঘোরে। বাকি বন্ধুরাও তাকে টুকটাক বদনাম আগেপাছে করলেও, জরুরী কোন অভিযোগ পায় না তাকে নিয়ে বলার জন্য।

এভাবেই চলতে থাকে সব। তারেক রাজনীতিবিদ, মাহবুব সরকারি আমলা, রফিক ব্যবসায়ী, খালিদ বিজ্ঞানী। সবাই নিজেকে ভালো দাবী করে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। প্রত্যেকেই মানুষ ঠকিয়ে খাওয়ার বেলায় ওস্তাদ। একজন ঘুষ খায়, একজন কমিশন খায়, আরেকজন স্বার্থ বেঁচে খায়, অপরজন টাকার জন্য পরিবেশ নষ্ট করে খায়। অথচ দেশ ও মানুষের প্রতি তাদের অভিযোগের শেষ নেই!

এই ভন্ডামিই লেখক মঈনুল আহসান সাবের ফাঁস করেছেন তার লেখায়। মানুষ মূলত ভালো বিষয় চায় না। তারা নিজেরাই দূষিত। স্বার্থের জন্য সব করতে পারে মানুষ। গল্পের প্রতিটি চরিত্র নিজেকে মানুষের সেবক হিসেবে দাবী করলেও বস্তুত তারা নিজের স্বার্থ পূরণে মুখোশ পরে কাজ করে যায়। সর্বশেষ, আদর্শের বয়ানরত কবিকেও দেখা যায় জীবিকার জন্য পরনারীর দারস্থ হতে, যা কবি নিজেই মনে মনে ভাবছিলো।

এমন মুখোশধারীদের গল্প নিয়েই ‘মানুষ যেখানে যায় না’ বইটি লেখা হয়েছে। জটিল জগত সংসারের ধাঁধা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিশুদ্ধ উপাসনালয়ের দিকে। কিন্তু মানুষ কি আদৌ সেখানে পৌঁছাতে পারে? পারে না। মানুষের অশুদ্ধ হৃদয়ে উপাসনালয়ের ঠাঁই নেই। তাই মানুষ সেখানে যায় না, যেতে চায় না।

এই ছিলো গল্পের মূলভাব। লেখার ধরণ সম্পর্কে এবার কিছু বলা যাক। মঈনুল আহসান সাবের বড় মাপের একজন লেখক। সরল ও সাবলীল ধাঁচের লেখা তার এবং সুখপাঠ্য। ছোট ছোট বাক্যের বিন্যাসে গল্পকে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন। সহজ করে মানুষকে বুঝিয়েছেন জীবনের গোলযোগ। সবমিলিয়ে বেশ ভালো একটি বই ছিলো ‘মানুষ যেখানে যায় না’। সবাই পড়তে পারেন। হ্যাপি রিডিং।

বইঃ মানুষ যেখানে যায় না
লেখকঃ মঈনুল আহসান সাবের
বইয়ের ধরণঃ উপন্যাস
প্রকাশনীঃ প্রজন্ম পাবলিকেশন
যেখানে বইটি পাবেনঃ রকমারি ডট কম, প্রজন্ম ডট পাব বুকশপ থেকে অনলাইনে অর্ডার করা যাবে এবং প্রজন্ম পাবলিকেশনের বাংলাবাজারের অফিস থেকে সরাসরি বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *