নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন

আজকে আমি আপনাদেরকে একটি গল্প জানাবো। গল্পটি নিখাদ কাল্পনিক নয়, বরং বাস্তব। এক বাবা ও তার মেয়ের গল্প। একবার মেয়েটি যখন তার বাবাকে নিজের জন্য উপযুক্ত কাজ খুঁজে পাওয়ার ব্যর্থতার কথা জানিয়েছিলো, ঐ বাবা তখন তার মেয়েকে নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে নিজের কাজ খুঁজে নিতে বলেছিলেন। তিনি এটাও জানিয়েছিলেন, মানুষ কেবল চেষ্টা করতে জানে। ফলাফল ওপর থেকে নির্ধারিত হয়। কেউ যখন খুব করে নিজের কাজে অটল থাকে, সাফল্য তখন তার জন্য সুনিশ্চিত।

এমন কি কখনো হয়েছে, যখন আপনি নিজের আকাঙ্ক্ষিত কাজ বা অবস্থান পেতে ব্যর্থ হয়েছেন? এসব নিয়ে কখনো হতাশ হয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই ‘হ্যা’ আসবে। যাপিত জীবনে বহু মানুষই নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে গিয়ে হতাশ হয়ে থাকে। একই দশা হয়েছিলো ঐ মেয়ের। কিন্তু তার বাবা তাকে কী পরামর্শ দিয়েছিলো? চলুন জেনে নেয়া যাক সেই কথা।

“একবার আমার ঊনিশ বছর বয়সী মেয়ে সমার ফোন করে আমাকে বললো যে, সে তার রেস্টুরেন্টের চাকরি নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম- ‘কোন কাজ তাকে সন্তুষ্ট এবং সুখী করতে পারবে?’ জবাবে সে বললো- ‘ছোট্ট শিশুদেরকে ঘোড়ায় চড়াতে শেখানো তার খুব ভালো লাগে। কিন্তু পুরোনো সেই পেশায় সে আর ফিরতে চায় না। কারণ তার প্রতি তখন অনাচার করা হত এবং বেশি পরিশ্রম করিয়ে তাকে ন্যায্য বেতন পরিশোধ করা হতো না।’

আমি তখন তাকে বললাম- ‘তোমার আকাঙ্ক্ষা পূরণে যেকোনো সাহায্য পাবার আশায় চোখ কান খোলা রাখো। নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর বিশ্বাস করো। পৃথিবীতে তোমার নিজের জন্য সাহায্য বিদ্যমান রয়েছে অবশ্যই। সবসময়ই সতর্ক থাকো এবং যে কারো কাছ থেকে আসা ভালো পরামর্শকে গ্রহণ করে নাও।’

পরেরদিন হঠাৎ-ই আমার ফোন বেজে উঠলো। দেখলাম সমার কল করেছে। আমি ফোন তুলতেই তার উচ্ছ্বসিত গলা শুনতে পেলাম। ‘বাবা, তোমার কি কথাটা বিশ্বাস হবে!’ বললো সে। পরক্ষণেই চুপচাপ। ফের বললো- ‘নিশ্চয়ই তুমি এটা বিশ্বাস করবে। বাবা, মনে আছে গতকাল তুমি আমাকে কীভাবে নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর অটল থাকতে বলেছিলে?’ সমারের কথা শুনে আমি চিন্তাভাবনা করতে লাগলাম। সময় নিলাম কিছু বলার জন্য।

কিন্তু তার আগেই ওপাশ থেকে সে বললো- ‘আমি ভেবেছিলাম কি না কি বললো বাবা, এসব পরামর্শ মেনে কি আর কাজ হয়? ধ্যাৎ! কিন্তু পরক্ষণেই আমি ভাবলাম চেষ্টা তো করাই যায়। এরপর একটা টেলিফোন পোলে আমি একটা নাম্বার দেখতে পেলাম। ওপরে লেখা ‘হর্সরাইডিং লেসন’। আমি নাম্বারটি লিখে নিলাম। বাসায় ফিরে কল করতেই একজন মহিলা ফোন ধরলেন। তিনি জানালেন- তার একজন বিশ্বস্ত লোক দরকার, যে তার সন্তানদেরকে ঘোড়ায় চড়া শেখাতে পারবে। রেস্টুরেন্টে আমি যতটা আয় করতাম তার চাইতে দ্বিগুণ অর্থ দেবার প্রস্তাব করলেন ঐ মহিলা। আমি আগামীকাল সেই মহিলার সাথে দেখা করতে যাবো। খুব খুশির খবর না বাবা?!’

সমারের এই কথা শোনার পর খুশিতে আমার মন ভরে উঠলো। সমারকে আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করতে বলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সে সফল হয়েছিলো। সমার নিজেকে বিশ্বাস করেছিলো, নিজের কাজ খুঁজেছিলো, পরিশেষে তাকে খোদ ভাগ্য উজাড় করে সমৃদ্ধি দান করেছিলো।”

নিজের কাজের ওপর অটল থাকা, কাজ অন্বেষণ করা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা যে একজন মানুষকে সফলতা এনে দিতে পারে, ওপরের ঘটনাই তার প্রমাণ। আপনারাও নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করে যান, কাজের অন্বেষণ করুন। একদিন ঠিক নিজের অবস্থান তৈরি হয়ে যাবে।

লেখক- ত্বাইরান আবির

স্টোরি- কন্যা সমারের সাথে বাবা ওয়েন ডব্লিউ ডায়ারের কথোপকথন থেকে।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *