সবসময়ই নিজেকে ভালোবাসুন

বিশ্ব জয় করতে চান? নিজেকে ভালোবাসুন। নিজেকে স্মরণীয় করে রাখতে চান? নিজেকে ভালোবাসুন। মানুষের জন্য কিছু করতে চান? নিজেকে ভালোবাসুন। নিজেকে যদি আপনি সত্যিই ভালোবাসেন, তাহলে মানুষকে ভালোবাসতে পারবেন।

নিজেকে ভালোবাসা মানে স্বার্থপর হওয়া নয়। নিজেকে ভালোবাসা মানে হচ্ছে বেশকিছু বিষয় নিজের মাঝে ধারণ করা, যা আপনার নিজের ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সহানুভূতি উভয়ই তৈরি করতে সাহায্য করবে।

নিজেকে ভালোবাসা মানে নিজেকে কর্মক্ষম করে তোলা, যাতে নিজের পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করা সম্ভব হয়। আপনি যদি নিজেকে ভালোবাসতে না পারেন, তাহলে কোনকিছুই করতে পারবেন না। নিজেকে সফল করে তুলতে না পারলে, মানুষকে সফলতায় সাহায্য করার মতো ব্যক্তিত্ব কখনোই হবেন না।

প্রশ্ন জাগতে পারে, কীভাবে নিজেকে ভালোবাসতে হবে? ঠিক কোন কোন কাজ করলে নিজেকে ভালোবাসার ব্যাপারটি নিশ্চিত হবে? চলুন এমন কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক।

১। অবসর সময়ে আয়নার দিকে তাকান। নিজের চোখের সাথে আয়নার প্রতিবিম্বের চোখের সাথে সংযোগ ঘটান এবং বলুন- আমি আমাকে ভালোবাসি। দেখবেন, এটা আপনাকে নিজের প্রতি যত্নবান হতে সাহায্য করবে, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।

২। ‘আমি সুন্দর এবং সামর্থ্যবান’ এই বাক্যটি আপনার আশেপাশেই কোন এক জায়গায় লিখে রাখুন। এমন জায়গায়, যেন আপনি সবসময় দেখতে পান। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে ও কাজে মগ্ন করতে বেশ কার্যকরী উপায় এটি।

৩। সকলকে সম্মান করুন, সকল জীবের প্রতি ভালোবাসায় পূর্ণ হাত বাড়িয়ে দিন। যত ভালোবাসা দেবেন আপনি, ততটাই ফিরে আসবে আপনার জন্য, এই কথা সবসময় মনে রাখবেন।

৪। সকল পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিন। জীবন যেভাবে আপনার সামনে হাজির হয়, গ্রহণ করে নিন। কোনরকম হীনমন্যতায় ভুগবেন না। ফাইট ইট এ্যাজ এ ওয়ার, প্লে ইট লাইক এ গেইম। ভবিষ্যত বদলাতে কাজ করুন নিশ্চিন্ত মনে।

৫। নিজেকে মনে করিয়ে দিন আপনি কখনো একা নন। মহাবিশ্বের ইতিবাচক শক্তি আপনার সাথে আছে, যদি আপনি অনুভব করতে পারেন। কাজেই, নিজেকে একাকী মনে করবেন না।

৬। নিজের দেহকে ভালোবাসুন। দেহের যত্ন নিন। দেহকে কেন্দ্র করেই আপনার সব পরিচালিত হয়। আপনার কথাবার্তা, নিজেকে উপস্থাপন করা, কাজ করা সবই দেহের ওপর নির্ভরশীল। অতএব, বি কেয়ারফুল!

৭। সৃষ্টিকর্তার সাথে সংযুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত প্রার্থণা করুন। মনে স্বস্তি পাবেন। ভালো লাগবে খুব। অন্যরকম শক্তি অনুভব করবেন নিজের মাঝে।

৮। প্রতিপক্ষের সাথে বিদ্বেষ মিটিয়ে নিন। এটা আপনাকে ভালো থাকতে ও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। সকলের সাহায্য পেতে সক্ষম হবেন আপনি যেকোন কাজে।

৯। আত্মসম্মানের কথা সবসময় স্মরণ রাখুন। কখনোই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেবেন না। জীবনে বেঁচে থাকতে হলে এটা বেশ জরুরী। আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়া মানুষের দিনশেষে কিছুই থাকে না।

১০। সবসময়ই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য পেলেও কৃতজ্ঞ হোন। এটা আপনার উন্নত মানসিকতার পরিচয় বহন করে। নিজের সকল অবস্থানের জন্য সন্তুষ্ট থাকুন। আপনি যত বেশি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে পারবেন, তত বেশি সাহায্য পাবেন বিপদের সময়ে।

ওপরের কাজগুলো করার মাধ্যমে আপনি নিজের প্রতি ভালোবাসা জারী রাখতে পারবেন, একইসাথে মানুষের জন্যেও। তাহলে আর দেরী কেন? এখনই নিজের মাঝে ধারণ করে নিন ওপরের বিষয়গুলো। জীবন সুন্দর হোক সবার। শুভকামনা।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *