ঠোলিপ্রেমা | মুভি রিয়েকশন

ভালোবাসার বিপরীতে ঘৃণা থাকে? অনেকেই বলবেন- অবশ্যই থাকে। আমি বলবো- ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসার ফলেই দু’জনের মাঝে মিশে থাকে কখনো জেদ, কখনো অভিমান। দিনশেষে ভালোবাসা জয় লাভ করে। কেননা, কতক্ষণই বা প্রিয় মানুষের সাথে অভিমান করে থাকা যায়?

প্রথমে ভালো লাগা, তারপর হুট করে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, তারপর ফের একে অপরকে খুঁজে পাওয়া। এভাবেই চলতে থাকে দু’জনের পথচলা। একটা সময় দু’জন দু’জনকে খুঁজে পাওয়া প্রেমের জালে, ভালোবাসার মাঝে। আদিত্য আর বর্ষার গল্পটি এমনই ছিলো।

কিন্তু একসময় ঠুনকো কারণে ভেঙে যায় তাদের ভালোবাসা, বেড়ে যায় দুরত্ব। একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আদিত্য ও বর্ষা। এসবের পেছনে অবশ্য বর্ষার দোষই ছিলো বলা চলে, যা আদিত্যের মনে প্রচুর কষ্ট দিয়েছিলো।

কলেজ ক্যাম্পাসে বর্ষাকে অপদস্ত করার সুযোগ নেয়া ছেলেটাকে শায়েস্তা করে বর্ষারই দেয়া স্বীকারোক্তিতে দোষ পুরোপুরি চাপে আদিত্যের ঘাড়ে। ফলে প্রচুর রাগ হয় আদিত্যের, প্রিয় মানুষের এমন কাজে হতবাক হয়ে যায় সে, তৈরি হয় প্রচন্ড অভিমান। নিজের এই অভিমান থেকেই বর্ষার কাছ থেকে দূরে সরে যায় আদিত্য।

এরপর বর্ষা কী করেছিলো? সে কী তার ভুলের ওপর অটল ছিলো? নাকি আদিত্যকে খুব করে খুঁজেছিলো? এসব জানা যাবে চলচ্চিত্রটিতে। ভালোবাসার মানুষের সাথে কতটুকুই বা অভিমান করা যায়? কতটুকু দূরে যাওয়া যায়? এসব প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।

শুরুতে ট্রেনে পরিচয়, তারপর হারিয়ে যাওয়া, আবার এক হওয়া, পুনরায় মান অভিমানে দূরে সরা এবং অবশেষে কর্মজীবনে ফের পারস্পরিক সাক্ষাৎ লাভ- এভাবে চলতে চলতে কোথায় গিয়ে থামবে আদিত্য ও বর্ষার প্রেম কাহিনী? জানতে হলে দেখতে হবে ‘ঠোলিপ্রেমা’।

সিনেমা সম্পর্কে বলতে চাই, সমাজের ধনী তরুণ তরুণীর প্রেম, ঠুনকো কারণে মান অভিমান, মানুষের বদলে যাওয়া, জেদ সবকিছুর দেখা পাবেন ঠোলিপ্রেমায়। এমন সিনেমাটিক কাহিনী বাস্তবে যদিও খুব কম ঘটে, তবুও বলবো ভালোবাসার কাহিনী হিসেবে দেখার মতই চলচ্চিত্রটি। তবে বেশ গতানুগতিক স্টোরিলাইন ছিলো। সময় কাটানোর জন্য ভালো। রাশি খান্নার সৌন্দর্য, বরণ তেজের স্মার্ট গেটআপ সবমিলিয়ে সবার অভিনয় ভালোই ছিলো। অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করেছে দেখার সময়।

যারা একটু প্রেম ভালোবাসার গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য চলচ্চিত্রটি সাজেশন হিসেবে রইলো। অন্তত দিনের শেষে নিজেই নিজেকে বলবেন-

‘ভালোবাসার মানুষের সাথে কতদিনই বা অভিমান করে থাকা যায়? মায়া জন্মালে সব সম্পর্কই একসময় জোড়া নেয়।’

হ্যাপি ওয়াচিং।

আইএমডিবি রেটিং- ৭.৩/১০
ব্যক্তিগত রেটিং- ৬/১০

© ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *