মনোবলেই হার মানে সকল প্রতিবন্ধকতা

আমরা যদি নিজেদের জীবনে খেয়াল করি, তাহলে প্রায় সবাই ই কোন না কোন সমস্যাকে সাথে নিয়ে পথ চলেছি। এমন মানুষ আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না, যার জীবনে কোন সমস্যা নেই। ধনী থেকে দরিদ্র, সুস্থ থেকে অসুস্থ সবার জীবনেই সমস্যা রয়েছে। তবে মানুষ ভেদে এসব সমস্যার ধরণ আলাদা হয়ে থাকে। ধনীদের সমস্যা একরকম, দরিদ্রের সমস্যা আরেকরকম। মানুষ যেমন পরস্পরের চেয়ে আলাদা, তেমনি সবার সমস্যাগুলোও আলাদা। তো আমাদের জীবনে কখনো কখনো এমন সময় অনেক আসে, যখন আমরা নিজেদের সমস্যাগুলোর কাছে হার মেনে যাই, ক্লান্ত হয়ে পড়ি। এভাবেই একটা সময় হতাশা গ্রাস করে আমাদেরকে।

এই জায়গা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। বুঝতে হবে সকল সমস্যারই শেষ রয়েছে এবং কোনকিছুই স্থায়ী নয়, যেমন স্থায়ী নন আপনি। আর আপনার সমস্যাগুলোও জটিল কিছু নয়, যদি আপনি ভেতর থেকে একে জটিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে না থাকেন। আপনি যদি সমস্যাকে গভীর ক্ষত মনে না করে সমাধানের দিকেই বেশি মনোযোগ দেন, সেটাই ভালো হবে আপনার জন্য। এটা করার মাধ্যমেই আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন। আর যদি সমস্যা নিয়েই হাহুতাশ করেন, তাহলে সময় নষ্ট হবে ঠিকই, কিন্তু কোন সমাধান আসবে না।

বিজ্ঞানী কেন্ট কুলারস ছিলেন এমন ইতিবাচক মানসিকতার লোক। তার নিজের মাঝে প্রতিবন্ধকতা ছিলো। কিন্তু সেই প্রতিবন্ধকতা তিনি বাঁধা মনে করতেন না। এমনকি তুড়ি মেরে নিজের সমস্যাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন। কেন্ট কুলারস এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল ইনটেলিজেন্স প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছিলেন। এই প্রকল্পের প্রধান ছিলেন ফিজিক্সে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী কেন্ট। লম্বা সময় ধরে তিনি কাজ করেছিলেন মহাবিশ্বে অন্য কোন প্রাণীর সন্ধান পাবার জন্য। আর এজন্য তিনি রেডিও সিগন্যালের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে নিয়োজিত ছিলেন।

সত্যি বলতে, কেন্ট কুলার্সকে শারীরিক কিছু সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে কাজ করতে হতো। তার একটি শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তবে তিনি সেটিকে ‘ঠুনকো যন্ত্রণা’ বলেই আখ্যায়িত করেন। আসলে তিনি বোঝাতে চান তার সেই সমস্যা সহ্য করার মতোই, তিনি সহ্য করতে সক্ষম। আপনাদের প্রশ্ন জাগতে পারে- কী তার শারীরিক সমস্যা? এটি কি সামান্য মাথাব্যথা? নাকি আরো জটিল কিছু। আপনি জেনে অবাক হবেন—কেন্ট কুলার্স একজন অন্ধ! একজন অন্ধ ব্যক্তি হয়ে নিজের এই সীমাবদ্ধতাকে কেবল ‘ঠুনকো’ বলে একটি মানুষ উড়িয়ে দিচ্ছে এটা আপনি বিশ্বাস করতে পারেন!? কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য কেন্ট এটাই করেছেন। কিন্তু কেন? এর উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যাবে তিনি নিজেকে শক্তিশালী রাখতে চাইছেন, নিজের সীমাবদ্ধতাকে কোনরূপ অগ্রাধিকার না দিয়ে।

এভাবেই তিনি নিজেকে সঠিক পথে পরিচালনার মধ্যে দিয়ে বড় কিছু অর্জন করতে চান। আপনারাও হয়তো নিজ জীবনে এমন নানা সমস্যার সাথে লড়াই করছেন, হতে পারে আপনার রয়েছে শারীরিক নানাবিধ সমস্যা। তবুও হতাশ হবেন না। এমতাবস্থায় কেন্ট কুলারসের কথা মনে করুন। নিজেকে বলুন- ‘এটা একদম ছোট্ট একটি সমস্যা।’ কেন্ট কুলারসের ঘটনা আপনার জীবনের জন্যই একটি শিক্ষা। অতএব, নিজেকে নিয়ে কখনোই হতাশ হবেন না।

 

লেখকঃ ত্বাইরান আবির (লেখক, অনুবাদক, কনটেন্ট রাইটার)


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *