সাহস যেভাবে সফলতা এনে দেয়

আপনারা হয়তো একটা বিষয় জানেন না অথবা খেয়াল করেন না, তা হচ্ছে- আপনি সফল হয়ে ওঠার পেছনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়। এটি একটি চেইন প্রসেস। আপনি দুনিয়াকে কীভাবে দেখেন, কীভাবে নিজের কাজ করেন, মানুষকে কীভাবে বিশ্লেষণ করেন, কীভাবে নিজের কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করেন- এসব আপনার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এই সমস্ত কাজ চেইন প্রসেস মেনে চলে। আপনি একটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখলেন, কিন্তু অন্যটিতে রাখলেন না, এমন হলে আপনার পক্ষে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। আপনাকে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই চেইন প্রসেস ফলো করার পরামর্শ দিচ্ছি। আপনি কী কথা বলেন, কীভাবে বলেন, কী কাজ করেন, কীভাবে করেন, আপনার ব্যক্তিত্ব কেমন, নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করেন মানুষের সামনে- এগুলোর দিকে অনুগ্রহ করে খেয়াল রাখবেন। এতে করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

মোটিভেশনাল রাইটার জেফ কেলার এই বিষয়গুলো বেশ লক্ষ্য করতেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ের মাধ্যমে সফলতা আনতে পেরেছিলেন তিনি। একসময় তিনি হয়ে উঠেছিলেন রিয়েল এস্টেটের কর্ণধার। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিলো, কীভাবে তিনি নিজেকে এত ওপরে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেন? তখন তিনি নিচের পুরো গল্পটিই জানিয়েছিলেন নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে। চলুন সেসব জেনে নেয়া যাক।

“১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত আমি আমার এরিয়ার বহু সফল মানুষদেরকে পর্যবেক্ষণ করেছি, যারা হােম ইনভেস্টমেন্ট ব্যবসা করে ব্যাপক অর্থ আয় করেছিলো। তাদের নির্মিত বাড়িগুলাে ছিলো চমৎকার এবং বছরের পর বছর সেগুলাের চাহিদা বেড়েই যাচ্ছিলাে। অবশ্যই, ভাড়াটিয়া নিয়ে কিছু কিছু মাথা ব্যথার কারণ তাে ছিলোই। কিন্তু দিনশেষে বিনিয়ােগকারীরা ভালােই রিটার্ন পাচ্ছিলাে তাদের বিনিয়ােগকৃত উৎস থেকে। বিষয়টি আমার খুবই ভালাে লাগলাে। তাই একসময় আমি নিজেও হােম ইনভেস্টমেন্ট খাতে বিনিয়ােগ করতে চাইলাম। কিন্তু সাহস পেলাম না। এর আগে আমি কখনােই এমন কোন পদক্ষেপ নেইনি। কারণ, সবসময়ই মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করতাে। এ বিষয়ে আমার চিন্তা ছিল নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ।

আমার কাছে মনে হতাে—আমার সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। বাজে চিন্তা দিয়ে আমার মন ভরে গিয়েছিলো। ফলে আমি প্রতিনিয়তই ভাবতাম, আমি কি বিনিয়ােগের ব্যাপারে প্রথম পদক্ষেপ নেবাে নাকি নেবাে না? যাইহােক, নিজের মানসিকতা উন্নয়ন ও নেতিবাচক চিন্তা থেকে রেহাই পাবার জন্য আমি নিয়মিত বই পড়তে শুরু করলাম। এরপরই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে চেষ্টা করলাম রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিয়ে। ১৯৮৬ সালের শেষদিকে এসে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম উক্ত ব্যবসায় বিনিয়ােগ করার জন্য। এবার আমি নিজেকে নেতিবাচক চিন্তা থেকে একেবারেই দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম ।

তারপর থেকে নিজের এই একটা লক্ষ্যের দিকেই ধাবিত হলাম। এটার প্রতি লক্ষ্যস্থির করে কাজ করতে লাগলাম। তখন আমি দিনে কয়েকবার নিজের লক্ষ্যগুলাে খাতায় লিখতাম এবং পরবর্তীতে বারবার সেগুলাে দেখতাম। এছাড়াও ছুটির দিনের সন্ধ্যায় সময় পেলেই রিয়েল স্টেইট এজেন্টদের কাছে ছুটে যেতাম। এই ব্যবসা সম্পর্কে যাচাই করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি একশােরও বেশি বাড়ি পরিদর্শন করেছি এবং আরাে একশােরও বেশি বাড়ি সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছি। অবশেষে ১৯৮৬ সালের শেষদিকে এসে আমি একটি ইনভেস্টমেন্ট প্রােপার্টি অর্জন করতে সক্ষম হই।

আমার তখন বর্ণনাতীত খুশি লাগছিল এটা ভেবে যে আমি এমন কিছু করেছি, যা পূর্বে আমার ছিলো না। বিষয়টা সত্যিই খুব উত্তেজনার। তবে তখনও আমার আরাে কাজ করা বাকি ছিলো। ওই বছরেরই ডিসেম্বর মাসের ২৯ তারিখ, বছর শেষ হবার ঠিক দুইদিন আগে আমি আরেকটি বাড়িতে ইনভেস্ট করে নিজের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে যাই । ১৯৮৬ সালে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়ােগ করা এবং তার পূর্বে কেন পারিনি এসবের উত্তর আজ পুরােপুরি স্পষ্ট আমার কাছে। ১৯৮৬ সালের সময়ে আমি নিজের ভেতর ইতিবাচক বিশ্বাস লালন করতাম যে আমি পারবােই। আর এটাই আমার মনের চালিকাশক্তি হয়ে আমাকে আমার গন্তব্যের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। এই অর্জন আমার জন্য দুর্দান্ত এক ব্যাপার ছিল। কারণ, এটা আমাকে শিখিয়েছিলো- মানুষ যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর লক্ষ্যস্থির করে কাজ করে যায়, তাহলে তার দ্বারা সেটা অর্জন সম্ভব।”

এই ছিলো লেখক জেফ কেলারের রিয়েল এস্টেট বিজনেসে সফল হওয়ার পেছনের গল্প। কী হতো যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচকই রয়ে যেতো? কী হতো যদি তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বয় করে ইতিবাচক করে না তুলতে পারতেন? তিনি নিশ্চয়ই ব্যবসায়ী হিসেবে সফল হতে পারতেন না। আপনি হয়তো বলবেন, টাকাই সফল হওয়ার পেছনে ভূমিকা পালন করেছিলো। জবাবে আমি বলবো- আপনার উত্তর ভুল। কেননা, টাকা থাকা সত্ত্বেও মোটামুটি বেশ কয়েক বছর বিনিয়োগ থেকে জেফ কেলার দূরে থেকেছিলেন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উদ্ভুত ভয়ের কারণে। আর এই ভয় মনে জাগিয়েই রাখলে টাকা থাকলেও সেসব তার কোন কাজে আসতো না। তিনি হতে পারতেন না- একজন রিয়েল এস্টেট বিজনেসম্যান।

লেখকঃ ত্বাইরান আবির (লেখক, অনুবাদক, কনটেন্ট রাইটার)


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *