যেভাবে নিজের কাজে আগ্রহ ধরে রাখবেন

মানুষের স্মৃতিশক্তি অনেক তথ্য একসাথে মস্তিষ্কে রাখতে পারে না। এসবের ফলে মস্তিষ্কে জ্যাম তৈরি হয়। আপনি চাইলেও একাধিক তথ্য মনে রাখতে পারবেন না। এটা আমাদের মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতার কারণে হয়ে থাকে। ব্রেইন গেইমে বিশ্ব জয় করা ব্যক্তিরা তাই বেশকিছু সিস্টেম ব্যবহার করে তথ্য মনে রাখে। এজন্যই তারা বহু তথ্য স্মৃতিতে ধারণ করতে পারে।

আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন সুনির্দিষ্ট কোন বিষয় আপনার মস্তিষ্কে একটা সময় আর থাকে না, আপনি সেসব ভুলে যান। আর এই ভুলে যাওয়াটা আপনাকে সফল হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে দিতে পারে। যেমন, একটি ভালো কাজ আপনি করতে চান কিংবা ভালো কাজের অভ্যাস ধরে রাখতে চান। কিন্তু দেখা গেলো বেশকিছু দিন সেসব করার পর আপনার আর ভালো লাগছে না, অথবা আপনি সব ভুলে গেছেন। ফলে ঐসব কাজ নিয়ে আপনার আগ্রহ হারিয়ে যায়।

সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়ে আগ্রহ হারানোটা কখনোই ভালো ব্যাপার নয়। আপনাকে অবশ্যই আগ্রহ ধরে রাখতে হবে। আগ্রহ কীভাবে ধরে রাখা যায় কোন কাজে? এই প্রশ্ন আপনাদের মনে জাগতে পারে। আমি মূলত এই প্রশ্নটিরই উত্তর দিতে চাই। কাজে আগ্রহ না পেলে, কোনকিছু ভুলে গেলে, সেই কাজে কখনোই আপনি সফল হতে পারবেন না। ভুলে যাওয়াটা তাও একটু কম জটিল সুনির্দিষ্ট কোন কাজে নিজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার চেয়ে। কেননা, যেকোন কাজ ভুলে গেলে আপনি পরবর্তীতে মনে করে আবার শুরু করতে সক্ষম। কিন্তু কাজের প্রতি আগ্রহ হারালে সেই কাজ করার মানসিকতাই শেষ হয়ে যায়।

কীভাবে তাহলে আগ্রহ ধরে রাখবেন? এক কথায় উত্তর হচ্ছে- পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমে। যেকোন কাজে আগ্রহ ধরে রাখার উপায় হচ্ছে উক্ত কাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন ইতিবাচক চিন্তার প্রাকটিস জারী রাখা, বারবার। আপনার সফল হওয়ার পরের অবস্থা, আপনার করনীয় কাজ, আপনার স্বপ্ন সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তার পুনরাবৃত্তি ঘটান। এই পুনরাবৃত্তি ঘটানোর জন্য নিজের কাজ সম্পর্কে নিয়মিত ইতিবাচক কিছু পড়ুন, শুনুন অথবা জানার চেষ্টা করুন। প্রতিদিনই সাহিত্য অথবা আত্মউন্নয়নমূলক বইপত্র পড়তে থাকুন।

সকালে খানিকটা সময় বই পড়ে কাটান। তারপর রাতে ঘুমানোর পূর্বেও একটু বই পড়ে নিন। এতে করে আপনার বেশ ভালো বোধ হবে। চাইলে আপনি ইতিবাচক বিষয় ও মন মানসিকতা ভালো রাখার জন্য তৈরি বিভিন্ন অডিও ভিডিও দেখতে এবং শুনতে পারেন। এটাও আপনার জন্য বেশ সহায়ক। আপনার কাছে তাহলে হতাশা জেঁকে বসার স্থান পাবে না এবং আপনি কাজ করার মুড ফিরে পাবেন। যখনই একটু ঝিমিয়ে যাবেন, তখন আপনা পড়াশোনাই সাহায্য করবে ফের নিজের জায়গা অটল থাকার জন্য।

নিজের জীবনে এসবের পুনরাবৃত্তি করুন। একসময় এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে। আরেকটা কথা, কেবল শুনলেই চলবে না, কাজ করতে হবে। কাজের বিকল্প হিসেবে আপনাদেরকে এসব শােনার পরামর্শ দিচ্ছি না আমি। বরং অবসরে পড়াশোনা থেকে প্রাপ্ত আইডিয়াগুলােকে কাজে রূপান্তরের জন্যই আপনি যদি নিয়মিত ইতিবাচক কিছু পড়েন এবং শােনেন, তাহলে সেসব আপনার জীবনে উল্লেখযােগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি আপনাকে বলতে পারি এসব বিষয় কাজ করবে যদি আপনি কঠোর শৃঙ্খলার সাথে এটা করে যেতে পারেন। আমি এখান থেকে শিখেছি- নিজের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করলে জীবনকে পরিবর্তন করা সম্ভব। আপনি যা ভাববেন, তাই হবেন।

অতএব, নিজেকে প্রতিনিয়তই সমৃদ্ধ করতে থাকুন ইতিবাচক সব বিষয়ে। একদিন ঠিক এসব আপনাকে ভালো ফলাফল এনে দেবে। কেননা, প্রতিটি কাজই দিনশেষে আপনার জীবনে বিনিয়োগ। এটা হতে পারে ইতিবাচক বিনিয়োগ অথবা নেতিবাচক বিনিয়োগ, নির্ভর করছে আপনার ওপর। তবে সবকিছু থেকেই ফলাফল পেতে আপনি বাধ্য।

 

লেখকঃ ত্বাইরান আবির (লেখক, অনুবাদক, কনটেন্ট রাইটার)


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *