ইতিবাচক ও নেতিবাচক ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য….

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক চিন্তা ও নেতিবাচক চিন্তা শব্দগুলোর চেয়ে পজেটিভ ও নেগেটিভ শব্দই বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ‘বি পজেটিভ’ কথাটি মানুষ যতটুকু ব্যবহার করে, ‘ইতিবাচক হও’ কথাটি তার চেয়ে কম ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটা একটু অদ্ভুত বটে। যদিও একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হচ্ছে, ইংরেজি ভাষার বহু শব্দই বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়ে গেছে। জায়গা দখল করে নিয়েছে আসল বাংলা শব্দগুলোর। যাহোক, এসব আমার আলোচনার বিষয় নয়। ইতিবাচক হও কিংবা বি পজেটিভ এর আলোচনাকে ছাপিয়ে গিয়ে আমি আপনাদেরকে ‘একজন ইতিবাচক মানুষ’ ও ‘একজন নেতিবাচক মানুষ’ এর মাঝে পার্থক্য দেখাতে চাই। একজন ইতিবাচক মানুষ কীভাবে দুনিয়াকে দেখে? কীভাবে সে মানুষকে বিশ্লেষণ করে? এসব জানা জরুরী আমাদের। বিপরীতে, একজন নেতিবাচক মানুষই বা কী করে থাকে এসব ব্যাপারে? কেমন হয় তার বিশ্লেষণ? এগুলোও জেনে রাখা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে আমি আপনাদেরকে বেশকিছু বিষয় জানাতে চাই। আশা করি এসব জানার পর আপনারা নিজেদের জীবনকে সে অনুসারে পরিচালনা করবেন এবং সুন্দর জীবনের অধিকারী হবেন। শুরুতেই আপনার জানানো দরকার যে, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে একটি ছাঁকনি। এক কথায়, ফিল্টার। ফিল্টারের কাজ ফিল্টারিং করা। পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যেমন আপনি ফিল্টার ব্যবহার করে থাকেন, ছবিকে সুন্দর করার জন্য যেমন ফিল্টার অপশন থাকে, তেমনি দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আপনি দুনিয়াকে দেখেন, বােঝেন এবং চলাফেরা করেন।

কিছু লােক পৃথিবীকে আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখে, কিছু লােক আবার পৃথিবীকে দেখে হতাশাব্যাঞ্জক দৃষ্টিকোণ থেকে। উভয় দলই মানুষ। তবে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির তফাতের ফলে তাদের কাজের পরিধি, সফলতার হার, চলাফেরা সবই আলাদা হয়ে থাকে। একজন ইতিবাচক মানুষ সবসময়ই সামনে এগোতে থাকে। পক্ষান্তরে নেতিবাচক মানুষ পিছিয়ে পড়তে থাকে। যাহোক, চলুন তবে নেতিবাচক এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যকার পার্থক্য বােঝাতে আপনাদেরকে কিছু উদাহরণ দেয়া যাক।

১। কাজ/সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গ- যেকোন কাজ কিংবা বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যক্তিরা বলে- ‘আমি পারবাে না।’ বিপরীতে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যক্তিরা সবসময়ই বলে- ‘আমি পারবােই।’

২। সমস্যা/সম্ভাবনা- নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত সমস্যা নিয়ে বসবাস করে। বিপরীতে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী লােকেরা সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করে সবসময়।

৩। ব্যক্তিত্ব বিশ্লেষণ- নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী লােকেরা অপর ব্যক্তির মাঝে নানারকম দোষ খুঁজতে থাকে। বিপরীতে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী লােকজন মানুষের মাঝে ভালাে গুণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।

৪। পূর্ণতা/অপূর্ণতা- নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ব্যক্তিমাত্রই অন্য ব্যক্তির মাঝে খামতিগুলাে লক্ষ্য করে। বিপরীতে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষগুলাে অন্যের মাঝে থাকা সুন্দর জিনিসগুলােকে চিহ্নিত করে।

৫। অনুসন্ধানী/হতাশ- নেতিবাচক চিন্তার লােকেরা সীমাবদ্ধতা দেখে সময় কাটায়। কিন্তু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী মানুষ মাত্রই সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে সচেষ্ট।

এছাড়াও আরো বেশকিছু বিষয় রয়েছে, যেসব বিষয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ব্যক্তিরা কখনোই এক হতে পারে না। এদের মধ্যে কেউ কেউ হতাশাবাদী দৃষ্টিকোণের অধিকারী হয়ে নিজেকে হতাশাবাদী দার্শনিক দাবী করে থাকে, যেহেতু পৃথিবীতে কিছুই স্থায়ী নয়। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, যেহেতু বাঁচতেই হচ্ছে, সেহেতু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বাঁচুন, হোক না পৃথিবীটা স্বল্পস্থায়ী। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

 

লেখকঃ ত্বাইরান আবির (লেখক, অনুবাদক, কনটেন্ট রাইটার)


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *