কল্পনা যেভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে….

‘কল্পনা জ্ঞানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।’- আলবার্ট আইনস্টাইন

কল্পনা সম্পর্কে আলবার্ট আইনস্টাইনের এমন মন্তব্যই জানিয়ে দেয় আমাদের জীবনে কল্পনার গুরুত্ব আসলে কতটুকু। মানুষ নিজের জীবনে যেসব অর্জন করতে চায়, সেসব নিজের সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে থাকে। ‘সামনে রেখে’ বলতে আমি মনের পর্দায় নিজের সফলতার বিষয়গুলোকে দেখার কথা বোঝাচ্ছি আপনাদেরকে। ভিজুয়ালাইজেশনের ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই।

আপনার মনের পর্দায় নেতিবাচক জিনিস চলতে থাকলে আপনি দিনশেষে বাস্তব জীবনে নেতিবাচক ফলাফল পাবেন। আবার ইতিবাচক জিনিস চলতে থাকলে বাস্তব জীবনেও ইতিবাচক ফলাফল পাবেন। সফলতার স্বাদ পাওয়া প্রতিটি মানুষই নিজের সফলতাকে কল্পনা করে অনুপ্রেরণা নিয়ে কাজ করেছিলো। আপনার আশেপাশের কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখতে পাবেন, তারা হয়তো এমন বলবে- ‘আমি নিজের সফলতার জায়গাটি আগেই দেখতে পাচ্ছিলাম, আমার চোখে ভেসে উঠেছিলো।’ হ্যা, ঠিক এমনটাই হয়ে থাকে সবার ক্ষেত্রে। প্রায় প্রতিটি সফল মানুষই এমন করেই নিজের সফলতাকে কল্পনা করে থাকেন।

সেলিন ডিওন। একজন খ্যাতিমান সঙ্গীতশিল্পীর নাম। একটি সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, তিনি কখনাে ভেবেছিলেন কিনা সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করবেন এবং বিভিন্ন স্টেজে গিয়ে হাজার হাজার শ্রোতার
সামনে তাকে গাইতে হবে? এই প্রশ্নের জবাবে সেলিন যে উত্তর দিয়েছিলেন, তাতে সাক্ষাৎকার নেয়া ব্যক্তি বেশ অবাক হয়েছিলেন। সেলিন জানিয়েছিলেন- তিনি পাঁচ বছর বয়স হতে এসব কল্পনা করেছিলেন। এরপর থেকে আর বসে থাকেননি। নিজের লক্ষ্য অর্জন ও সঙ্গীত শিল্পী হবার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।

ওই অল্প বয়সে সেলিন মূলত যা শিখেছিলেন তা হলাে, নিজের মনের মাঝে আপন ভবিষ্যত সম্পর্কে বিভিন্ন চিত্র অঙ্কন করা, যা তাকে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সফলতার দিকে নিয়ে গিয়েছিল। বিশ্ববিখ্যাত এ্যাথলেটরা কিংবা খেলােয়াড়রাও এ কাজটি করে থাকে। তারা কীভাবে পারফর্ম করবে সে ব্যাপারে নিজের মনের মাঝে নানাকিছু কল্পনা করে। একজন দৌড়বিদ কল্পনা করে তার শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং লাইন ছুঁতে পারার আনন্দ, একজন গলফার চিন্তা করে সবচাইতে ভালাে শট নেবার মুহূর্তগুলাে। অনেক বিখ্যাত খেলােয়াড়ও বাস্তব জীবনে কোন চ্যাম্পিয়নশীপে জয়ী হবার পূর্বে সেসব নিয়ে নিজের মনের পর্দায় কল্পনা করে থাকে।

সচেতন কিংবা অবচেতন মনের এসব কল্পনা একসময় রূপ নেয় বাস্তবতায়। মূলত একেই বলে কল্পনাশক্তি। এ ব্যাপারে আমি একটু ব্যাখ্যা করছি।
কল্পনাশক্তিকে প্রায়ই অন্তর্নিহিত চিত্র, মাইন্ড মুভি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যাহােক, কল্পনাশক্তি কেবল খেলোয়াড়, এ্যাথলেট এবং তারকাদের জন্য প্রযােজ্য নয়। সবার জন্যই এটি প্রযােজ্য। তাই কল্পনা করুন। এমনকি আপনার ছােটবেলায় করা কোন কল্পনাও একসময় আপনার জীবনে বাস্তব হয়ে ধরা দিতে পারে। আমরা মানুষেরা আমাদের মনের মাঝে সবরকম ছবি সংগ্রহ করে রাখি। এই যেমন, কেমন সম্পর্ক আমরা চাই, নিজের পছন্দের চাকরীর জন্য কী পরিমাণ ডিগ্রি দরকার এবং আমরা কত টাকা আয় করবাে এ সংক্রান্ত বহু চিত্র আমাদের মনের মাঝে গেঁথে থাকে। এগুলােই একসময় আমাদের জীবনে এসে বাস্তব হয়ে দাঁড়ায়।

 

লেখাঃ ত্বাইরান আবির

লেখক/অনুবাদক/কনটেন্ট রাইটার


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *