ইতিবাচক চিন্তা করে কী লাভ?

ইতিবাচক চিন্তাভাবনা মানেই রাতারাতি সফল হবেন, এমনটা নয়। হ্যা, এটা সত্য যে আপনার বিশ্বাস ও চিন্তাধারার ওপর নির্ভর করে কাজের গতি ও আপনার পথচলার নির্দেশিকা তৈরি হতে থাকে। কিন্তু তাই বলে ভাববেন না যে, রাতারাতি চোখের পলকে আপনি সফল হয়ে যাবেন। কোন ক্ষেত্রেই এমনটা কখনাে হবার নয়। ইতিবাচক চিন্তা আপনার সফলতার পথের শুরুমাত্র। বলতে পারেন এটি একটি দিক নির্দেশক, যা আপনার গন্তব্যের পথ নির্দেশ করে আপনাকে সে পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ভুল করেও রাতারাতি সফল হবার চিন্তায় ডুববেন না। সফলতা আসতে থাকবে আপনার কাজকর্মে ও ধৈর্য্যে এবং সেই উপাখ্যান রচনা করতে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার ভূমিকা অপরিসীম।

সকল বিষয় ইতিবাচকভাবে চিন্তা করলেই যে আপনি সমস্যার মুখে পড়বেন না, তেমনটা নয়। আপনি আপনার চলার পথে প্রতিনিয়ত একের পর এক সমস্যার মধ্যে পড়বেন। আর সেগুলােকে মােকাবেলা করার অস্ত্রই হচ্ছে ইতিবাচক চিন্তা। এমন নয় যে, আপনি ইতিবাচকভাবে সব চিন্তা করলেন, এর ফলে আপনাকে কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। এভাবে ভেবে থাকলে ভুল ভাবছেন। সমস্যা থাকবেই। সমস্যা সমাধান করে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন।

ইতিবাচক চিন্তা মূলত সমস্যাগুলােকেও দূর করার হাতিয়ার। মানসিকভাবে ইতিবাচক চিন্তার অধিকারী হলে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে সেসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে সক্ষম হবেন, যা আপনাকে একসময় বাঁধা-প্রতিবন্ধকতা দূর করে সফল ব্যক্তিতে পরিণত করবে। মনে রাখবেন, আপনার নিজের মাঝে এমন কিছু চিন্তা আছে যা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আপনার জীবনে আপনি যা কিছুই অর্জন করেন না কেন সবই আপনার চিন্তার ফল। আপনি যদি নেতিবাচকভাবে চিন্তা করেন, তাহলে নেতিবাচকতা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং আপনি নেতিবাচক ফলাফল পাবেন। বিপরীতে, আপনি যদি ইতিবাচকভাবে সব চিন্তা করতে থাকেন, তাহলে
ফলাফলও ইতিবাচক হবে।

সত্যি বলতে নেতিবাচক চিন্তার কোন মানেই হয় না। কেননা, কেউই নিজের জীবনে নেতিবাচক কিছু আনয়ন করতে চায় না। আমি নিশ্চিত পাঠক, আপনিও চান না। সুতরাং, এই মুহূর্ত থেকেই আপনার চিন্তাধারাকে পছন্দ করে নিন এবং সেগুলাের উপকরণ ব্যবহার করে জীবনে অভাবনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসুন।

লেখাঃ ত্বাইরান আবির
লেখক/অনুবাদক/কনটেন্ট রাইটার

তথ্যসূত্র- জেফ কেলার বুকস


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *