সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করুন

নিজের সমস্যা নিয়ে একটা সময় আমি প্রচুর ভুগতাম। সমস্যাকে ভয় পায় না, পৃথিবীর বুকে এমন মানুষ খুব কমই রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই নিজের সমস্যাগুলোকে ভয় পাওয়ার ফলে সফলতা থেকে দূরে আসে। আমরা দিনশেষে ভুলেই যাই সমস্যা আর সম্ভাবনার মধ্যে দিয়েই আমাদের জীবন কাটতে থাকে, কাটবে। সমস্যাকে আমরা কখনোই শেষ করতে পারবো না। জীবন সমস্যা ও সমাধানের মিশেলে চলতে থাকবে। কেউ কেউ ভাববেন, তাহলে মুক্তি কিসে? আমি বলবো, মুক্তি নেই। সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন না। বড়জোর সমস্যা সমাধান করতে পারেন কিংবা সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে পারেন। এর বাইরে আর কোন উপায় নেই। কেননা, জীবনে খারাপ সময়, সমস্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতি একের পর এক আসতেই থাকবে। এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করার কোন প্রয়োজন নেই। কেননা, নেপোলিয়ন হিল বলেছেন- ‘প্রতিটি প্রতিকূল পরিস্থিতিই বৃহত্তর কিছুর সুপ্ত বীজ বহন করে।’ আপনি সেই সম্ভাবনা শুরুতেই দেখতে সক্ষম নন। এমনকি আপনি দেখতে পাবেন না যে, কখন বাধাগুলাে একের পর এক আপনার জীবনে আসবে এবং আপনি কোথায় চলে যাবেন নিজের বর্তমান অবস্থান থেকে। এমতাবস্থায় যদি আপনি গতানুগতিক লােকেদের মতােই হয়ে থাকেন, তাহলে আপনিও অন্য সবার মতাে ভাগ্যকে দোষারােপ করার কাজে নিয়ােজিত হয়ে যাবেন। আর বলবেন- ‘আমার সাথেই কেন এসব হলাে? আমি
এখন কী করবাে? আমার সকল পরিকল্পনাই তাে ভেস্তে গেল।’ এসব আসলে বিরূপ পরিস্থিতির সময় স্বাভাবিক অভিব্যক্তি। যাহােক, নিজের সাময়িক কষ্টকে কাটিয়ে আপনাকে যেভাবেই হােক নিজের জায়গায় ফিরতে হবে ধৈর্য্য ধরে। প্রচন্ড প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে আপনি সুযােগ বের করতে সক্ষম যেকোন সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য। আপনি হয়তাে সাময়িক একটি সমস্যার মুখে পড়েছেন, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও ভালাে কিছু রয়েছে। একটা বিষয় হয়তাে আপনার কাছে সমস্যা মনে হচ্ছে আদতে ওটা কোন সমস্যাই নয়। একটি সমস্যাও আপনার জীবনে সুযােগ হয়ে আপনাকে সফল করে দিতে পারে। উক্ত সমস্যা ব্যতীত আপনি হয়তাে কখনই সেই সফলতার দেখা পেতেন না। কিংবা অনেক ক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারে আপনাকে। হতে পারে ঐ সমস্যাটির সম্মুখীন না হলে সেই ইতিবাচক পদক্ষেপ আপনার মাথায় আসতাে না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি নিশ্চয়ই এমন অনেক কাহিনী শুনেছেন যে, কোন এক লােক নিজের চাকরী হারিয়ে কিংবা প্রথম ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরবর্তীতে দারুণ সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলো। কাজেই জীবনে হতাশ হয়ে কোন লাভ নেই।

এইযে ব্যর্থতার পর সফল হওয়া গল্পগুলাে
রচিত হয়, এসব সম্পর্কে জানতে গিয়ে কখনাে কি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন- তারা যদি ব্যর্থ না হতাে তাহলে কি পরবর্তীতে সফলতা তাদের সামনে এসে
হাজির হতাে? এ বিষয়গুলাে চিন্তা করে নিজেকে স্থির রাখুন। মানুষের জীবন সফলতা ও ব্যর্থতার সমন্বয়ে গঠিত। জীবনে ভালাে সময় যেমন আসবে, তেমনই আসবে খারাপ সময় । সফলতা ও ব্যর্থতা একসাথে চক্রাকারে আসতে থাকবে। কিন্তু এগুলাের কোনকিছুই স্থায়ী নয়, যেমনটা পৃথিবীর বুকে আপনিও স্থায়ী নন! আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক। ধরুন আপনি নিজের জন্য পারফেক্ট একটা চাকরীতে জয়েন করার জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং আপনি এ নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত। কতক্ষণে ফলাফল আসবে কিংবা আপনি চাকরীটা পেয়ে যাবেন এ নিয়ে সারাক্ষণই উত্তেজনা বিরাজ করছে আপনার মনে। যথাসময়ে ফলাফল প্রকাশিত হলাে। কিন্তু চাকরীটা আপনি পেলেন না। আপনার জায়গায় অন্য একজন উক্ত চাকরী পেয়ে গেল। এতে করে আপনি খুব হতাশ হয়ে গেলেন। কোনরকমে দিন পার করে নিজেকে ঠিক রেখে পরবর্তীতে আরেকটি চাকরীর পরীক্ষা দিলেন। এবার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলাে আপনার এবং আপনি
চাকরীটা পেয়ে গেলেন। দেখা গেল আপনি আগে যে চাকরীটা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন এবার তার চাইতেও ভালাে চাকরী জুটেছে আপনার কপালে! এ
বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? নিজেকে কি এখন আপনি প্রশ্ন করবেন না যে, কী হতাে যদি আপনি প্রথম ইন্টারভিউয়ের চাকরীটা মিস না করতেন? আজ কি তাহলে নতুন করে আরাে ভালাে চাকরী পেতেন? পেতেন না। তাহলে আমাদের জীবনে হতাশার জায়গা আসলে কোথায়? কোথাও নেই। কিছু হারালে তার চাইতে ভালাে কিছু এসে জীবনে জায়গা করে নেয়। জীবন শূন্যস্থান পূরণ করতে বেশ আগ্রহী। এটাই জীবনের নিয়ম।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *