লেখক জেফ কেলারের সফলতার গল্প

প্রথম প্রথম কোন কাজ করতে গেলে আমরা সবাই ই মানুষের নেতিবাচক কথার সম্মুখীন হই। আপনি নিজের কোন কাজের কথা মনে করুন। খেয়াল করে দেখবেন এসব কাজ শুরু করার পর আপনাকে নেতিবাচক অনেক কথাই শুনতে হয়েছে। এসব নেতিবাচক কথাবার্তা মানুষের কাছ থেকে আসাটা স্বাভাবিক। এসব স্মরণ করে আপনি যদি নিজের কাজ বন্ধ করে দেন, তাহলে কখনোই কিছু অর্জন করতে পারবেন না। আপনাকে অবশ্যই সকলের কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজটি করতে হবে, যদি সফলতা পেতে চান। আপনার সফলতা অনেকের কাছেই ঈর্ষার ব্যাপার। অনেকেই আপনাকে থামিয়ে দিতে চাইবে, নিরুৎসাহিত করতে চাইবে। এসবকে পাশ কাটিয়ে যেকোন কাজে সফলতা পেতে আপনাকে একটি বিষয়ই সাহায্য করতে পারে আর তা হচ্ছে- নিজের সাথে নিজের অঙ্গীকার। অঙ্গীকার ঠিক রাখার ফলেই আজকের দুনিয়ায় আমরা বহু সফল মানুষকে দেখতে পাচ্ছি। এমনই একজন সফল মানুষ হচ্ছেন আত্মউন্নয়নমূলক বইয়ের লেখক জেফ কেলার। শুরুতে তিনি ছিলেন একজন আইনজীবী। কিন্তু একসময় মোটিভেশনাল রাইটআপে সফলতার শীর্ষে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। তার লেখালেখি জীবনের শুরুটা কেমন ছিলো? কীভাবে তিনি একজন লেখক হিসেবে সফলতা পেতে সক্ষম হয়েছিলেন? চলুন জেনে নেয়া যাক নিজের কথাতেই।

“১৯৮৯ সাল। আমি তখন থেকেই আত্মউন্নয়নমূলক আর্টিকেল লেখা শুরু করি। এর আগে আমি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সফলতার অন্য সকল
উপাদানসমূহ নিয়ে বিস্তর পড়াশােনা করেছিলাম।
অতঃপর সেখান থেকে প্রাপ্ত বিষয়সমূহ নিয়ে
অপরকে সাহায্য করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলাম।
কিন্তু আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমার
কী করা উচিত। আমি কি আমার লেখাগুলাে কোন পত্রিকায় প্রেরণ করবাে নাকি ম্যাগাজিনে? কিংবা নিজের লেখাগুলাে নিয়ে বই লেখা শুরু করবাে কিনা? যাহােক, প্রথমে আমি একটি আর্টিকেল স্থানীয় এক পত্রিকার ট্রেইনিং এ্যান্ড হিউম্যান রিসাের্স বিভাগের জন্য সাবমিট করি। ১৯৯০ সালের গ্রীষ্মে ওই আর্টিকেলটি ছাপা হয়। তার ঠিক কয়েকমাস পর, আমি স্টুয়ার্ট কামেন নামের একজন ভদ্রলােকের কাছ থেকে ফোনকল পাই। তিনি আমাকে জানান, বন্ধুর বসায় গিয়ে তিনি আমার আর্টিকেলটি দেখেছেন এবং বেশ অভিভূত হয়েছেন আমার লেখা পড়ে। এই ভদ্রলােক স্টুয়ার্ট ছিলেন একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার, যিনি কিনা বিজনেস নিউজলেটার নিয়ে কাজ করছিলেন। তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কখনাে বিজনেস নিউজলেটার লেখার চিন্তা করেছি কিনা? আমি সােজাসাপটা উত্তর দিলাম তাকে- আমি কখনাে এসব লেখার চিন্তাও করিনি। কথাবার্তা বলে আমরা দু’জন সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং স্টুয়ার্ট আমাকে জানালেন আমরা দুজন একসাথে কাজ করে বিজনেস নিউজলেটার তৈরি করতে পারি এবং মানুষের কাছে নতুন ধারার আত্মউন্নয়ন বিষয়ক আইডিয়া শেয়ার করতে পারি। সাক্ষাতের ঠিক একমাস পর এটিচিউড ইজ এভরিথিং এর ফাস্ট ইস্যু নিউজলেটার প্রকাশিত হয়। এরপর আমরা প্রায় টানা নয় বছর একসাথে কাজ করেছি এবং হাজার হাজার লােকের কাছে জীবন বদলে দেয়া নানা তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছি! চিন্তা করুন তাে, কীভাবে এটা সম্ভব হলাে? আমি বলবাে, কেবল অঙ্গীকারের কারণে । আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলাম, লিখতে শুরু করেছিলাম, চেয়েছিলাম সবার সাথে আমার লেখাগুলাে শেয়ার করবাে। অতঃপর সেগুলাে স্টুয়ার্ট কামেন নামের মানুষটি পড়লেন এবং তিনি আমার জীবনে আসলেন। এই মানুষটি একেবারেই আগন্তুক ছিলেন আমার জীবনে এবং জানতেন আমার স্বপ্নকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব। আহা! অঙ্গীকার। এভাবেই জাদুকরী উপায়ে কতকিছু বদলে দাও তুমি।”

নিজের সাথে করা অঙ্গীকার যেমন লেখক জেফ কেলারের জীবন বদলে দিতে সক্ষম হয়েছিলো, তেমনি আপনার জীবনও বদলে দিতে সক্ষম- যদি আপনি জেফের মতো অঙ্গীকার করতে পারেন। অতএব, নিজের সাথে নিজের অঙ্গীকার করুন, জীবনকে বদলে দিন সফল হবার মাধ্যমে।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *