বিখ্যাত লেখক ডেভিড ব্যালডেচির সাফল্যের গল্প

কয়েক বছর আগে আমেরিকান ওয়েব ম্যাগাজিন বিশ্ববিখ্যাত লেখক ডেভিড ব্যালড্যাচির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলো। ব্যালড্যাচি একজন বেস্টসেলার লেখক এবং তার বইগুলাে বিশ্বব্যাপী মিলিয়ন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। এ্যাবসুলেট পাওয়ার, টোটাল কন্ট্রোল এবং দ্য উইনারের মতাে বিখ্যাত সব উপন্যাস লিখেছেন ডেভিড বালড্যাচি। এসব উপন্যাস পুরাে বিশ্বজুড়ে পাঠকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়। তাে ডেভিড ব্যালড্যাচির পাহাড়সম সাফল্য কিন্তু রাতারাতি আসেনি। তার আজকের এই বিশাল পরিমাণ খ্যাতি এবং অর্থকড়ি সবই ছিল লম্বা সময়ের পরিশ্রম করে লেখালেখির প্রতিভাকে উন্নত করার ফল। তিনি ছিলেন বেশ উচ্চাকাঙ্খী এবং নিজের কাজ নিয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে লেখালেখিতে হাত পাকিয়ে আজ বর্তমান অবস্থানে এসেছেন তিনি। মজার ব্যপার হলাে, তিনি কিন্তু নিজের ক্যারিয়ার একজন লেখক হিসেবে শুরু করেননি! ডেভিড ব্যালডেচি ছিলেন একজন আইনজীবী। ১৯৮৩ সালে ব্যালড্যাচি ল স্কুলে ভর্তি হন। তখন তিনি কখনােই ভাবেননি যে, আইনজীবী পেশার পরবর্তীতে একদিন বেস্টসেলার লেখক বনে যাবেন। লেখক হিসেবে যাত্রাপথে সবসময়ই নিজের কাজকে উপভােগ করে গেছেন সময়ের এই অন্যতম সেরা লেখক। এসবই তাকে নিজের সেরা অবস্থানে নিয়ে এসেছে। শুরুর দিকে ভেভিড ব্যালড্যাচি তার লেখার বেহাল অবস্থা সম্পর্কে জানতেন। লেখালেখিতে তার দক্ষতা একেবারেই ছিল না বললেই চলে। আর এ জন্য নিজের লেখা উন্নত করতে নিজের সাথেই তিনি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে
যান। পরবর্তী সময়ে প্রচুর লেখালেখি করতেন তিনি। প্রথম পাঁচ বছর ব্যালড্যাচি তার কোন প্রজেক্টই প্রকাশ করেননি। কেবল চরিত্র এবং প্লট গুলাে নিয়ে কাজ করে গেছেন নিয়মিত। যখন তিনি এসব কাজ করতেন, তখনও তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিলেন এবং তার ছিল স্ত্রী ও দুই সন্তান। নিজের পেশা ও পরিবারকে সময় দেবার পরও কীভাবে ডেভিড ব্যালড্যাচি তার লেখালেখি চালিয়ে নিচ্ছিলেন? ভাবলেই অবাক হতে হয়। এটা সত্যিই দুঃসাধ্য এক ব্যাপার। এ বিষয়ে তিনি জানান, তিনি রাতে লেখালেখি করতেন। বিশেষ করে রাত সাড়ে দশটা থেকে দুইটা পর্যন্ত। এই সময়টুকু তিনি নিবিড়ে লেখালেখি চালিয়ে যেতেন। তিনি আরাে বলেন, লেখালেখির কাজটি যতটাই মজার মনে হচ্ছে ততটাও আরামদায়ক ছিল না। যাইহােক, একেই বলে ‘যা কিছুই লাগুক না কেন করবাে’ এরকম ইচ্ছে মনের মাঝে ধারণ করা। একেই বলে অঙ্গীকার! আমি মূলত আপনাদেরকে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছি। তবে হ্যাঁ, আমি আপনাদেরকে বলবাে না যে, নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সারারাত জেগে পরিশ্রম করুন। সাড়ে দশটা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত লেখক ব্যালড্যাচির এই শিডিউল আপনার কিংবা আমার ক্ষেত্রে নাও কাজ করতে পারে। প্রত্যেকের জীবনের টাইম টেবিলই আলাদা। অতএব শিডিউলও আলাদা। যাহোক, পরবর্তী দশ বছর টানা লেখালেখি করার পর ব্যালড্যাচি কিছু ছােট গল্প এবং চিত্রনাট্য লিখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এতকিছুর পরও তিনি তার আকাঙ্ক্ষিত সফলতা পাননি। তার বই বিক্রির হাল বলতে গেলে শূন্যের কোঠাতেই ছিল। উপরন্তু একের পর এক সম্পাদক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হবার মতাে যন্ত্রনা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। তবুও হার মানেননি। অবশেষে বহু সাধনার পর সাফল্যের সােনার হরিণ ধরা দেয়। বলা হয়ে থাকে- পরিশ্রম করে যে, ভাগ্য তাকেই সহায়তা করে। ব্যালড্যাচির ভাগ্যও একসময় তাকে সাহায্য করলাে। ১৯৯৬ সালে তিনি তার বিখ্যাত উপন্যাস এ্যাবসুলেট পাওয়ার এর সিনেমা স্বত্ব বিক্রি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করেন। নিশ্চয়ই এটা বিশাল এক অঙ্ক! এটাই অঙ্গীকারের ফল এবং অঙ্গীকার করা ব্যক্তির ক্ষমতা।

 

তথ্য সংগ্রহ- আমেরিকান ম্যাগাজিন

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *