প্রতিকূল পরিস্থিতি আপনাকে যেসব সুবিধা দেয়…..

প্রতিকূল পরিস্থিতি সবসময়ই মানুষের জন্য কিছু সম্ভাবনা নিয়ে আসে। এই কথাটিই বলেছিলেন ব্রায়ান ট্রেসি। আপনি যত বিপদের মুখে পড়বেন, আপনার জন্য ততই সম্ভাবনা সামনের দিনগুলোতে লুকিয়ে রয়েছে। আপনাকে কেবল বিপদ থেকে শিক্ষা নিয়ে ফায়দা আদায় করতে হবে, হতাশ হওয়া চলবে না। কমবেশি সবার জীবনেই প্রতিকূল পরিস্থিতি আসে। আমরা প্রায় প্রত্যেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে থাকি। কেউ কেউ প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নিজের জীবনকে অভিশাপ দিয়ে থাকে, কেউ আবার প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ফায়দা আদায় করে নেয়। আপনাদের মধ্যে যারা সকল পরিস্থিতিতেই সুবিধা আদায় করে নিয়ে নিজের জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে থাকেন, তাদের জন্যই আমি প্রতিকূল পরিস্থিতির সুবিধাসমূহ তুলে ধরতে চাই। তো চলুন জেনে নেয়া যাক প্রতিকূল পরিস্থিতি যেভাবে আমাদেরকে সুবিধা দেয়-

১। জীবনকে চেনা/জানা- প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদেরকে জীবন চিনতে শেখায়। আপনি যখন জীবন হুমকির মুখে থাকা কোন অসুস্থতা থেকে সেরে উঠবেন, তখন যাপিত জীবনের কোন অপূর্ণতা আপনাকে আর কাবু করতে পারবে না। আপনি তখন বাকি জীবনে যেকোন কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। জীবনকে চিনতে পারলে যেকোন সমস্যার সাথে লড়াই করতে পারবেন আপনি।

২। কৃতজ্ঞতা- প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদেরকে কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। যদিও সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা মানুষের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নেয় এবং বঞ্চনার শিকার হতে হয় মানুষকে, তবুও বলতে হয় এর মাধ্যমে মানুষের ভেতর কৃতজ্ঞতাবােধ জাগ্রত হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা সাধারণত কোনকিছু আমাদের জীবন থেকে না হারালে তার গুরুত্ব বুঝতে শিখি না, কৃতজ্ঞ হতে জানি না। উদাহরণস্বরূপ, আপনার কাছে যদি শীতকালে গরম পানি না থাকে গােসল সারার জন্য, তাহলে আপনি গরম পানির মর্ম বুঝতে পারবেন। তেমনিভাবে আমাদের স্বাস্থ্য যদি খারাপ হয় মারাত্মক কোন অসুস্থতার মাধ্যমে তাহলেই আমরা শরীরে সুস্থতার মূল্য বুঝতে সক্ষম হই এবং সুস্বাস্থ্য ও ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতাবােধ আসে ভেতর থেকে।

৩। প্রতিভা বিকাশ- প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদের প্রতিভার পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটায়। মানুষ যখন
দুঃখকষ্টে থাকে, তখন তাদের মাঝে একটা জেদ তৈরি হয়। নিজের জীবন নিয়ে তখন তারা পরিপূর্ণ ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। তখন আর কিছু হারাবার ভয় থাকে না, থাকে সকল কিছুকে ভয় না করে সামনে এগিয়ে যাবার প্রয়াস। যার ফলে মানুষ দারুণ কিছু করতে সক্ষম হয় তাদের পরিপূর্ণ মেধা ও শ্রম খরচ করে। এমনকি প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করার জন্য তাদের মানসিকতা কর্মের যে পরিধি বিস্তৃত হয়, সেটার ফলেও তাদের ভেতরে জমা কর্মের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ একসময় প্রকাশিত হয়।

৪। সাহসী হওয়া- প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদেরকে সাহসী হতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে শেখায়। মানুষ স্বভাবতই ভালো থাকতে চায়। এটা মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। কেউই চায় না কখনো লম্বা সময় ধরে খারাপ অবস্থায় থাকতে। আপনি আপনার আশেপাশে থাকা মানুষগুলোকে জিজ্ঞেস করুন যে, তারা আসলে নিজেদের কষ্ট দূর করতে কতটা আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। তাহলেই বুঝতে পারবেন এ বিষয়টি। তো এই চিন্তাভাবনাই আমাদেরকে জীবনে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে ওপরে উঠতে সাহায্য করে। আর এ ব্যাপারে প্রতিকূল পরিস্থিতির ভূমিকা অনেক বেশি। কেননা, দুঃখকষ্টই আপনাকে তাড়িয়ে বেড়াবে ভালো অবস্থানে ফেরার জন্য। আর আপনি সে অনুযায়ী কাজ করে নিজের উত্থান ঘটাবেন।

৫। শিক্ষা পাওয়া- প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদেরকে নানা বিষয়ে শিক্ষা দেয়। একজন মানুষ তার খারাপ সময়ে যত শিক্ষা পায় তা পরবর্তীতে কাজে লাগাতে পারে নিজের জীবনে এবং সে অনুসারে সফলতা লাভ করে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিষয়ে বলা যেতে পারে। তারা কঠিন সময়ে যা শেখে পরবর্তীতে সেটা কাজে লাগিয়ে সফলতা লাভ করতে সক্ষম হয়।

৬। সম্ভাবনা উন্মোচন- প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয়। কারো সাথে আপনার সম্পর্ক বিতৃষ্ণায় পর্যবসিত হলে আপনি নতুন কাউকে খুঁজে নেন। একটা চাকরী হারিয়ে ফেললে, নতুন করে আরো ভালো চাকরীর সন্ধান করেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পেয়েও যান। এইদিক থেকে চিন্তা করলে সমস্যাগুলো আসলে সমস্যা নয়, বরং সমস্যার ছদ্মবেশে থাকা আশীর্বাদ।

৭। আত্মবিশ্বাস পাওয়া- প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলে। আপনি তখন হয়ে ওঠেন আরো শক্তিশালী, আরো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং কষ্টের মধ্যে দিয়ে অর্জিত সফলতায় সত্যি বলতে তৃপ্তিও বেশি।

এসব মনে করে আশা করি ভবিষ্যতে আপনারা সবাই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেয়ার চেষ্টা করবেন। প্রতিকূল পরিস্থিতি দিনশেষে আপনার জন্য আশীর্বাদ!

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *