অধ্যাবসায় ই সফলতার গোপন রহস্য

আত্মউন্নয়নমূলক লেখক জেফ কেলার তার মোটিভেশনাল রাইটআপের জন্য আলাদা জায়গা দখল করে আছেন। নিজের লেখা দিয়ে তিনি বহু মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। একবার তিনি একটি সেমিনারে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত দর্শকদেরকে তিনি অধ্যাবসায় ধরে রেখে চেষ্টা করার বিষয়টি নিয়ে জানাচ্ছিলেন। তো আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি একজন মানুষের গল্প সবার সাথে শেয়ার করেন৷ তার নাম বেঞ্জামিন রােল। এই ভদ্রলোক ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপাের্ট বীচে বসবাস করেন। ১৯৯০ সালে তিনি সাতষট্টি বছর বয়সে ল স্কুল থেকে পাশ করেন। তাে আইন চর্চা করার পূর্বে নিয়ম অনুসারে তাকে ক্যালিফোর্নিয়া বার এক্সামিনেশনে পাশ করে আসতে হতাে। সেই লক্ষ্যে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বার এক্সামিনেশনে অংশ নেন। কিন্তু পরীক্ষা দিয়ে প্রথমবারই ফেইল করেন। দ্বিতীয়বারও ফেইল করেন। এমনকি তৃতীয়বারও একই হাল হয়। এভাবে যেতে যেতে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম এবং একাদশতম বারেও একই হাল হয়। ফেইল করেন তিনি প্রতিবারই।

এখানে আমার একটা বিষয় ব্যাখ্যা করা উচিত। আমেরিকায় বার এক্সামিনেশন বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত হয়। কাজেই তেরােবার ফেইল করার পর বেঞ্জামিন রােল তার জীবনের প্রায় সাতটি বছর খুঁইয়ে ফেলেছিলেন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। অন্যসব মানুষ হলে হয়তাে আর পরীক্ষাই দিত না এই বুড়াে বয়সে। কিন্তু তিনি তা করেননি। এতবার ব্যর্থ হবার পরও নিজের মাঝে ধৈৰ্য্য ও দৃঢ় সংকল্প বজায় রাখার মাধ্যমে নিজ জীবনের চৌদ্দতম বার এক্সামিনেশনে অংশ নেন তিনি এবং সেবার পাশ করেন। অবশেষে ভাগ্য তার দিকে সুপ্রসন্ন হয়েছিল এবং ১৯৯৭ সালে তার বয়স যখন চুয়াত্তর বছর, তখন তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বার পরীক্ষায় পাশ করে আইন চর্চায় নিয়ােজিত হন। একেই বলে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিছু করা। এটাই অঙ্গীকারাবদ্ধ হবার স্বরূপ। বেঞ্জামিন রােলের জায়গা অন্য কোন ব্যক্তি হলে কোনদিনই আর চেষ্টা করতেন না। প্রকৃতপক্ষে কোন লােকই পরীক্ষায় একবার দুইবার ফেই হবার পর আর চেষ্টা করতাে না। পারিপার্শ্বিক লজ্জাতেও এসব ছেড়ে দিত। কিন্তু রােল এই দুঃসাধ্য কাজটি করে দেখিয়েছেন। বয়সকে পাশ কাটিয়ে তিনি নিজের লক্ষ্য অর্জন করে নিয়েছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে বলেন- ‘আমি সংকল্প করেছিলাম জীবিত থাকতে আমি বার এক্সামিনেশন পাশ করবােই। এবং আমি পেরেছি!’ তাে কেমন লাগলাে আপনাদের বেঞ্জামিন রােলের গল্প? এখান থেকে কী শিক্ষা পেলেন? জীবনের ছয়টি বছর শেষ করে তেরােবার ফেইল করার পরও সাফল্যকে ধরতে পারা বেঞ্জামিন রােলের কাছ থেকে নিশ্চয়ই আমাদের শেখার আছে অনেক কিছুই।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *