কাউকে নিজের পরিকল্পনা জানাবেন না!

আমরা সবাই নিজের কাজ নিয়ে ছুটে চলেছি। প্রত্যেকেরই সুনির্দিষ্ট কাজ রয়েছে। সেই কাজ নিয়ে প্রত্যহ আমরা ব্যস্ত থাকি, আমাদেরকে ব্যস্ত থাকতে হয়। ব্যস্ততা জীবন আমাদেরকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। নিজের কাজ নিয়ে আমরা কেউ সফল হই, কেউ আবার হই না। কেউ চুপিসারে কাজ করে যাই, আবার কেউ নিজের কাজের সকল উন্নতিই সবাইকে জানিয়ে বেড়াই। এই পৃথিবীতে বহু মানুষ রয়েছে, যারা নিভৃতে নিজের কাজ করেছে এবং পরবর্তীতে বিশাল সফলতা পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের কাজের পরিকল্পনা সম্পর্কে কেউ জানতে পারেনি। বেশিরভাগ বড় মাপের মানুষের কাজের পরিকল্পনা ও সফলতার রুট সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে সফলতা অর্জনের পর। এর আগে প্রায় কেউই এসব ডিসক্লোজ করেনি। কিন্তু কেন করেনি? কেন মানুষ চুপচাপ নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করতে থাকে? ঠিক কোন কারণে নিজের সফলতার পূর্বে আপনার সকল পরিকল্পনা প্রকাশ করা অনুচিত?- আপনাদের মনে এই ধরণের প্রশ্ন জাগতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অবশ্যই আছে। সহজ করে বলতে গেলে, আপনার সফলতার পূর্বে নিজের কাজের পরিকল্পনা প্রকাশ করলে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, প্রতিবন্ধকতা চলে আসতে পারে, আপনার আইডিয়া চুরি হতে পারে, এমনকি আপনি ঈর্ষার শিকার হতে পারেন। এসব ছাড়াও মানুষের ভুরু কুঁচকানোর বিষয়টি তো রয়েছেই। তাই কখনোই নিজের কর্ম পরিকল্পনা সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় কাউকে জানাবেন না।

একবার লেখক জেফ কেলার তার একটি সেমিনারে সবাইকে বলেছিলেন- “আপনারা নিজের কাজের পরিকল্পনা অগ্রীম প্রকাশ করবেন না। আপনমনে কাজ করে যাবেন। সফল হওয়ার পর লোকে এমনিই জানবে আপনার ব্যাপারে। এখন আপনার মনে হয়তো কিছু প্রশ্ন জাগতে পারে। ‘জেফ, আমি কি নিজের কাজের পরিকল্পনা কেবল নিজের মাঝেই রাখবো? নাকি অন্যান্য মানুষের সাথেও একইভাবে কথাবার্তা বলবো?’ আমি আপনাদেরকে এই প্রশ্নের জবাবে বলতে চাই- নিজের লক্ষ্যের ব্যাপারে মানুষকে জানালে তারা হয়তো ঈর্ষা করবে। কেউ কেউ আবার হেসে ফেলবে আপনার কথা শুনে। তাই এসব নিয়ে চুপচাপ থাকুন।

এবার আসি নিজের লক্ষ্যগুলো মানুষের সাথে শেয়ার করা প্রসঙ্গে। আসলে নিজের লক্ষ্যগুলো মানুষের সাথে শেয়ার করার বিষয়টি জরুরী কোন ইস্যু নয়। আমি একটা বিষয় খুব ভালো করে শিখেছি, আর তা হলো—নিজের লক্ষ্যগুলো নিয়ে কোন নেতিবাচক মানসিকতার লোকের সাথে আলোচনা করা উচিত নয়। তারা কেবল বিতর্ক করতে জানে এবং কীভাবে আপনি ব্যর্থ হবেন সেই কথাবার্তা বলে বেড়াবে। কে চায় এসব শুনে নিজেকে আরো হতাশ করতে বলুন? মাঝেমধ্যে এসব বিষয় আপনার সফলতাকে ব্যর্থতায় রূপান্তর করতে পারে। কেননা, ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিরা পরিণত হতে পারে আপনার শত্রুতে। তা সত্ত্বেও, নিজের লক্ষ্যের ব্যাপার শেয়ার করে আপনি আনন্দ পেতে পারেন। এক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়ে নিন যার সাথে আপনি এসব শেয়ার করবেন, সেই ব্যক্তি যাতে ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী হয় এবং আপনার কাজে সাহায্য করবে এমন ব্যক্তিত্ব তার মাঝে থাকে। এই মানুষটি হতে পারে আপনার বন্ধু, পরিবারের কেউ অথবা সহকর্মী। এছাড়াও আপনার নিজের লক্ষ্যগুলোর বিষয়ে আপনার কর্মীদের সাথে শেয়ার করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ—ধরুন, আপনি আপনার ব্যবসায় পূর্বের চেয়ে ২০% ভাগ বিক্রি বাড়াতে চান, এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন আপনি। সেক্ষেত্রে আপনার উচিত এ বিষয়টি আপনার সকল কর্মীর সাথে শেয়ার করা, যাতে তারা আপনাকে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করতে পারে।”

আমি যখন কোন কাজ শুরু করতে যাই, তখন ওসব বিষয়ে দক্ষ কারো সাথে কথাবার্তা বলি। কেননা, এতে আমার পরামর্শ নিতে এবং কাজ করতে সুবিধা হয়। এক্ষেত্রে অনুগ্রহ করে নেতিবাচক মানসিকতার কারো সাথে আপনার কোন কাজের বিষয় শেয়ার করবেন না। ধরুন, আপনি আপনার আঙ্কেলকে আপনার একটি আইডিয়া সম্পর্কে জানালেন। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি নেতিবাচক মানসিকতার। এমনটা হলে তিনি আপনাকে সাহায্য তো করবেন ই না, বরং আপনার কাজটি না হবার পেছনে হাজারটা ‘না’ দেখিয়ে দেবেন। এতে আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন। আপনার ফলাফল হবে চূড়ান্তভাবে পিছিয়ে যাওয়া। তাই কখনো কোন কাজের ব্যাপারে কাউকে শেয়ার করার পূর্বে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনার কাজ সম্পর্কে উক্ত ব্যক্তি যথেষ্ট অভিজ্ঞ কিনা? উক্ত ব্যক্তি নিজের ভেতর ইতিবাচক মানসিকতা লালন করেন কিনা? দুটো উত্তরই যদি ‘না’ হয়, তাহলে এমন ব্যক্তি হতে দূরে থাকুন। এতে করে হতাশ হওয়া এবং শত্রু বানানো দু’টো জায়গা থেকেই বেঁচে থাকতে পারবেন!

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *