নেতিবাচক বন্ধু থাকার ক্ষতিকর দিকসমূহ……….

আপনি যদি সফলতা পেতে চান কিংবা নিজেকে ভালো কোন অবস্থানে নিতে চান, তাহলে আপনার একার পক্ষে তা করা সবসময়ই সম্ভব নয়। এটা সত্য যে, আপনাকে কেন্দ্র করেই সফলতার চক্র ঘুরতে থাকে। কিন্তু নিজের কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য আপনার দরকার পরিবেশ, হেল্পিং হ্যান্ড এবং ওয়ার্কিং সার্কেল। আপনার সার্কেল যদি ভালো ও ইতিবাচক মানুষ দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে, তাহলে আপনিও নিশ্চিতভাবে সবার সাহায্য নিয়ে একসময় ভালো কিছু করতে সক্ষম হবেন। নিজের সার্কেল থেকে সাহায্য পাওয়া, ইতিবাচক মানসিকতা গঠন, কাজ করা সবই সম্ভব হয়, যদি সার্কেলে নেতিবাচক মানসিকতার লোক না থাকে। লেখক জেফ কেলার এ ব্যাপারে একটি ঘটনা শেয়ার করেছিলেন। তিনি নিজে একজন মোটিভেটেড ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং নিজের বন্ধুর কাছেই ইতিবাচক সার্কেল তৈরির ব্যাপারটি জেনেছিলেন। তিনি বলেছেন-

“আমি আমার জীবনে যত মানুষের সাথে কথাবার্তা বলে ইতিবাচক চিন্তার বিষয়ে শিখেছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো আমার বন্ধু গ্লেন স্মোকি। স্মোকি পয়তাল্লিশ বছর ধরে সিমেট্রি এবং ফিউনারেল হোম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছে। যদিও এটি একটি বিরক্তিকর কাজের সেক্টর। কিন্তু স্মোকির ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। সে ইতিবাচক চিন্তার ডায়নামো! তাই আমি যখনই স্মোকির ফোন কল পাই, তখন দুর্দান্ত অনুভূতি হয় আমার। স্মোকি আমাকে জানিয়েছে- ‘মানুষ হচ্ছে স্পঞ্জের মতো। তার আশেপাশে যা-ই আসুক না কেন, তারা শুষে নেবে।’ তাই আপনি যদি ইতিবাচক মানুষের সাথে চলাফেরা করেন, তাহলে আপনি ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী হবেন। বিপরীতে আপনি যদি নেতিবাচক মানসিকতার মানুষের সাথে চলাফেরা করেন, তাহলে আপনি অবশ্যই নেতিবাচক মানসিকতার অধিকারী হবেন। আমাদের সঙ্গীদের স্বভাব দ্বারা আমাদের আচরণ প্রভাবিত হয়। আমরা ভালো কাজ করতে পারি, যদি ভালো মানুষের সাথে চলি। এমনকি আমাদের অনুভূতিও ভালো থাকে। একবার আমি স্মোকিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- ‘একজন নেতিবাচক মানসিকতার লোকের সাথে তোমার দেখা হলে কী করবে?’ জবাবে সে বলতো- ‘আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার সামনে থেকে চলে যাবো। তাকে বলবো, তোমার সাথে সাক্ষাৎ করে ভালো লাগলো। বিদায়। অতঃপর অন্য মানুষের কাছে চলে যাবো।’

এই কথা শোনার পর বিস্মিত হয়ে আমি ফের স্মোকিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- ‘তোমার কি কখনো কোন নেতিবাচক মানসিকতার কোন বন্ধু ছিলো?’
‘না।’ জবাবে বলেছিল সে।”

আপনারা সবাই চাইলে গ্লেন স্মোকির মতো করে নিজের জীবনকে পরিচালনা করতে পারেন। এতে করে মানসিক কোন চাপ আপনাদেরকে ছুঁতে পারবে না, আপনারা হয়ে উঠবেন আরো প্রোডাক্টিভ। দিনশেষে সবাই চায় নিজেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে। আর এটা করার জন্য গ্লেন স্মোকির স্পঞ্জ তত্ত্ব বেশ কার্যকর। জেফ কেলারের বন্ধু গ্লেন স্মোকি তো নিজেকে ভালো জায়গায় নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আপনারাও চেষ্টা শুরু করবেন কবে?

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

One response to “নেতিবাচক বন্ধু থাকার ক্ষতিকর দিকসমূহ……….”

  1. Forhad Ahmed Black Avatar
    Forhad Ahmed Black

    মনোমুগ্ধকর কিছু শিক্ষণীয় বিষয়…মেনে চলার চেষ্টা করব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *