ইতিবাচক মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হোন

‘আয়না কেবল মানুষের প্রতিচ্ছবি প্রদর্শন করতে সক্ষম। কিন্তু কোন মানুষ আসলে কেমন, তা জানা যায় তার সঙ্গীদের অবস্থা দেখে।’- দ্য লিভিং বাইবেল, প্রোভার্ব ২৭।

ওপরের কথাটি দ্বারা কী প্রমাণিত হয়? মূলত কথাটির মাঝে কোন বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে? আপনি যদি বুঝবান কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই এতক্ষণে বুঝে ফেলার কথা আপনার বন্ধু সার্কেলের ঠিক রাখার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে ওপরে উল্লেখিত বাইবেলের উদ্ধৃতিতে। আপনি আজকে যেমন হয়েছেন, যা হয়েছেন, তার অনেকখানি প্রভাবই আপনার বন্ধু সার্কেলের থেকে এসেছে। বন্ধু বলতে আমি তাদেরকেই বোঝাচ্ছি, যাদের সাথে আপনি সবচাইতে বেশি সময় কাটিয়েছেন, সত্যিকারার্থেই যারা আপনার সময়ের দখল নিয়েছিলো। এই মানুষগুলোর আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হয়েও আপনার স্বভাব গঠিত হয়ে থাকে। তাই তাদের ব্যাপারে খেয়াল করা জরুরী। মানুষের জীবনে ইতিবাচক বন্ধুদের প্রভাব কেমন হয়ে থাকে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়ার জন্য চলুন এখন একটি বালকের গল্প জানা যাক। যদিও গল্পের সেই বালক এখন আর বালক নন, তিনি এখন সফল একজন মানুষ। আশা করা যায়, এই গল্পের শেষে আপনারা ওপরের প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

ছেলেটির নাম মাইক। স্কুলে পড়ার সময় মাইক তার প্রতিবেশী কিছু ছেলেদের সাথে চলাফেরা করতো। স্বভাবে তারা ছিল বেশ চঞ্চল এবং নেতিবাচক মানসিকতার। তারা কখনোই ঠিকমতো পড়াশোনা করতো না। সামনের সীটে বসতো না। পেছনে বসে কেবল আড্ডা দিতো। এছাড়াও স্কুলের বারান্দার সামনে বসে গাড়ির আসা যাওয়া দেখাই ছিল তাদের কাজ। তাদের ছিলো না কোন লক্ষ্য, ছিল না কোন স্বপ্ন। উদ্যেশ্যহীন এক জীবন নিয়ে তারা চলতে থাকতো। মানসিকভাবে তারা প্রত্যেকেই ছিল নেতিবাচক। মাইক যখন তাদেরকে ব্যতিক্রম কিছু করার জন্য বলতো, তখন তারা মাইককে হতাশ করে দিতো। উৎসাহ দেয়া তো দূরে থাকুক, বরং ‘এটা ভালো নয়’ ‘এই কাজ করা অসম্ভব’ ‘তুই করবি এসব কাজ!’- এসব কথাবার্তা বলে তাকে ব্যঙ্গ করতো। কিন্তু তবুও মাইক তাদের সাথেই চলতো। তাই সে নিজেও ওই দলের একটা অংশ হয়ে গিয়েছিল।

এরপর বেশকিছু বছর কেটে গেলো। মাইক যখন কলেজে উঠলো, তখনও সে নেতিবাচক ছেলেদের সাথে চলাফেরা করতো। হঠাৎ সে কিছু ইতিবাচক ছাত্রদেরও সঙ্গ লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলো। সেসব ছেলেদের সুন্দর লক্ষ্য ছিল, ইতিবাচক মানসিকতা ছিলো। তারা নানা কিছু অর্জনের স্বপ্নে বিভোর ছিলো। নতুন স্বভাবের এই ছেলেগুলোর সাথে সময় কাটিয়ে মাইক খুব ভালো লাগা বোধ করলো নিজের মাঝে। সে তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করলো এবং নিজের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করলো। এরপর নিজের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য কাজ করতে শুরু করলো। পরবর্তী সময়ে মাইক আর কখনোই পূর্বের নেতিবাচক মানসিকতার দলটির সাথে সময় কাটায়নি। নতুন করে যেই ইতিবাচক মানুষগুলোর দেখা পেয়েছিলো, তাদেরকে নিয়েই সময় কাটাতো। আজ আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই, মাইক এখন একটি ভিডিও প্রোডাকশন কোম্পানির পরিচালক এবং তার একটি সুখী পরিবার রয়েছে। এছাড়াও সে নিজের জন্য আরো লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং সেগুলো পূরণ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে তার স্বপ্ন পূরণও হচ্ছে। পরবর্তীতে মাইকের পূর্বের স্কুল বন্ধুদের ব্যাপারে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, জবাবে সে বলেছিলো- ‘আমি এখনও আমার সেই প্রতিবেশী বন্ধুদের সাথেই বসবাস করি। তারা এখনও আগের মতোই আছে। তাদের মানসিকতা এখনও আগের মতোই নেতিবাচক এবং তারা নিজেদের জন্য এখনও কিছু করতে পারেনি।’ মাইক আরো জানিয়েছিলো- ‘আমি আমার সব ইতিবাচক বন্ধুদের কথা আজীবন মনে রাখবো। তারা না থাকলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না। আমি হয়তো প্রতিবেশী বন্ধুগুলোর মতই আজীবন এক কোণে পিনবল খেলা এক ব্যক্তি হয়েই থাকতাম।’

মাইকের জীবনের গল্প আশা করি আপনাদেরকে ওপরের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন ইতিবাচক বন্ধুরা আমাদের জীবনে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়। অতএব, সবসময়ই ইতিবাচক বন্ধুদেরকে কাছে টানুন, তাদের সাথেই সময় কাটান। একদিন ঠিক ভালো কিছু করতে পারবেন। আপনার জন্য শুভকামনা।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

One response to “ইতিবাচক মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হোন”

  1. Forhad Ahmed Black Avatar
    Forhad Ahmed Black

    আমাদের সবার জীবন সুন্দর সহজ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *