নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করুন

ডটি বারম্যানের নাম শুনেছেন আপনারা? কেউ কেউ হয়তো শুনেছেন, আবার কেউ কেউ শোনেননি। নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে কিছু করার দুর্দান্ত একটি উদাহরণ হচ্ছেন ডটি বারম্যান। তিনি প্রায় বত্রিশ বছর নিউইয়র্কের একটি হাই স্কুলে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন। দশ বছর বয়স থেকেই ডটি শো বিজনেস নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এসব নিয়ে অতটা সিরিয়াস হননি তিনি। নিজের নিরাপত্তা এবং ক্যারিয়ার কথা চিন্তা করে শেষমেশ শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গান লিখতেন এবং সেগুলো গাইতেন। এটা তখন কেবল তার শখ। কিন্তু তিনি নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে ডটি বারম্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করে পারফর্মার হিসেবে কাজ করতে চাইলেন। যেই ভাবনা, সেই কাজ। ১৯৮৮ সালের শেষদিকে ডটি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তার রেজিগনেশন লেটার সাবমিট করলেন। তারপরই আসল ভয় তাকে কাবু করলো। অপরিচিত একটা কাজে তিনি এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে, পুনরায় নিজের রেজিগনেশন লেটার প্রত্যাহার করে নেন এবং শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান।

কিন্তু কিছু একটা ডটির ভেতরে তার স্বপ্নকে জীবিত রেখেছিলো। সেটির সাহায্যে ডটি বারম্যান নিজের ভয়কে জয় করেন এবং ঠিক ছয়মাস পর ১৯৮৯ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে পুনরায় অবসর গ্রহণ করেন। ঐ সময় তার বয়স ছিল পঞ্চাশ বছর! ১৯৯২ সালে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে পারফর্ম করার জন্য গড়ে তোলেন এবং নিজের একক মিউজিক্যাল শো এর মাধ্যমে শো বিজনেসের জগতে প্রবেশ করেন। তার ঐ শো’টি ছিল ভয়কে জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণের বিষয়ে।

এবং ১৯৯৮ সালের বসন্তে, ষাট বছর বয়সে ডটি বারম্যান তার চমৎকার সিডি প্রকাশ করেন ‘আইম ইন লাভ উইথ মাই কম্পিউটার’ শিরোনামে। এ্যালবামটিতে বেশকিছু অনুপ্রেরণামূলক গান রয়েছে। একই গান তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন জায়গায় গেয়েছেন এবং ধারাবাহিকভাবে বহু অনুষ্ঠানে নিজের গান এবং গল্প নিয়ে বলেছেন। এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডটি বারম্যান জানিয়েছিলেন, তার ক্যারিয়ারের এই রূপান্তর আসলে খুব ঝামেলা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে হয়েছিলো। প্রশ্ন জাগে, এসবের ফলে তিনি আসলে কোন ফায়দা পেয়েছিলেন? অবশ্যই পেয়েছিলেন। এরই উত্তর পেয়েছিলাম আমি তার পরবর্তী কথায়। তিনি বলেছিলেন- ‘আমি আমার জীবনে কখনো এতটা সুখী হতে পারিনি, যতটা সুখী হয়েছিলাম নিজের স্বপ্নের পথে বিচরণ করার দ্বারা।’

একটা সময় ডটির ছিলো নিশ্চিত ক্যারিয়ার। শিক্ষক হিসেবে নিরাপদ জীবন কাটাতে সক্ষম ছিলেন তিনি। কিন্তু গায়ক হিসেবে তার ক্যারিয়ার কখনোই নিশ্চয়তার মুখে ছিলো না (নিশ্চয়তা তাকে তৈরি করে নিতে হয়েছিলো)। নিজের জীবনের নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য ডটি বারম্যানকে বেশ খাটুনি খাটতে হয়েছিলো। তবুও তার সার্থকতা কোথায় জানেন? ডটি বারম্যান নিজের স্বপ্নের কাজটিকেই শেষ পর্যন্ত নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পেরেছিলেন। নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা ও সেটির নাগাল পাওয়ার কাজটি সবাই করতে পারে না। খুব কম মানুষই রয়েছে পৃথিবীর বুকে, যারা নিজের স্বপ্নের কাজটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়ে সফল হয়েছে। আপনি যদি সেই মানুষগুলোর মাঝে একজন হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে অভিনন্দন। আর যদি আপনি চান নিজের স্বপ্নকে পূরণ করতে, তাহলে বলবো- নিজের স্বপ্নের পথেই হাঁটুন! নিজের স্বপ্ন পূরণ করার মাঝে যতো সুখ রয়েছে, অন্যকিছুতেই তা নেই।

 

লেখা- ত্বাইরান আবির (লেখক/অনুবাদক/কনটেন্ট রাইটার)

তথ্য সংগ্রহ- জেফ কেলার বুকস

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *