অধ্যাবসায় জারী রাখুন, যদি সফল হতে চান!

একবার দু’জন ব্যক্তি মিলে একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পের বই লিখলো। বইটি তারা ভালোমতোই লিখে শেষ করলো। এবার প্রকাশ করার পালা। কেননা অপ্রকাশিত লেখার কোন মূল্য দিনশেষে নেই। তো লেখা শেষ করার পর তারা প্রকাশকের কাছে গেলো বইটি ছাপানোর জন্য। প্রকাশক বললেন- আপনারা পান্ডুলিপি জমা দিন। আমি পান্ডুলিপি পড়ার পর সিদ্ধান্ত জানাবো। ঐ দুই লেখক এরপর প্রকাশকের কাছে পান্ডুলিপি জমা দিলেন। কিন্তু পান্ডুলিপি জমা দেয়ার পরও কোন কাজ হলো না। প্রথম প্রকাশক বললো- ‘না, এটা ছাপানো যাবে না।’ দ্বিতীয় প্রকাশকও একইভাবে বললো- ‘না, বইটি ছাপানোর মতো নয়।’ যথারীতি তৃতীয় প্রকাশকও না করে দিলো। এভাবে চলতে চলতে ত্রিশজন প্রকাশকের দ্বারে গেল তারা। কিন্তু প্রত্যেকেই না করে দিলো। এমনকি তেত্রিশ নাম্বার প্রকাশকও তাদেরকে বইটি প্রকাশ না করে ফিরিয়ে দিলো। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আবার নতুন একজন প্রকাশকের কাছে গেলো এবং চৌত্রিশ নাম্বার প্রকাশক, আমি আবারও বলছি, চৌত্রিশ নাম্বার প্রকাশক বইটি ছাপানোর জন্য রাজি হলেন! আর এই বইটি হলো ‘চিকেন সুপ ফর সোল’। বইটির লেখক ছিলেন যথাক্রমে ম্যাক হ্যানসেন এবং জ্যাক কানফিল্ড। প্রকাশের পরপরই বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আপনি যদি গত পাঁচ বছরে বইয়ের দোকানগুলোতে নিয়মিত ঢুঁ মারা ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত এই বইটি দেখে থাকতে পারেন। এমনকি আপনি হয়তো এরই মধ্যে উক্ত বইটি পড়েছেন এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বইটি পুরো বিশ্বজুড়ে ত্রিশ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে! এর একমাত্র কারণ হচ্ছে জ্যাক কানফিল্ড এবং ম্যাক হ্যানসেনের সীমাহীন ধৈর্য্য এবং তারা তাদের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল যতক্ষণ না সফল হয়। তেত্রিশ বার ব্যর্থ হবার পর চূড়ান্ত ব্যর্থতা হতে কীসে রক্ষা করলো জ্যাক কানফিল্ড এবং ম্যাক হ্যানসেনকে? নিঃসন্দেহে বলা যায়, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

যদি এই মানুষগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হতো, তাহলে তারা প্রথমবার ব্যর্থ হবার পরই হাল ছেড়ে দিতো। কিন্তু তারা তা করেনি। একবার, দুইবার এবং তিনবার……..এভাবে বহুবার ব্যর্থ হবার পরও নিজেদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমুন্নত রেখেছিল। ব্যর্থতার পরে ব্যর্থতা এসেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে টলাতে পারেনি। দিনশেষে ফলাফল কী? তারা বিশাল আকারের সাফল্য পেয়ে গেল এবং এটা ভবিষ্যতে আরো বাড়তেই থাকবে। একইভাবে আপনারও কাজ করা উচিত। কখনো কখনো আপনার জীবনে ব্যর্থতা চরম আকারে এসে থাকে। দেখা যায়, একটি কাজ করতে গিয়ে বারবার চেষ্টা করেও আপনি সফল হতে পারেন না। এমতাবস্থায় বেশিরভাগ মানুষই হাল ছেড়ে দিয়ে থাকে। কিন্তু আমার পরামর্শ থাকবে- কখনোই হাল ছাড়বেন না। হতাশ হয়ে নিজের পথচলা শেষ করে দেয়া মানে মরার আগেই মরে যাওয়া। তার চেয়ে ভালো হয়, শেষ হাসি হাসার আগ পর্যন্ত নিজের কাজ চালিয়ে যেতে থাকুন। কে বলতে পারে হয়তো আপনিও ম্যাক হ্যানসেন কিংবা জ্যাক কানফিল্ডের মতো বিশাল সাফল্য পেতে চলেছেন!

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *