ডেভিড ব্রুনোর জীবনে আলো ফেরার গল্প

১৯৮০ সালের কথা। ডেভিড ব্রুনাে তখন একটি মেডিসিন ইকুইপমেন্ট কোম্পানিতে কাজ করতো। তার স্ত্রী মারলিন এবং তিন সন্তান নিয়ে তাদের ছোট্ট সংসার ছিলো। সুন্দর সংসারের সবকিছুই বেশ ভালােভাবে চলছিলো। কিন্তু ১৯৮৪ সালে মারাত্মক একটি দূর্ঘটনা ঘটে যায় ব্রুনাের জীবনে। এরপর সবকিছুই তছনছ হয়ে যায়। চাকরীও হারাতে হয় ব্রুনোকে। চাকরী হারানাের ফলে সে ছিলো খুব হতাশ। কেননা, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছিলো তার ওপর। অধিকন্তু, মাসের পর মাস বেকার ছিলো সে। যার ফলে চূড়ান্ত মানসিক চাপ তাকে পেয়ে বসে। ঘটনাক্রমে একরাতে সে গাড়ি নিয়ে বাসায় ফিরছিলো। কিন্তু বাসার সামনে এসে তার গাড়ি উল্টে যায়। এতে মারাত্মক আহত হয় ব্রুনাে। তার শরীরের হাড় কয়েক জায়গায় ভেঙে যায়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। ডাক্তাররা তাকে দেখার পর তেমন আশাবাদী হতে পারেনি বেঁচে ফিরতে পারবে বলে। এমনকি ব্রুনাে নিজেও মনে করেনি সে বাঁচবে। কিন্তু রহস্যময়ভাবে তিনদিন টানা সার্বক্ষণিক চিকিৎসার ফলে ব্রুনাে বিপদ থেকে মুক্ত হয়। ডাক্তাররা ভেবেছিলো সৃষ্টিকর্তা হয়তো ব্রুনোকে দ্বিতীয়বার সুযােগ দিয়েছেন। কিন্তু বিপদ থেকে মুক্তি পেলেও হাসপাতালের বেডে ব্রুনোকে অনেকদিন থাকতে হয়েছিলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে। এমনিতেই ব্রুনো ছিল বেকার। তার ওপর এসে যুক্ত
হয়েছিলে এই বিপর্যয়। কী করবে সে বুঝতে পারছিলো না!

যাহোক, বহুদিন পর সে হাসপাতাল থেকে মুক্তি পায়। এরপর বাড়িতে গিয়ে অসহ্য এক জীবন নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে ব্রুনো। এর একটা বিহিত অবশ্য বের করেছিলো সে। পূর্বে সে কিছু বিষয় শিখেছিলো মােটিভেশন সম্পর্কে। ওগুলােই সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাইলাে। কিন্তু কীভাবে কাজটি সে করবে তা ভেবে পাচ্ছিলো না। এর চাইতে বড় ব্যাপার হলাে হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাবার পর তার সামনে আরাে সমস্যা এসে জড়াে হলো। হাসপাতালের খরচ, নিজের কাজের অক্ষমতা নিয়ে একটা মানুষ কতদূর এগিয়ে যেতে পারে আমাদের জানা নেই। তবে এটা সত্য, প্রতিটি বিপদ আমাদেরকে নতুন কিছু শিক্ষা দেয়। অনেকেই এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়লে আত্মহত্যা করে ফেলতাে! কিন্তু ব্রনাে তা করেনি। নিজেকে সে শক্ত রেখেছিলো। নিজের ভেতর অনুভব করেছিলো দুর্দান্ত এক শক্তি। আর তা দিয়ে বিপর্যয়কে কাটিয়ে উঠেছিলো সে। একসময় হাসপাতালের খরচ এবং নিজের সংসার চালাতে গিয়ে ব্রুনাে একেবারে দেউলিয়া হয়ে যায়। তার ব্যাঙ্ক একাউন্ট খালি হয়ে যায়, তাকে হারাতে হয় নিজের বাড়ি। শেষমেশ কোনরকম এক এ্যাপার্টমেন্টে জায়গা হয় তার এবং পরিবারের সদস্যদের। দারুণ ফর্মে থাকা একজন চাকুরীজীবির জীবনে এমন হতাশাজনক ছন্দপতন সত্যিই ভীষণ কষ্টদায়ক, তাও আবার ভাগ্যের ফেড়ে। তবুও ব্রুনাে সাহস হারায়নি। তার পরবর্তী কাজ ছিল নিজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে সচল রাখা। সেইসাথে সে মার্কেটিং ও প্রিন্টিং কীভাবে করা যায় এসব ব্যাপার শিখতে লাগলাে সে। এভাবেই একদিন হুট করে একটা আইডিয়া তার মাথায় এলাে। এবার সে তার ক্রেডিট কার্ড স্টকের ওপর তার লেখা একটি উক্তি প্রিন্ট করালাে। ঐ সন্ধ্যায় সে টিভিতে একটি ব্যবসায়িক গোল্ড কার্ডের ব্যাপারে জানতে পারলাে। তৎক্ষনাৎ সে চিন্তা করলাে, লােহার গােল্ড কার্ডের ওপর বিভিন্ন কোটেশন লিখে বিক্রি করলে মন্দ হয় না! এগুলাে
লােকজন সাথে করে নিয়ে যেতে পারবে যেখানেই যাক না কেন। যেই ভাবা সেই কাজ। ব্রুনাে গােল্ড কার্ডের ওপর নেতৃত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি, অধ্যাবসায় এবং সাহস ইত্যাদি বিভিন্ন টপিক নিয়ে কোটেশন লিখে বিক্রি করতে শুরু করে। এটা ছিল তার হাসপাতাল থেকে ফেরার পাঁচ বছর পরের কথা। এবং আমি আজ আনন্দের সাথে বলতে চাচ্ছি ব্রুনাে এই গােল্ড কার্ড দুই মিলিয়নেরও বেশি বিক্রি করেছে! ডেভিড ব্রুনাের এই কাহিনীই আমাদেরকে বিপর্যয় থেকে বিজয়ের ইঙ্গিত দেয়।

সারকথা- বিপদে হতাশ হবেন না।

জরুরী তথ্য সংগ্রহ- জেফ কেলার বুকস

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *