জোর করে কাউকে পরিবর্তন করা যায়?

অনেক সময় আমরা জোরপূর্বক মানুষের রুচি, পছন্দ পরিবর্তন করতে যাই। এটা আসলে ঠিক নয়। জোর করে কাউকে পরিবর্তন করা যায়? যায় না। আপনাকে এই ব্যাপারটা বুঝতে হবে। আপনি যতই চান না কেন, একজন মানুষ যদি নিজের উপলব্ধির জায়গা থেকে নিজেকে শুধরে না নেয়, তাহলে কখনোই আপনি তাকে পরিবর্তন করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে কেবল একটা বিষয় আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে, তা হচ্ছে- মানুষকে বোঝানো সমঝোতাপূর্ণ আচরণ করার মাধ্যমে। আপনি যখন নিজের মাঝে ভালো কিছু ধারণ করবেন, একজন মানুষের সামনে সেসব উপস্থাপন করবেন, তখন তারা আপনাকে অনুসরণ করে বদলে নেবে নিজেকে। আপনার তাকে বলতে হবে না। মানুষ যখন উপলব্ধি করতে পারবে তার জন্য কোনটা ভালো এবং কোনটা মন্দ, তখন তারা ভালোটাই নিজের জন্য বেছে নেবে, নিজে নিজেই। মানুষ অন্যের কথায় মন পরিবর্তন করে না, নিজের কথায় করে। আর এমনটা হয়ে থাকে মানুষের স্বভাবগত অহমিকার জন্য। মানুষ অন্যের কথা শুনতে চায় না, নিজের কথা শুনতে সে ভালোবাসে। যখন নিজের ভেতর থেকে পরিবর্তনের ডাক আসে, তখনই মানুষ পরিবর্তন হয়, অন্যের কথায় উল্টো মানুষের মনে জেদ তৈরি হয়। তাই কখনোই জোর করবেন না কাউকে, পরিবর্তন হওয়ার জন্য। সম্ভব হলে তাকে উপলব্ধি করানোর চেষ্টা করুন। তাছাড়া মানুষ খুব কম সময়ই নিজের মনকে পরিবর্তন করে থাকে। ভেতর থেকে মাত্রাতিরিক্ত আবেগতাড়িত না হলে কিংবা আহ্বান না শুনলে পরিবর্তন আসে না কারো। এ ব্যাপারে জেমস হার্ভে রবিনসন বেশ চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি নিজের লেখা বই ‘দ্য মাইন্ড ইন দ্য মেকিং’ এ যা বলেছেন, তা আপনাদের জন্যে তুলে ধরা হলো-

‘খুব কম সময়ই আমরা আমাদের মন পরিবর্তন করে থাকি। সচরাচর এসব হয় না। কোন একসময় হয়তো প্রচন্ড আবেগের কারণে আমরা নিজেদের মনকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হই। কিন্তু আপনি বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাবেন, বেশিরভাগ মানুষই যুক্তিসঙ্গত উপায়ে নিজের মনকে পরিবর্তন করে না। কেউ যদি তাদের ভুল ধরিয়ে দেয়, তবুও তারা নিজেকে ভুল মনে করে পরিবর্তন করবে না, এমনকি নিজে ভুল অবস্থানে থাকার পরেও। এমতাবস্থায় তারা নিজের মনকে আরো কঠিন জায়গায় নিয়ে যায়। আমরা সবসময়ই নিজের বিশ্বাস ও পছন্দ নিয়ে চলাফেরা করি। অপর ব্যক্তিরা আমাদেরকে কেমন পছন্দ ও বিশ্বাসের সন্ধান দিলো এবং সেসব আমাদের জীবনে কতটুকু প্রয়োজনীয়, আমরা তা বুঝতে চাই না। সত্যি বলতে আমরা অপরের পছন্দ ও বিশ্বাস যদি উৎকৃষ্টও হয়ে থাকে, তবুও কোনরকম পাত্তা দিতে চাই না। এতে করে আমাদের আত্মমর্যাদা নষ্ট হয়, অহমিকা অবনত হয়। আমরা চাই না এমন হোক। আমরা সবসময়ই নিজেকে নিয়েই থাকি। ‘আমার খাবার’ ‘আমার কুকুর’ ‘আমার বাড়ি’ ‘আমার বাবা’ ‘আমার দেশ’- এমন শব্দই জানান দেয় আমাদের জীবনে ‘আমার’ শব্দটি কতখানি প্রভাব ফেলে থাকে। জীবনের সর্বময় ‘আমার’ শব্দটি জুড়ে আছে। এসব ভেদ করে অন্যজনের কোনকিছুই নিতে পারি না। আমরা নিজেদের জীবনে নিজের মতো করে কাস্টমাইজড করা সত্য নিয়ে বাঁচি। অনেক সময়ই আমাদেরকে জোর করে নানা ব্যাপার বোঝাতে আসে মানুষজন। এসবের ফলাফল হিসেবে তর্ক ছাড়া আর কোন আউটপুট পাওয়া যায় না। তবে সমঝোতার ক্ষেত্রে কখনো কখনো ভিন্ন ফল তৈরি হয়। কেননা, সমঝোতাপূর্ণ আচরণই বোধ করি একমাত্র উপায়, যেটির কারণে আমরা ধীরে ধীরে অন্যের বিশ্বাস ও রুচির দিকে ঝুঁকে যাই।’

এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই? অবশ্যই আমাদের উচিত নয় কাউকে জোর করা, পরিবর্তন হওয়ার জন্য। বরং সমঝোতাই সকল কিছুর মূল।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *