যেভাবে তর্ক এড়িয়ে চলবেন…..

তর্ক করা একদম ভালো নয়। ভালো নয় মানুষকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকা। কিন্তু অনেকেই সবসময় এসবই করে থাকি। এই চেষ্টার ফলে আপনি প্রথমত বন্ধু হারাবেন, দ্বিতীয়ত শত্রু তৈরি হবে এবং তৃতীয়ত মানুষের বিদ্বেষের শিকার হবেন। তাই এসব করা থেকে বিরত থাকা উচিত আপনাদের। কিন্তু কীভাবে বিরত থাকবেন? কাজটি খুবই সহজ। চলুন জেনে নেয়া যাক-

ভিন্নমতকে স্বাগত জানান। এই স্লোগানটি মনে রাখুন- ‘সকল সময়ে সঙ্গী যখন পাশে, তখন সব কাজে দু’জনের একমত হওয়া জরুরী নয়।’ কখনো কখনো আপনার সঙ্গীর সাথে আপনার মতের মিল হবে না। আপনি যদি এক কথা বলেন, তাহলে আপনার সঙ্গী অন্য কথা বলবে। এসব নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনার সাথে থাকা অপর মানুষটিকে তাই কখনো ভুল প্রমাণ করতে যাবেন না সরাসরি। যদি আপনি তাকে বুঝিয়ে নিজের পক্ষে আনতে পারেন, তাহলে বেশ ভালো। আর যদি না পারেন, তাহলে কোনভাবেই তার সাথে তর্ক করতে যাবেন না। মনে রাখবেন, তর্ক করবেন তো নিজেকে ভুল জায়গায় নিয়ে যাবেন।

কখনোই নিজের মতকেই সম্পূর্ণ সঠিক হিসেবে বিশ্বাস করে বসে থাকবেন না। আপনার বিশ্বাসে এই অটল অবস্থানে থাকার কারণেই মূলত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। আপনি যখন সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ সঠিক মনে করতে থাকেন, তখন আপনার মন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তৈরি হয়ে যায় অপরজনকে ভুল প্রমাণ করার জন্য। এমনও হতে পারে আপনি নিজেই ভুল জায়গায় অটল রয়েছেন। তাই শুরুতেই কোনরকম দ্বন্দ্বে না গিয়ে সতর্ক হোন, নিজের কথা ও কাজ নিয়ে চিন্তা করুন। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। আমাদের মাঝে বহু মানুষ ঠিক এই কাজটিই করতে পারে না। কেউ যদি নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে কোনভাবেই তার সাথে সহজে মানুষের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় না। রাগ নিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা ও নিজের দম্ভের বহিঃপ্রকাশের মানসিকতা থেকেই সকল ধরণের ঝামেলা বেঁধে থাকে।

প্রথমে মনোযোগ সহকারে মানুষের কথা শুনুন। আমরা সবসময়ই নিজে কথা বলতে বেশ পছন্দ করে থাকি। কিন্তু মানুষের কথা শোনার ক্ষেত্রে আমাদের ধৈর্য্য কতটুকু থাকে? বেশিরভাগ মানুষই অপর মানুষের কথা শোনার ধৈর্য্য রাখতে পারে না। এটা মোটেই আমাদের জন্য ভালো সংবাদ নয়। আপনাকে অবশ্যই অপর মানুষটির কথা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। আপনাকে বুঝতে হবে সে আসলে কী বোঝাতে চাইছে, আপনাকে জানতে হবে ঠিক কোন কারণে সে আপনার মতের সাথে একমত নয়। এসব যদি আপনি ঠিকমতো জানতে পারেন, তাহলে আপনাদের মাঝে তর্কের সম্ভাবনা একেবারেই কমে যাবে।

নিজেদের একমত হওয়ার দিকগুলো খুঁজে বের করুন। আপনার সাথে কাজ করা, সময় কাটানো কিংবা চুক্তিবদ্ধ হতে যাওয়া মানুষের হয়তো দুয়েকটা বিষয় থাকতে পারে একমত না হওয়ার। কিন্তু এমন অনেক দিক রয়েছে যেগুলোর সাথে আপনার ও তার মাঝে মিল রয়েছে। যেকোন বিষয়ে নিজেদের মাঝে সাদৃশ্য খুঁজে বের করুন। সাদৃশ্যের দিকেই ফোকাস করুন। আপনি যত বেশি মিলগুলো খুঁজে বের করবেন, তত বেশি নিজেদের মাঝ থেকে তর্ক নামক শব্দটি দূর করতে সক্ষম হবেন।

সৎ থাকুন, সততার সাথে যেকোন ব্যাপারে মতামত দিন। প্রশংসা করুন। আপনার নিজের মাঝে কোন ভুল আছে কিনা এসব খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এতে করে অপরের প্রতি বিদ্বেষভাব কিংবা কাউকে আঘাত করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবেন। অনেকেই সত্য কথা না জেনে কিংবা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নিশ্চিত সত্য না জেনেও নিজের কথার ওপর অটল থাকে। এই কাজ মোটেই করা চলবে না। অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কখনোই কারো সাথে তর্কে জড়িয়ে যাবেন না।

প্রতিপক্ষের আইডিয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন। আপনার অপোজিটে থাকা মানুষ কেন, কোন দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের সুনির্দিষ্ট দাবি করলেন এসব নিয়ে ভেবেচিন্তে আপনাকে সিদ্ধান্ত বের করতে হবে। আপনি যদি সবকিছু বিবেচনা করতে থাকেন, তাহলে কোন না কোন যোগসূত্র খুঁজে পাবেন তার প্রতিটি কথা বলার পেছনে। এমনকি একটা সময় আপনার বিপরীতে থাকা মানুষকেও সঠিক বলে মনে হতে পারে আপনার। এমনটাই হয়ে থাকে আসলে। অনেক সময় আমরা নিজেদের বাইরে গিয়ে বিপরীত মানুষটির কথা একেবারেই চিন্তাভাবনা করি না। আর এটাই আমাদেরকে অপর মানুষকে ভুল প্রমাণ করার মানসিকতা গড়ে দেয়, যা মোটেই ভালো নয়। আপনার বিপরীতে থাকা মানুষ যেন কখনোই বলতে না পারে- ‘তুমি কেবল বলেই যাচ্ছো, কিন্তু আমার কোন কথা শুনছো না।’ ঠিক এ কারণেই আপনাকে সব চিন্তাভাবনা করতে হবে।

আপনাকে শুরুতে নিজের দিকটা বিবেচনা করা বাদ দিতে হবে। তারপর বিপরীত মানুষটির কথা চিন্তা করতে হবে প্রথমেই। সবকিছু ভেবেচিন্তে একটা বিশ্লেষণ দাঁড় করাতে হবে আপনাকে। এই কাজটি করার ক্ষেত্রে আপনি নিজেকে বেশকিছু প্রশ্ন করতে পারেন-

আমার বিপরীত মানুষটি কি সঠিক? আংশিক সঠিক? তাদের অবস্থানে অটল থাকার মাঝে কোন সত্যতা কিংবা যুক্তি রয়েছে? আমি নিজে যেই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি, এসব কি সমস্যা দূর করবে নাকি আরো হতাশা তৈরি করবে? আমার প্রতিক্রিয়া কি দু’জনকে দূরে সরিয়ে দেবে বাকি আমাদেরকে আরো কাছে টানবে? আমার প্রতিক্রিয়া কি আমাদেরকে আরো ভালো মানুষের সাথে ইন্টারএ্যাকশন তৈরি করতে সাহায্য করবে নাকি সবাই আমাদেরকে ছেড়ে দূরে চলে যাবে? আমি কি জিতবো নাকি হারবো? আমি কী পাবো নিজের অবস্থানের জন্য? আমি কি চুপচাপ হয়ে যাবে নাকি মতের অমিল নিয়ে ঝগড়া করবো? তর্ক কি আমার নিজের জন্য কি এটা কঠিন পরিস্থিতি নাকি সুবিধা তৈরি করবে?

জ্যান পিয়ার্স নিজের বিয়ের পঞ্চাশ বছর কাটানোর পর একবার বলেছিলেন- ‘আমার স্ত্রী ও আমি একদিন একটি চুক্তি করেছিলাম। এই চুক্তি হচ্ছে- আমাদের দু’জনের মাঝে কে কত রাগান্বিত হবো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে, এসব কোন ব্যাপার না। এসব নিয়ে যখন একজন নিজের রাগ ঝাড়বে, আরেকজন চুপচাপ বসে শুনবে। দু’জনই যদি চিৎকার চেঁচামেচি করে তাহলে সেখানে যোগাযোগের কোন রাস্তা থাকে না। কেবল চিৎকার চেঁচামেচি হবে এবং দ্বন্দ্ব বাড়বে।’

তথ্যসূত্র- হাউ টু ইনফ্লুয়েন্স ফ্রেন্ডস এ্যান্ড পিপল/ডেল কার্নেগী/ত্বাইরান আবির

© ত্বাইরান আবির

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *