বিশ্বাস যেভাবে বদলে দেয় আপনার স্মৃতিশক্তির দক্ষতা

আপনার বিশ্বাস, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের সঠিক ব্যবহার না হওয়ার কারণে আপনার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হতে পারে। কখনো কখনো আপনি সীমাবদ্ধ নানা বিষয়কেই সত্য বলে মেনে নেন। একটা বাস্তবতা হচ্ছে- পৃথিবীর বুকে বহু লোকই তাদের ক্ষমতার পূর্ণ স্বাদ নিতে পারেনি। কারণ, তারা নিজেদেরকে গুটিকয়েক বিষয়ের ওপর আবদ্ধ করে রেখেছিলো এবং সেগুলো নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলো। আপনাদেরকে একটি প্রশ্ন করা যাক- কী হবে যদি নিজের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সুপ্ত প্রতিভা নিয়ে আপনার নেতিবাচক ধারণাগুলো মোটেও সত্য না হয়? নেতিবাচক ধ্যানধারণা বাদ দিলে কেমন হতেন আপনি? কোন জায়গায় নিজেকে নিতে পারতেন এসব নিয়ে কখনো ভেবেছেন? ভাবেননি। রিচার্ড ব্যান্ডলার বলেছেন- বিশ্বাসের সত্য মিথ্যা বলতে কিছু নেই। বিশ্বাস বিশ্বাস ই। বিশ্বাসই আমাদের আচরণের পথপ্রদর্শক।’ আমরা সবসময়ই যা বিশ্বাস করি সেটার পক্ষে লড়ি। যদি আপনি বিশ্বাস করেন আপনার স্মৃতিশক্তি খুবই বাজে, তাহলে আপনার কর্মপন্থা ও আচরণ এই বিশ্বাসের ওপরই পরিচালিত হবে। আবারো বলছি- যে কাজে আপনি মনযোগ দেন, আপনার অন্তর্নিহিত শক্তি সেদিকেই প্রবাহিত হয়।

যদি আপনি স্মৃতিশক্তির উন্নতি করতে চান, তাহলে আপনাকে এমন একটা আস্থা নিজের ভেতর তৈরি করতে হবে যা আপনার এই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ধরুন- পৃথিবী- ১ ও পৃথিবী-২ নামে দুটি গ্রহ আছে। গ্রহগুলো একই রকম। কিন্তু আয়তনে ভিন্নতা আছে। পৃথিবী-১ এ বাস করেন মিস্টার ‘এ’ এবং মিস্টার ‘বি’ বাস করেন পৃথিবী-২’ এ। তারা দুজন দেখতে একই রকম, একই ভাষায় কথা বলেন, একই পরিবেশে থাকেন, একইভাবে শিক্ষা গ্রহণ করেন। এমনকি দুজনের মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর গতিবিধিও একরকম। সবই এক, ভিন্নতা নেই। কেবল একটা জিনিস ওনাদেরকে আলাদা করেছে নিজেদের থেকে। মিস্টার ‘এ’ বিশ্বাস করেন তার স্মৃতিশক্তি একেবারেই বাজে। লোকজনকে তিনি সবসময় বলেন-

১। সব জায়গায় আমার খেয়াল থাকে। যেন আমার মনটা ক্যাঙ্গারুর ন্যায় ঘুরছে।
২। আমি সবসময়ই নানা বিষয় ভুলে যাই।
৩। কারো কারো নামও ভুলে যাই মাঝে মধ্যে।
৪। দিনকে দিন আমার স্মৃতিশক্তি আরো বেহাল হচ্ছে।
৫। আমার মাথা পুরোপুরি ভর্তি। আমি আর কোন তথ্য নিতে পারছি না।
৬। আমার স্মৃতি একেবারে চালনীর মত । সবই তলা দিয়ে বের হয়ে যায়। এতো বেশি বেশি নতুন কিছু শিখতে যেও না। মাথা নষ্ট হবে।
৭। আমি একটা গর্দভ।

মিস্টার ‘এ’ শিখতে ভালোবাসেন না। কোনকিছু মনে রাখাটাও তার পছন্দ না। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন তিনি ভুলে যাবেন। অপরদিকে, মিস্টার ‘বি’ বিশ্বাস করেন তার স্মৃতিশক্তি চমৎকার, বলতে গেলে অসাধারণ। তিনি সবসময় বলেন-

১। আমি সবসময় নির্দিষ্ট কাজে লক্ষ্যস্থির করতে পছন্দ করি, অনেকটা লেজার বিমের মত।
২। স্মৃতিশক্তির পরিধি বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
৩। আমি কতটা মনে রাখতে পারি দেখুন- আমার মস্তিষ্কে লক্ষ লক্ষ স্মৃতি জমা।
৪। দিনকে দিন আমার স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটছে।
৫। আমি সবকিছুর নাম মনে রাখতে ভীষণ আগ্রহী।
৬। আমি মেধাবী।
৭। আমার স্মৃতি অধিক তথ্য ধারণ করতে সক্ষম এবং প্রয়োজনের সময় সেসব মনে করাও সম্ভব। এটা ঠিক একটা কন্টেইনারের মত। আমি যতটা রাখবো, ততটাই ধারণ করতে পারবে।

মিস্টার ‘বি’ শিখতে ভালোবাসেন। সবকিছু মনে রাখতে ও চর্চা করতে পছন্দ করেন। এখন, এদের দুজনের মাঝে কার স্মৃতিশক্তি বেশি উন্নত হবে বলুন তো? অবশ্যই মিস্টার ‘বি’ এর স্মৃতি। মিস্টার ‘এ’ এবং মিস্টার ‘বি’ এর মধ্যে পার্থক্য কেবল তাদের ‘বিশ্বাস’। আপনার কী মনে হয়? দুজনের মধ্যে কার বিশ্বাস সঠিক?’ উত্তরটা আমিই দিচ্ছি। তারা দুজনেই সঠিক। আমরা সঠিক নাকি বেঠিক এটা বলে দেয় আমাদের চিন্তা। মিস্টার ‘এ’ এবং মিস্টার ‘বি’ দুজনেরই একটা বিশ্বাস আছে এবং সেগুলোর পক্ষে যুক্তি দেবার মত উপাদানও আছে। একমাত্র পার্থক্য হলো- মিস্টার ‘এ’ এর লক্ষ্য নেতিবাচক ও অক্ষমতার দিকে ধাবিত। তিনি নিজেকে ব্যর্থতার পথে নিয়ে গেছেন। কিন্তু মিস্টার ‘বি’ এর লক্ষ্য ইতিবাচক এবং দক্ষ। তিনি নিজেকে সফলতার পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। মিস্টার ‘এ’ এবং মিস্টার ‘বি’ দুজনেই নিজ নিজ বিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছেন। বাহ্যিক কোন প্রভাবের ফলে তারা এমন হননি, সবই অন্ত নিহিত ব্যাপার। আমাদের সবারই নিজ নিজ লক্ষ্য নির্ধারণে স্বাধীনতা আছে। আমরা যে বিষয়ে লক্ষ্যস্থির করবো সেসব বিষয়েই আমাদের বিশ্বাসগুলো জড়ো হবে। বিশ্বাস হলো নিশ্চিত এক অনুভূতি। এবং আপনি যা বিশ্বাস করেন, আপনি তা ই হবেন।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *