ঝামেলা এড়িয়ে যেভাবে ভালো থাকবেন…

আপনার জীবনে দৃষ্টিভঙ্গি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা হয়তো আপনি বুঝতে পারেন না। দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সেই জায়গা, যার সাহায্যে আপনি নিজের পৃথিবীকে সুন্দর করে তুলতে পারেন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই নিজেকে নিয়ে সফলতার দিকে এগোতে পারবেন। কিন্তু আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যদি নেতিবাচক হয়, তাহলে ব্যর্থতা আপনাকে শেষ করে দেবে। তাই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অবশ্যই আপনাকে সচেতন হতে হবে। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে আপন পৃথিবীকে দেখার জানালা কিংবা চোখের ন্যায়। আপনি এই জানালা থেকে নিজের চোখ ব্যবহার করে যা চান, সবই দেখতে পাবেন। আপনি যেকোন ঘটনাকে ভালো চোখে দেখতে পারেন, আবার খারাপ চোখেও দেখতে পারেন, সবই নির্ভর করে আপনার ওপর। এমনকি আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে কীভাবে আপনি আপনার নানা বিষয় নিয়ন্ত্রণ করছেন। চলুন এ সম্পর্কে একটি ঘটনা জানা যাক।

ঘড়ির কাটায় দুপুর একটা বেজে কিছু সময় পেরিয়েছে। খুব খিদে পেয়েছে সারাহ’র। সকাল থেকে কয়েক ঘন্টা একটানা কাজ করার ফলে ক্লান্ত হয়ে গেছে সে। পাশাপাশি খিদেও পেয়েছে খুব। তাই সে নিকটস্থ একটি কফিশপে কফি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাে। যেই ভাবা সেই কাজ। হাঁটতে হাঁটতে কফিশপে পৌঁছে গেল সে। কয়েক মিনিট পর একই কফিশপে তার সহকর্মী স্যাম প্রবেশ করলাে। সে নিজেও দুপুরের খাবারের বিরতি পেয়েছে। সারার টেবিল থেকে কয়েক ফিট দূরের একটি টেবিলে বসলাে স্যাম। ঐ বিকেলে একই ওয়েট্রেস স্যাম ও সারার খাবার পরিবেশন করেছিলো। দুজনে প্রায় একই সময়ে খাবার হাতে পেয়েছিল। দুজনকেই
সুন্দরভাবে খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল এবং দুজনেই সমপরিমাণ সময় অপেক্ষা করেছিল হাতে বিলের চেক আসার পূর্ব পর্যন্ত। সবকিছু মিলে গেলো, তাই না? কিন্তু এখানেই সব মিলে যাওয়ার শেষ হলাে। এরপর আর কিছু মিললাে না। খাবার শেষ করে সারা হাসিমুখে হেঁটে কফিশপ থেকে বেরিয়ে গেলো। তার চোখেমুখে ইতিবাচকতার ছাপ ছিল। সবার কাছে তাকে ভালােই দেখাচ্ছিলাে। তার শরীরি ভাষা ও চলনবলনে ছিল গতিময়তা। সারা ভালাে খাবার খেয়েছিলো এবং খাবার শেষ করে ওয়েট্রেসের সাথে সুন্দরভাবে কুশল বিনিময় শেষ করে নিজের কাজে চলে গিয়েছিলো।

বিপরীতে স্যাম কফি হাউজ ছাড়লাে মুখ গােমড়া করে। চেহারা দেখে মনে হচ্ছিলাে যেন সারাটা সকাল সে টক জাতীয় কিছু খাবার খেয়েছে। সে নিস্তেজ
হয়ে গিয়েছিলো এবং তাকে চিন্তিত দেখাচ্ছিলাে। তার শরীর যেন সবাইকে বলছে- আমার কাছ থেকে দূরে থাকো! ওয়েট্রেস তার খাবারের অর্ডার তৎক্ষনাৎ না আনাতে স্যাম তার (ওয়েট্রেস) প্রতি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। সে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলো খাবার আনতে দেরী হওয়াতে, যদিও সারাও দেরীতে খাবার পেয়েছিলো একই সময়ে। এটা নিয়ে সারা কোন অভিযোগ করেনি। কিন্তু স্যাম খাবার এবং তার চেক সময়মতাে হাতে না আসা নিয়ে অভিযােগ করলাে।

এবার একটু লক্ষ্য করুন। সারাহ এবং স্যাম দুজনেই খাবার খেতে এসেছিল। তাদের দুজনকেই একই সময়ে খাবার দেয়া হয়েছিল, একই আচরণ
করা হয়েছিল। তাহলে দুজনের আচরণে কেন এত ভিন্নতা? এর কারণ হচ্ছে- সারা পৃথিবীকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে এবং স্যাম দেখে নেতিবাচক
দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এই কারণে দেরী হওয়া সত্ত্বেও সারা ওয়েট্রেসকে কিছু বলেনি, মুখ গোমড়া করে রাখেনি। ‘নিশ্চয়ই কোন না কোন কারণে খাবার আনতে দেরী হয়েছে’- এমনটাই ছিলো সারার ধারণা। তাই সে ঝামেলা বাঁধিয়ে নিজের সময়টুকু খারাপ করতে চায়নি। কিন্তু স্যাম মন খারাপ করে উল্টো নিজের মুহূর্তটাকেই নষ্ট করে দিয়েছিলো। ঠিক এমনটাই হয়ে থাকে- যখন আপনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নেতিবাচক করে তোলেন।

তাই পরামর্শ থাকবে- যদি সফল হতে চান, তাহলে নিজেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী করে তুলুন।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *