নেটওয়ার্কিং করার গুরুত্ব!

সফল হওয়ার জন্য একজন মানুষের জীবনে নেটওয়ার্কিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। নেটওয়ার্কিংয়ে সফল একজন ব্যক্তি নিজের যোগ্যতা দিয়ে অন্য আরেকজন ব্যক্তির চেয়ে দ্রুত সফলতা লাভ করতে পারে, যার নেটওয়ার্কিং জোন শক্তিশালী নয়। এ ব্যাপারে একটি ঘটনা জানাচ্ছি আপনাদেরকে।

১৯৯০ সালের শেষ দিকের কথা। জেফ কেলারের সাথে ফ্রিল্যান্স কপিরাইটার শু ক্যামেনের সাথে দেখা হয়েছিলো। কথাবার্তা বলার পর তাদের মাঝে তৈরি হয়েছিল দারুণ এক সম্পর্ক। পরবর্তীতে তা জেফ কেলারের ব্যবসাকে প্রভাবিত করেছিল, এনে দিয়েছিলো উল্লেখযোগ্য সফলতা।

জেফ কেলারের সাথে যখন পরিচয় হয়েছিলো, শু ক্যামেন তখন থিংক এ্যান্ড গ্রো রিচ নিউজলেটারের কন্ট্রিবিউটিং রাইটার। থিংক এ্যান্ড গ্রো রিচ নিউজলেটারের প্রথম পাতায় তিনি কেলারের জীবন কাহিনী নিয়ে লিখতে চাইলেন। অর্থাৎ, জেফ কেলার কীভাবে আইনজীবী থেকে মোটিভেশনাল স্পিকার হয়েছিলেন, এটা নিয়ে লিখতে চাইলেন শু ক্যামেন। কেলার তাকে তার কাজে সহায়তার জন্য একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলেন। চুক্তিটি এমন ছিলো যে— শু ক্যামেনের কতৃপক্ষ তাদের পাবলিকেশন হাউজ থেকে ‘এটিচিউড ইজ এভরিথিং’ এর সকল পণ্য বিক্রি করবে। শু ক্যামেনের মালিকপক্ষ এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলো। এরপর থেকে তাদের দ্বারা হাজার হাজার আইটেম বিক্রি হয়েছিল জেফ কেলারের প্রতিষ্ঠানের।

এছাড়াও থিংক এ্যান্ড গ্রো রিচ নিউজলেটার তাদের নিজস্ব পাবলিকেশনে জেফ কেলারকে নিয়ে কিছু আর্টিকেল ছাপে। ফলে কেলার আরো পাঠকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং বেশকিছু প্রোগ্রামে একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রণ পান।

এমনকি জেফ কেলার ‘থিংক এ্যান্ড গ্রো রিচ নিউজলেটার’ এর একজন সাবস্ক্রাইবার জিম ডনোভানের কাছ থেকে একটি চিঠি পান। তিনি তখন নিউইয়র্কে বসবাস করতেন। কেলারকে তিনি আইএনটিআই নামের নতুন একটি পাবলিকেশন হাউজ রেফার করেন। আজ আপনি সেই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হওয়া বইটিই পড়ছেন। জি হ্যাঁ, এই মুহূর্তে আপনি জিম ডনোভানের পাবলিকেশন হাউজ থেকেই প্রকাশিত বইটি পড়ছেন। যাইহোক, জিম নিজেও একজন মোটিভেশনাল স্পিকার এবং লেখক। তিনি দুটো আত্মউন্নয়নমূলক বই লিখেছেন— হ্যান্ডবুক টু অ্যা হ্যাপিয়ার লাইফ এবং দিস ইজ ইওর লাইফ, নট অ্যা ড্রেস রিহার্সাল।

তো জেফ কেলার এতকিছু পেয়েছিলেন শু ক্যামেনের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার মাধ্যমে। তারপর শু ক্যামেনের মাধ্যমে থিংক এ্যান্ড গ্রো রিচ নিউজলেটার নেটওয়ার্ক……..সেখান থেকে জিম ডনোভানের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে এতকিছু করতে সক্ষম হয়েছিলেন কেলার। কাজেই, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষমতা কোনভাবেই তুচ্ছ করার মতো বিষয় নয়!

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনি দ্রুত নাকি দেরীতে সাফল্য লাভ করতে চান? তাহলে আপনি নিশ্চয়ই দ্রুত সফল হবার বিষয়টিকে বেছে নেবেন। বেশ, তাহলে আপনি নিজের নেটওয়ার্কিং অনেক বড় করে তুলুন। যত বড় হবে আপনার নেটওয়ার্ক, তত দ্রুত আপনি সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হবেন। আপনার সামনে সাফল্য লাভের সুযোগ তত বেশি উন্মোচিত হতে থাকবে।

© ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *