একসাথে একাধিক কাজ করবেন না!

একসাথে কখনোই একাধিক কাজ করবেন না।একটি কাজ ধরুন, শেষ করুন, তারপর আবার আরেকটি শুরু করুন। এতে করে আপনার ফোকাস ঠিক থাকবে। একইসাথে অনেকগুলো কাজে মনোযোগ দিতে গিয়ে আমরা আমাদের একাগ্রতা নষ্ট করে ফেলি। মাল্টিটাস্কিং একটা প্রচলিত কথা! আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন সিংহ যখন বনে শিকার করে তখন কয়েকটা নয়, একটা শিকারের দিকেই লক্ষ্যস্থির করে। কখনোই দুটো পশুর দিকে লক্ষ্য করে না। কারণ এটা জানে- এতে দুটোই হাতছাড়া হতে পারে। তাই সিংহের মন একমুখী। এবং লক্ষ্য অর্জন করার জন্য যেকোন কিছু করতে প্রস্তুত। আপনারা দেখে থাকবেন, সার্কাসে সিংহকে প্রশিক্ষণ দেবার সময় ওটার সামনে একটি চেয়ার বসানো হয় আচরণবিধি নজরে রাখার জন্য । এতে সিংহটি দ্বিধান্বিত হয়ে যায় এবং এর মনোযোগ বিভক্ত হয়ে পরে। কেননা, এখন সিংহের সামনে চেয়ারের চারটি পায়া আছে নজর দেবার জন্য। আমরা মানুষেরাও ঠিক এমন। আমাদের মস্তিষ্ক একই সময়ে কেবল একটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে সক্ষম, একাধিক বিষয়ে নয়। যখন আপনি মাল্টিটাস্কিং তথা একইসাথে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নজর দিচ্ছেন, তখন আপনি আসলে কোন বিষয়েই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছেন না। আর এটা আপনার জীবনে কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আমরা একইসাথে একটার বেশি কাজ ভালোভাবে করতে পারি না। এই মিথটা ভাঙলে চলবে না।

প্রচুর পরিমাণ লোক সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে ও লক্ষ্যস্থির করতে জানে না । আমি শুনেছি একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন পঞ্চাশ বারের বেশি মোবাইলে তাকায়। আমরা প্রতিনিয়তই ইমেইল, সংবাদ পড়ছি। ফেইসবুক ও টুইটারে সময় কাটাচ্ছি, যেই সময়গুলো খুব দামী এবং পরিবারের সবার সাথে কাটানো যেতো। মোবাইল ফোন নিয়ে ড্রাইভিং করলে তা ব্রেক কষতে ০.৫ সেকেন্ড সময় কমিয়ে ফেলে। যদি আপনি ঘন্টায় ১১২ কিলোমিটার ভ্রমণ করে থাকেন, তাহলে এই ০.৫ সেকেন্ডের হিসেবে আপনি লস করছেন ১৫.৫ মিটার….. এই ক্ষুদ্র সময়েই যেকোন কিছু ঘটতে পারে! গাড়ি থেকে যদি আপনার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, স্বাভাবিক সময়ের থেকে আপনার এক্সিডেন্ট করার সম্ভাবনা নয়গুণ বেশি! তাই যখন ফোন বাজে ওটা তোলার দরকার নেই।

যদি গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথাই বলতে হয়, তাহলে ভয়েস মেইল আবিষ্কৃত হলো কিসের জন্য বলুন! ইউরো সায়েন্স কনসালটেন্ট মারলি প্রিঙ্গার এ নিয়ে বলেছেন, ‘মাল্টিটাস্কিং হলো একটা শূন্য। লোকেদের মানসিকতার ৫০% এটা নষ্ট করে, যোগ করে ০% এবং বাড়ায় ভুলের সমাহার ।

মাল্টিটাস্কিং তথা একইসাথে অনেক কিছু করার বিষয়টি আপনার মস্তিষ্ককে ড্রাগসে আসক্ত করার মতই ব্যাপার। সমগ্র শরীর বিষয়ক গবেষণায় উঠে এসেছে যে- মাল্টিটাস্কিং কম উৎপাদনমুখী, এটা আমাদের সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়, এবং বাজে সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে। আরেকটা বিষয় হলো, আমরা নিজেদেরকে স্থির করে জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করি না । বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল বলেছেন, ‘রুমের মধ্যে নিরিবিলি একা বসে থাকতে না পারার অক্ষমতা থেকেই মানুষের সকল কষ্টের উদ্ভব।’ আমাদের হাল দেখুন! আমরা গাড়িতে বসি আমাদেরকে রেডিও অন করতে হয়, কাজ শেষে বাসায় ফিরি টিভি অন করতে হয়। টিভি অন করেই শেষ নয়, একের পর এক চ্যানেল পাল্টাতে থাকি। এমনকি কোনো চ্যানেলই ঠিকমতো দেখি না। নিজেদের মনকে আমরা একরকম দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছি। অধিকাংশ লোকেরাই তাদের মনোযোগকে বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত করে, খুব কম লোকই আছে যারা নিজেদের মনোযোগকে এক দিকে পরিচালিত করে। এইযে ‘মনকে পরিচালনার ব্যর্থতা’ এটাও একটা ব্যাধি। তাই নিজের মনের চ্যানেল বারবার পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন। নিজের বুদ্ধিমত্তাকে ধারালো করে একই সময়ে একটি কাজই করুন। ক্রমাগত কিছু করার বিষয় পুনরায় আবিস্কার করুন, যুগপৎ একসাথে অনেক কিছু নয়। অসাধারণ কাজগুলো সব একাগ্রতার সমন্বয়েই তৈরি হয়। ছন্নছাড়া কর্মে সফলতা আসে না । আপনি যখন একাগ্রতা অর্জন করতে পারবেন, আপনার মন এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতার উৎসও আপনার সাথে থাকবে।

 

© ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *