সীমাহীন ধৈর্য্য এবং একটি সফলতার গল্প

আপনারা অনেকেই লেখালেখি করে থাকেন। কেউ কালি ও কলম দিয়ে মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হন, কেউ আবার ব্যর্থ হয়ে যান। এই দুই দলের বাইরে আরো একদল মানুষ রয়েছে, যারা অল্পেই হতাশ হয়ে যান। এটা হলো না, ওটা হলো না- এমন অভিযোগ তারা সবসময়ই করে থাকেন। দেখা গেলো একজন প্রকাশক কাউকে ফিরিয়ে দিলো, তারপরই হতাশ হয়ে গেলো সে। পরেরবার আর চেষ্টা না করেই কিংবা নিজের লেখাকে আরো ভালো করার কাজ না করেই শত শত অভিযোগ এনে লেখালেখি থেকে ইস্তফা দিয়ে দেয়। এটা একেবারেই অনুচিত। আপনি যদি ভালো করে লিখতে পারেন, একদিন অবশ্যই কেউ না কেউ আপনার লেখা প্রকাশ করবে, আপনি কালো কালির ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা দেখতে পাবেন। হতে পারে সেই ব্যর্থ আপনার লেখাই হাজার হাজার মানুষ একদিন পড়ছে। আজকে আপনি ব্যর্থ হলেও, কালকে সফল হবেন না, এমনটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। ব্যর্থতা পরবর্তী সময়েও সফলতা আসে। তাহলে জেনে নিন এমনই একটি ঘটনা।

একবার দু’জন লেখক যৌথভাবে একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুচ্ছের বই লিখেছিল। লেখা শেষ করার পর তারা প্রকাশকের কাছে গেল বইটি প্রকাশ করার জন্য। কিন্তু প্রকাশককে পান্ডুলিপি জমা দেবার পর প্রথম প্রকাশক বললো- ‘না, এটা ছাপানো যাবে না। দ্বিতীয় প্রকাশকও একইভাবে বললো- না। সম্ভব নয়। বইটি প্রকাশ করার মতো নয়।

তৃতীয় প্রকাশকও তাদেরকে (দুই লেখক) না করে দিলো। এভাবে চলতে চলতে ত্রিশজন প্রকাশকের দ্বারে গেল তারা। কিন্তু প্রত্যেকেই না করে দিলো। এমনকি তেত্রিশ নাম্বার প্রকাশকও তাদের বইটি প্রকাশ না করে ফিরিয়ে দিলো। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আবার নতুন একজন প্রকাশকের কাছে গেল এবং চৌত্রিশ নাম্বার প্রকাশক, আমি আবারও বলছি, চৌত্রিশ নাম্বার প্রকাশক বইটি ছাপানোর জন্য রাজি হয়েছিলেন! আর এই বইটি হলো ‘চিকেন সুপ ফর সোল’। বইটির লেখক ছিলেন যথাক্রমে ম্যাক হ্যানসেন এবং জ্যাক কানফিল্ড। এতবার রিজেক্টেড হওয়া বইটিই প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো! আপনি যদি গত পাঁচ বছরে বইয়ের দোকানগুলোতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করা ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত এই বইটি দেখে থাকতে পারেন। এমনকি আপনি হয়তো এরই মধ্যে উক্ত বইটি পড়েছেন এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বইটি পুরো বিশ্বজুড়ে ত্রিশ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে! এর একমাত্র কারণ হচ্ছে জ্যাক কানফিল্ড এবং ম্যাক হ্যানসেনের সীমাহীন ধৈর্য্য। তারা তাদের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল যতক্ষণ না সফল হয়। তেত্রিশবার ব্যর্থ হবার পর চূড়ান্ত ব্যর্থতা হতে কীসে রক্ষা করলো জ্যাক কানফিল্ড এবং ম্যাক হ্যানসেনকে? নিঃসন্দেহে বলা যায়, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

যদি এই মানুষগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হতো, তাহলে তারা প্রথমবার ব্যর্থ হবার পরই হাল ছেড়ে দিতো। কিন্তু তারা তা করেনি। একবার, দুইবার এবং তিনবার………..এভাবে বহুবার ব্যর্থ হবার পরও নিজেদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমুন্নত রেখেছিল। ব্যর্থতার পরে ব্যর্থতা এসেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে টলাতে পারেনি। দিনশেষে ফলাফল কী? তারা বিশাল আকারের সাফল্য পেয়ে গেল এবং এটা ভবিষ্যতে আরো বাড়তেই থাকবে।

 

© Tayran Abir


Posted

in

by

Tags:

Comments

One response to “সীমাহীন ধৈর্য্য এবং একটি সফলতার গল্প”

  1. মেহেদী হাসান Avatar
    মেহেদী হাসান

    ধৈর্য্য এবং সফলতার গল্পটি পড়ে নতুন করে অনুপ্রেরণা পেলাম💜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *