জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে চান? তো কাজের সন্ধানে নামুন

জীবনে টিকে থাকতে হলে কাজের সন্ধান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার, অন্তত প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর। মানুষ মাত্রই আমাদেরকে টিকে থাকার যুদ্ধে শামিল হতে হয়। আপনি যে কাজই করেন না কেন, যেই সেক্টরেই আপনার অবস্থান হোক না কেন, আপনাকে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামতে হবে। শুরুতে লড়াইটা হয় কাজ পাওয়ার, তারপর হয় কাজ করে টিকে থাকার। আপনি খেয়াল করে থাকবেন সুনির্দিষ্ট কাজের একই সেক্টর থেকে বহু মানুষ উঠে আসে, কাজ করে থাকে। কিন্তু সবাই সফল হয় না। আপনার সাথে পড়াশোনা করা মানুষেরা সবাই সফল হয় না, অথবা সমানভাবে সফল হয় না। একেকজন একেক জায়গায় অবস্থান করে থাকে। এখানে সফলতা বলতে আমি আর্থিক এবং ক্যারিয়ারভিত্তিক উভয় ধরণের সফলতাকেই বোঝাচ্ছি। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে আপনাকে এই ধরণের সফলতা পেতেই হবে। অথবা নিজস্ব কাজের সেক্টরে এমন কিছু করতে হবে, যা আপনাকে দীর্ঘদিন যাবত জীবনের দৌড়ে টিকে থাকতে সাহায্য করবে। আরো সহজ করে বলতে গেলে আপনাকে অবশ্যই সাসটেইনেবল কিছু করতে হবে যেকোন কাজে। আর সাসটেইনেবল কিছু করার জন্য শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে কী হয় সচরাচর? আমরা দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর সময় পাই পড়াশোনা করার জন্য। বিশেষ করে চার বছরের অনার্স কোর্সে আমরা মোটামুটি লম্বা একটা সময় পাই। এই সময়টুকুতে আমরা চাইলে ভালো কিছুর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি। সমস্যা হচ্ছে বেশিরভাগ স্টুডেন্টরাই এই সময়গুলোকে অবহেলা করে থাকে, নিজেদেরকে প্রস্তুত করে না ভালো কিছুর জন্য। আমরা চাইলেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে পারি। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নিজেদের দক্ষতাকে বাড়িয়ে নিতে পারি এবং সবার আসলে এটাই করা উচিত। কেননা, চাকরীর ক্ষেত্রে কেবল আপনার রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে চাকরী দেয়া হয় না। আপনার কর্মদক্ষতা, স্মার্টনেস, নেটওয়ার্কিং স্কিল এসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে জব সেক্টরে আপনাকে এগিয়ে রাখার জন্য।

একটা বাস্তব কথা সবার উদ্দেশ্যে বলা দরকার। বর্তমান সময় প্রতিযোগীতার সময়। আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখন পড়াশোনা করে থাকে। তাই আপনাকে উঠে আসতে হলে অবশ্যই লড়াই করেই আসতে হবে। এই লড়াইয়ে আপনার অস্ত্র কী, এটা নিয়ে কখনো ভেবেছেন? না ভেবে থাকলে এখন থেকেই ভাবতে শুরু করুন। প্রতিযোগীতা যতই বাড়ুক, দিনশেষে আপনার স্কিলই আপনাকে এগিয়ে রাখবে বাকিদের চেয়ে। আপনি যদি সত্যিই মেধাবী ও দক্ষ হয়ে থাকেন নিজের সুনির্দিষ্ট কাজে, তাহলে আপনার সফলতা কেউ আটকাতে পারবে না। তাই এখন থেকেই নিজেকে সুনির্দিষ্ট কাজের সেক্টরে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করুন। আর হ্যা, সময়কে কাজে লাগাতে শিখুন। আজকের সময়ই ঠিক করে দেবে আগামীকাল আপনি কোথায় থাকবেন। এবার একটু ভিন্ন টপিকে কিছু বলা যাক।

ধরুন আপনি ঘরে বসে আছেন। আর ঘরে বসে থাকলেও কেউ যদি এসে চাকরী দিয়ে যেতো, তাহলে বেশ ভালো হতো, তাই না? হাস্যকর হলেও সত্য যে আমাদের অনেকের চিন্তাচেতনাই এমন। আমরা মনে করি আমাদেরকে মানুষ খুঁজে নেবে। অথচ এটা কোনদিনই হবার নয়। আপনাকে কখনোই মানুষ খুঁজে নেবে না। বরং আপনার নিজেকেই মানুষের কাছে যেতে হবে, জানান দিতে হবে নিজের দক্ষতা ও কাজ সম্পর্কে। এতে করে কোন না কোন জায়গায় আপনার কাজ জোগাড় হয়েই যাবে। সরকারি কিংবা বেসরকারি, যেকোন জব সেক্টরেই নিজের দক্ষতা সবার আগে। এরপর জরুরী হচ্ছে নিজেকে প্রকাশ করা। ধরা যাক, সরকারি সেক্টরে আপনার কিছুই হলো না। কিন্তু বেসরকারি সেক্টরে নিশ্চিতভাবেই আপনাকে তখন যুক্ত হতে হবে। সেক্ষেত্রে ঘরে বসে আপনি কিছুই করতে পারবেন না। দ্বারে দ্বারে নক করতে হবে আপনাকে। নেটওয়ার্কিং বাড়িয়ে নিতে হবে। এ্যাপ্লাই করতে হবে বিভিন্ন জায়গায়। বর্তমান সময়টা নেটওয়ার্কিংয়ের যুগ। আপনার নেটওয়ার্কিং স্কিল যদি ভালো থাকে, নেটওয়ার্ক যদি বৃহৎ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনি একদিন সফল হতে সক্ষম হবেন। তাই নেটওয়ার্কিং স্কিল জরুরী। তবে নেটওয়ার্কিং স্কিলের আগে অবশ্যই আপনি সুনির্দিষ্ট কাজে দক্ষ, এটা নিশ্চিত করুন। সেই কাজ করার মতো কর্মসংস্থানের জায়গাগুলো খুঁজে বের করুন। তারপর সেসব জায়গায় নিজেকে ইন করানোর জন্য চেষ্টা চালাতে থাকুন, হোক সেটা যোগ্যতা ও রেফারেন্সের সাহায্যে কিংবা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে। মনে রাখবেন- নিজের কাজ, নিজের প্রতিষ্ঠান আপনাকেই খুঁজে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠান আপনাকে নিজ থেকে খুঁজে বের করবে না, কাজ দেবে না। সুতরাং, কাজের সন্ধান করা অব্যাহত রাখুন।

 

© ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *