আগের কাজ আগে করুন, পরের চিন্তা পরে

||স্টিফেন নামের এক ব্যক্তি ও তার কন্যা মারিয়ার ছোট্ট গল্প||

আমি স্টিফেন। আমার মেয়ের নাম মারিয়া। সম্প্রতি তার সন্তান হয়েছে। তৃতীয়বারের মত মা হলো সে। একদিন সন্ধ্যায় আমি তার সাথে বসে কথাবার্তা বলছিলাম। তখন সে বললো-

“বাবা, আমি আমার সন্তানকে খুব ভালোবাসি। এটা তুমিও খুব ভালো করেই জানো। কিন্তু সে আমার পুরো সময় কেড়ে নিচ্ছে। আমার সারাটাক্ষণ তার পেছনেই চলে যায়। আমি অন্যকিছু করতে পারি না। কিন্তু আমার অনেক কিছুই করার আছে। সব বাদ দিয়ে আমাকে কেবল তার (সন্তান) খেয়াল রাখতেই ব্যস্ত থাকতে হয়।”

আমি মারিয়ার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। আমলে নিলাম। মারিয়া আমার মেয়ে। আমি ওর মেধা এবং সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত আছি। নানা ভালো কাজের সাথে জড়িত ছিলো সে। নিজের, নিজের পরিবার এবং দেশের প্রতি অবদান রাখতে চাইতো। কিন্তু কোনকিছুই ঠিকমতো করতে পারছিলো না। বিষয়টি সত্যিই হতাশার। আমি জানি এসব তাকে কতটা হতাশ করে দেয়। মারিয়ার দুঃখের বিষয়টি বুঝতে আমার তাই তেমন বেগ পেতে হলো না। আমরা যেহেতু নানা বিষয়ে কথাবার্তা বলছিলাম, তাই জানতে পারলাম, মারিয়ার প্রত্যাশা পূরণের ব্যর্থতাই মূলত তার হতাশ হবার কারণ। এবং এই মুহূর্তে আমি তার সন্তানকে নিয়ে কাজ এবং জীবনকে উপভোগ করা ব্যতীত আর কোন বিকল্প পথ দেখছিলাম না। আমি তাই মারিয়াকে বললাম-

“শান্ত হও। একটুও হতাশ হয়ো না। নিজের বর্তমান সময়কে, একজন মা হিসেবে নিজের নতুন অভিজ্ঞতাকে উপভোগ করো। মাতৃত্বের স্বাদ অনন্য। অনেকেই এটি উপভোগ করতে পারে না। চিন্তা করো তো তাদের কেমন লাগে? অথচ তুমি মা হতে পেরেছো। তাই অন্য চিন্তা বাদ দাও। সন্তানকে ভালোবাসো। বাকি কাজ পরে করতে পারবে। সন্তানের কাছে অন্য কাজ কিছুই নয়।”

মারিয়া আমার কথা শুনলো। বুঝতে পারলো। উপলব্ধি করলো, তার জীবন এই মুহূর্তে একটু ভারসাম্যহীনতার দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা নেই। এমন মাঝেমধ্যে হয়। “সবকিছুরই সুনির্দিষ্ট সময় আছে” এই বিষয়টি তার মাথায় এলো। তাই সে শান্ত হলো। চিন্তা করলো, তার সন্তান যখন বড় হয়ে উঠবে, তখন সে তার বাকি কাজগুলো করতে পারবে। নিজের ও পরিবারের প্রতি নানা অবদান রাখতে সক্ষম হবে। অবশেষে আমি তাকে ফের বললাম-

“এই মুহূর্তে কোন শিডিউল রেখো না। নিজের ক্যালেন্ডারকে ভুলে যাও। পরিকল্পনাগুলোকে ক্ষান্ত দাও, যাতে এগুলো করতে না পারার ব্যর্থতা তোমাকে হতাশ করে না দেয়। এই মুহূর্তে তোমার সন্তানই তোমার কাছ থেকে সবচাইতে বেশি অগ্রাধিকার লাভের যোগ্য। সন্তানকে ভালোবাসো। তার যত্ন নাও। জীবনকে উপভোগ করো। দুশ্চিন্তা বাদ দাও এবং তোমার ভেতরে কাজের কম্পাসকে বাঁচিয়ে রাখো। সময়ের দিকে তাকিয়ে অহেতুক আক্ষেপ করো না। একদিন ঠিকই সঠিক সময় আসবে, মনে রেখো।”

মোরাল- আগের কাজ আগে করুন। অহেতুক দুশ্চিন্তা করবেন না।

 

© ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *