সুদানের রহস্যময় শহর সুয়াকিনের গল্প

আমাদের (মোসাদের গোয়েন্দা) অবসর সময়গুলো কেবল ডাইভিং, ভিডিওচিত্র অথবা ফুটবল খেলা দেখে কাটেনি। অভিযান চলাকালীন সময়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছি। আর সবগুলো ভ্রমণই মূলত অভিযানের স্বার্থে পালাবার নতুন নতুন পথ খোঁজার জন্য করা হয়েছিলো এবং এই ব্যাপারে আমাদের প্রাপ্ত সকল তথ্যই মোসাদ হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়ে দেয়া হতো। এসব ভ্রমণের মধ্যে ছোট্ট দ্বীপের ওপর অবস্থিত সুয়াকিন নামক শহরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি আমাদের জন্য দারুণ কিছুই ছিলো। এটা ছিলো অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা।

সুয়াকিন ইতিমধ্যেই প্রাচীন শহর হিসেবে সুপরিচিত ছিলো। শহরটি নিয়ে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত। কেউ কেউ বলে, এটা ছিলো সম্রাট সুলায়মান এবং শেবার রানীর সাক্ষাৎ করার স্থান। রোমান সম্রাজ্যের ভ্রমণকাহিনীগুলোতেও সুয়াকিন সম্পর্কে প্রচুর লেখালেখি করা হয়েছে। একজন বৃদ্ধ বণিক আমাকে শহরটি সম্পর্কে আরো একটি ঘটনা বলেছিলেন। তিনি দাবী করেন সুয়াকিন সম্পর্কে সেই ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য। তারপর সেই বৃদ্ধ আমাকে বলতে শুরু করেন-

কয়েক হাজার বছর আগের কথা। তখন মিশর এবং ইথিওপিয়ার সম্রাটের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিলো। একবার তাই ইথিওপিয়ান শাসক, মিশরের ফারাওয়ের জন্য উপহার হিসেবে পাঠালেন সাতজন সুন্দরী কুমারী। আর তাদেরকে ফারাওয়ের কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব ছিলো ইথিওপিয়ান সম্রাটের সবচাইতে আস্থাভাজন অমাত্য ইউনুসের ওপর। সম্রাটের আদেশ মোতাবেক কুমারীদেরকে নিয়ে জাহাজে করে রওনা হয়ে গেলেন ইউনুস। চলতে চলতে সমুদ্রের উত্তরাংশে পৌঁছে হঠাৎ ইউনুস একটা দ্বীপে থামতে চাইলেন। দ্বীপটি সেসময় একেবারে জনমানবহীন ছিলো। জাহাজে থাকা লোকেরা ইউনুসকে যেতে বারণ করলো সেখানে যেতে। তারা জানালো- দ্বীপটা আসলে সাতটি ছোট্ট জ্বীনের বাড়ি। কিন্তু ইউনুস মানলেন না। সবার কথা অমান্য করে তিনি দ্বীপে নামলেন তৎক্ষনাৎ। এরপর অবশেষে সবাইকে নিয়ে জাহাজ যখন মিশরে পৌঁছালো, সম্রাট ফারাও খুব খুশি হলেন। কিন্তু একটু পরই তার আনন্দ রূপ নিলো ক্রোধে, যখন তিনি লোক মারফত শুনলেন তার কাছে আসার পূর্বেই কুমারীদের সাথে কেউ মিলিত হয়েছে।

ইউনুস খুব অনুনয় করে সম্রাটকে বললেন যে জাহাজে কোন পুরুষ মানুষ ছিলো না, ফলে এই কথা পুরোপুরি মিথ্যা। কিন্তু কেউ মানলো না। সবাই ধরে নিলো কুমারীদের সাথে সুয়াকিনের সাত শয়তান রাতে এসে মিলিত হয়েছে, কেননা ঐ সাত জ্বীনের দ্বীপে নেমেছিলেন ইউনুস ও তার দল। যাইহোক, মিশরের সম্রাট বেশ দয়ালু ছিলেন। তাই এই ঘটনার পরও তিনি তার দয়াপরবশ মনের কারণে ইউনুস ও তার দলকে কঠিন কোন সাজা দিলেন না। বরং মুক্ত করে দিলেন। কিন্তু রাজকীয় উপহারের মর্যাদাহানির জন্য তাদেরকে ওই জনমানবহীন দ্বীপে বসবাস করার হুকুম দিলেন এবং সেখানে নয়মাস পর কুমারী মেয়েদের গর্ভে বাচ্চার জন্ম হলো। এরপর থেকে তাদেরকে দেখলেই ‘সাওয়া জ্বীন’ (জ্বীনে এসব করেছে) বলাবলি করতে লাগলো স্থানীয় লোকেরা। সেই থেকেই এই শহরের নাম হয়ে যায় ‘সুয়াকিন’। মূলত ‘সাওয়া জ্বীন’ শব্দ থেকেই সুয়াকিন শব্দের উৎপত্তি হয়েছিলো। জনৈক বৃদ্ধের মতে এটাই ছিলো শহরটির নাম সুয়াকিন হওয়ার পেছনের গল্প।

 

তথ্যসূত্র-

বই- মোসাদ এক্সোডাস

লেখক- গ্যাড শিমরন

অনুবাদ- ত্বাইরান আবির


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *