শক্তিশালী লেখকের গল্প

বর্তমান সময়ের লেখকদের মাঝে যারা দুর্দান্ত লিখে থাকেন, তাদের নিয়েই মূলত ‘শক্তিশালী লেখকের গল্প’ আয়োজনটি সাজিয়েছি। আমি ত্বাইরান আবির, আজকের পর্বে জানাচ্ছি সুলেখক মাহমুদুর রহমানের কথা।

 

পাঠের অযোগ্য বইয়ে যখন বইয়ের বাজার সয়লাব, ঠিক তখনও বেশকিছু লেখক আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বুক ইন্ডাস্ট্রিতে। অহরহ প্রচার, মার্কেটিংয়ে ঝুঁকে যখন নিজেকে একজন মার্কেটারে পরিণত করে চলেছে সবাই, ঠিক সেই সময়ে কেউ কেউ চাচ্ছেন দারুণ সব বিষয়বস্তু নির্ভর বই ও ক্ষুরধার লেখার ধরণে মানুষকে চমকে দিতে, সত্যিকারার্থেই লেখক হয়ে উঠতে। আর তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব মাহমুদুর রহমান। লেখক মাহমুদুর রহমান। যিনি নিজের লেখার দক্ষতায় পাঠকদেরকে উপহার দিয়ে যাচ্ছেন দারুণ সব বই, যেসব বই থেকে শেখার আছে অনেক কিছুই, জানার রয়েছে অজানা যত বিষয়। অনেক সময় মানুষ বই পড়তে গিয়ে বিরক্ত হয়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে- সুনির্দিষ্ট কোন লেখকের লেখার ধরণ। একজন লেখকের লেখার ধরণ যদি সহজ ও সাবলীল না হয় এবং পড়ার সময় গতি পাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পাঠক বিরক্ত হয়ে যাবেন। এই জায়গা থেকে মাহমুদুর রহমান নিজেকে আলাদা করতে পেরেছেন। তার সাবলীল লেখার ধরণে আপনি স্পষ্টতই গতি খুঁজে পাবেন। ফলে কোনরকম বিরক্তি আসার সম্ভাবনা নেই। শুধু তাই নয়, তরুণ এই লেখকের লেখার বিষয়বস্তু আপনাকে নতুন এক জগতে হারাতে সাহায্য করবে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতবর্ষ কাঁপানো মুঘল সাম্রাজ্য নিয়ে তার লেখা বইয়ের কথা বলা যেতে পারে। পাঠক, এখন পর্যন্ত আপনারা নিশ্চয়ই মুঘল সাম্রাজ্য সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পেরেছেন। হতে পারে আপনারা এ সম্পর্কে অনেক অবগত, ইতিহাসের বইগুলো পড়ার মাধ্যমে। কিন্তু কেমন হয় কেউ যদি আপনার সামনে এসব আরো সহজ ও গল্পময় করে একের পর এক স্টোরি প্যাটার্নের সাহায্যে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে? নিশ্চয়ই ভালো লাগার কথা। এই কঠিন কাজটিকেই সমাধান করতে সক্ষম হয়েছেন মাহমুদুর রহমান। তার দু’টি বই মোগলনামা (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড) আপনাকে সেই বিখ্যাত সাম্রাজ্যের বুকে বিচরণ করতে সাহায্য করবে। আপনি সময়ের সাথে ভাসতে থাকবেন, ফিরে যাবেন সেই পুরোনো সময়ে, এতটাই স্পেশাল রাইটআপ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন লেখক। তার লেখার ধরণের প্রশংসা বিশেষভাবেই করতে হয়। কেননা, লেখার ধরণে ফ্লুয়েন্সির সাহায্যে তিনি পাঠককে বইয়ের মাঝেই আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এখন পর্যন্ত নিজের কাজগুলো দিয়ে।

 

মাহমুদুর রহমানের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে কনটেন্ট নির্ভর কাজ করা। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এটাই সবচাইতে বেশি প্রয়োজন। আমাদের নিশ্চয়ই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, পড়ার ক্ষেত্রে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। আমার ব্যক্তিগত মতামতের জায়গা থেকে বলতে পারি, লেখক হিসেবে মাহমুদুর রহমান এই বিষয়টি ভালোই বিবেচনায় রাখেন এবং তার লেখার বিষয়বস্তু সেসব প্রমাণ করে। শুধু নিজের বই নয়, বিভিন্ন ওয়েব পোর্টাল ও জাতীয় পত্রিকাতেও নিয়মিত লিখছেন তিনি। আর সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর অবতারণা করে চলেছেন। নিজের কাজ দিয়ে একদিন নিশ্চিত তিনি অনেক দূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হবেন সবাইকে ছাপিয়ে। এর প্রমাণ তার জনপ্রিয় বই মোগলনামা। বইটির দুটি খন্ডই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেতে সক্ষম হয়েছে ইতোমধ্যেই। এসবের বাইরেও দু’টি ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। দারুণ সব বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বই লেখা মাহমুদুর রহমান যেই পথে এগোচ্ছেন, সব ঠিক থাকলে হয়তো তিনিও একদিন সময়কে জয় করতে পারবেন, সেই প্রত্যাশা করাই যায়।

 

এবার একটু নিজের কথা বলি। বর্তমান সময়ে আমি সবার মাঝেই আফসোস দেখতে পাই। মানুষ ক্রমাগত বলতে থাকে- এখনকার লেখকরা ভালো লিখতে পারে না। তাদের নেই ভালো লেখার ধরণ এবং বিষয়বস্তু। অনেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে থাকেন। কেউ আবার লেখকদেরকে হেয় করে লিখে ফেলেন বিশাল প্রবন্ধ। সেই প্রবন্ধে নিজের ফেইসবুক বাবলে হয়ে ওঠেন বুদ্ধিজীবী, নিজেকে জাহির করে থাকেন জ্ঞানী হিসেবে। সেসব লেখায় বহু পাঠকদেরকেও দেখা যায় লেখকদেরকে হেয় করতে। একজন লেখক হিসেবে এসব আমাকে একটু হলেও কষ্ট দেয়। তবুও আমি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি না। বরং তাদেরকে আমার ভুল মনে হয়। আমি মনে মনে ভাবি, তারা ভুল ভাবছে, ভুল দেখছে, সংকীর্ণ জায়গা থেকে সব চিন্তা করছে। এবং তাদের সকল ফোকাস অযোগ্যদের দিকে। তারা মাহমুদুর রহমানকে দেখে না, তারা মাহমুদুর রহমানের মতো আরো যারা প্রতিভাবান লেখক রয়েছেন, তাদেরকে খোঁজে না। ফলে ভাইরালের দুনিয়ায় অযোগ্যরা লাইমলাইটে আসলেও মাহমুদুর রহমান কিংবা এমন বহু যোগ্য তরুণরা লাইমলাইটে আসে না। পায় না নিজেদের কষ্টের দাম। তবুও এই মানুষগুলো চুপচাপ লিখে যায় নিজের সকল কষ্ট চেপে রেখে, মানুষকে কিছু দেয়ার লক্ষ্যে, সমাজ পরিবর্তন করার প্রত্যয়ে।

এমন লেখকদের জন্য শ্রদ্ধা। মাহমুদুর রহমানের জন্য ভালোবাসা। ভাইরাল যখন করবেনই, আলোচনা যেহেতু জাতির ভূষণ, সেহেতু ভালো কিছুই লাইমলাইটে নিয়ে আসুন এবং সমালোচনা বাদ দিয়ে ভালো লেখকদেরকে নিয়ে এবার আলোচনার অভ্যাস তৈরি হোক। এই প্রত্যাশা নিয়েই শেষ করতে চাই। শেষ করার আগে লেখক মাহমুদুর রহমানের লিখিত পাঁচটি বইয়ের নাম জানিয়ে দিচ্ছি- মোগলনামা (প্রথম খন্ড), মোগলনামা (দ্বিতীয় খন্ড), রাধেয় (ঐতিহাসিক উপন্যাস), শকুনি উবাচ (ঐতিহাসিক উপন্যাস) এবং রংমিলান্তি (সমকালীন উপন্যাস)। বইগুলো সবাই পড়তে পারেন। আশা করি সময় ও অর্থ দুটোই সার্থক হবে। ধন্যবাদ।


Posted

in

by

Tags:

Comments

One response to “শক্তিশালী লেখকের গল্প”

  1. আফরোজা চৈতী Avatar
    আফরোজা চৈতী

    ধন্যবাদ চমৎকার ভাবে তথ্য উপস্থাপনের জন্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *