শক্তিশালী লেখকের গল্প

তিনি একজন গল্পকার, ঔপন্যাসিক। এই সময়ের জনপ্রিয় একজন লেখক। তার লেখা নিয়ে রয়েছে প্রশংসার জোয়ার, আবার রয়েছে কট্টর সমালোচনা। পাঠকভেদে সময়ে সময়ে তিনি পেয়েছেন বহুমুখী মন্তব্য। এটা কেবল তার লেখালেখি নিয়ে পাঠকের রিমার্কস। কিন্তু একজন লেখক আসলে কখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে? আমার মতে, একজন লেখক তখনই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যখন সে জোর দিয়ে বলতে পারে- আমি একজন লেখক। আমি আমার লেখার ওপর আত্মবিশ্বাসী। একদিন আমি নিশ্চিত মহাকালকে জয় করবো।

ঠিক এভাবেই এই কথাগুলো তিনি বলতে পারেন। তার সেই সাহসের জায়গাটি রয়েছে। তিনি গঠনমূলক সমালোচনায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু বইয়ের প্রচারণার ক্ষেত্রে করেন আপ্রাণ চেষ্টা। তিনি বিশ্বাস করেন, বইয়ের কথা ছড়িয়ে গেলে, সমাজ পাল্টে যাবে। মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন হবে। অপরাধ প্রবণতা কমবে। শিক্ষাব্যবস্থায় আসবে আমূল এক পরিবর্তন। তখন মানুষ বই ভালোবাসবে। অবসরে বই পড়বে। বই নিয়ে কথা বলবে। এভাবে দেশে তৈরি হবে বিশাল এক পাঠকশ্রেনী। আর তারা নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নেবে কোন একজন উত্তম লেখককে। পাঠকের ভালোবাসায় সেই লেখক সকল বিষয়ে লিখতে সাহস দেখাবেন। গুরুত্বপূর্ণ ইসূতে নিজের মতামত শেয়ার করবেন। জনমানুষের কথাগুলো তিনি বলতে থাকবেন তার কলমের শক্তি দিয়ে। পাঠক যখন বই পড়বে, তখন বই বিক্রি হবে খুব। তাতে লেখক সম্মানী পাবে। প্রকাশক ব্যবসা করে সফল হবে। বইয়ের ইন্ডাস্ট্রি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এটাই তার চাওয়া। একটি দেশ পরিবর্তন হয়ে যায় যখন সেদেশের বইয়ের ইন্ডাস্ট্রি শক্তিশালী হয়। এই কাজটি করতেই তার ছুটে চলা।

তিনি কাজ করেন। পাশাপাশি লেখালেখি করেন। এতে প্রচুর চাপ সহ্য করতে হয়। তাই মন খুলে লিখতে পারেন না। তার ভাষ্যমতে, এদেশে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেয়া যায় না। ডেমো লেখক/পার্টটাইম লেখক হয়ে থাকতে হয় সবাইকে। উন্নত কনটেন্ট না পাওয়ার এটাই সবচাইতে বড় কারণ। তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। একজন লেখকের একটি বই লিখতে, চরিত্র দাঁড় করাতে যতটুকু সময় দরকার, পার্টটাইম লেখক ততটা দিতে পারেন না। তাই উন্নতমানের লেখা এদেশে কমই রচিত হয়। তিনি নিজেও ফুলটাইম লেখক নন। আমি বিশ্বাস করি, এজন্যই তার কাছ থেকে আমরাও তার সেরাটা পাচ্ছি না।

স্বভাবে দারুণ বিনয়ী তিনি। বই নিয়ে স্বপ্নদ্রষ্টা। তার সবসময়ের প্রিয় বাক্য- পৃথিবী বইয়ের হোক। বই নিয়ে তার ছুটে চলা দেখলে অবাক হতে হয়। কেউ কেউ এজন্য তাকে বলেন, তিনি নাকি পৃথিবী নিজের বইয়ের হোক, এটাই চান। আমি তাদেরকে বলতে চাই, তবুও তো পৃথিবীটা বইয়ের হোক! কারো না কারো বইয়েরই তো হবে। সবাই নিজের বই নিয়ে কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। তিনিও বলছেন। সহজভাবে নিন বিষয়টিকে। এবার একটু ইতিবাচক হোন। কেননা, বই নিয়ে ছুটে চলা দরকার। নয়তো মানুষ জানবে না। বিক্রি হবে না। আর বিক্রি না হলে- লেখক, প্রকাশক, ইন্ডাস্ট্রি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই এই ইন্ডাস্ট্রি অনেকটাই ধ্বংসপ্রায়। এমন ভঙ্গুর ইন্ডাস্ট্রিতে যারা বই নিয়ে স্বপ্ন দেখে, লেখক হয়ে উঠতে আপ্রাণ চেষ্টা করে, ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টায় ছুটে চলে অবিরত, তাদেরকে অনুগ্রহ করে প্রশ্নবাণ আর ঘৃণায় জর্জরিত করে দূরে সরিয়ে দেবেন না। কারণ, তারা লেখক, প্রকাশক, প্রেস মালিক সবার আয়ের চাকা ঘোরাচ্ছে। একজন বাইন্ডার, একজন প্রুফ রিডার, কাগজ বিক্রেতা এবং প্রেস মালিক হতে শুরু করে লেখক-প্রকাশক সবার আয় সচল থাকছে। তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটছে একজন লেখকের অবিরত ছুটে চলার মাধ্যমে। কিভাবে? সহজ হিসেব- বইটি বিক্রির মাধ্যমে। তাহলে আপনি কী কী থামিয়ে দিতে চাইছেন ভাবতে পারছেন? উত্তর হচ্ছে- পরিপূর্ণ লেখক হবার স্বপ্নে বিভোর একজন মানুষকে, তার ছুটে চলার ফলে বহু পরিবারের আয়কে, সর্বোপরি, বইয়ের ইন্ডাস্ট্রিকে।

তবুও এই লেখক হার মানেননি। তিনি ছুটে চলেছেন। তার সমালোচনার চেয়ে ভালোবাসার মানুষ অনেক অনেক বেশি। পাঠক তার লেখার সমালোচনা করতে পারে, কিন্তু তার শক্তির নয়। তাকে ঘৃণা করতে পারে অহেতুক, কিন্তু আমি নিশ্চিত, তাকে এড়িয়ে যেতে পারবে না। আপনি তার “রাজতন্ত্র” বইটি পড়ে সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু তার লেখা “মধ্যবিত্ত” বইটি আপনার অনুভূতি জাগ্রত করবে। আপনি “মখমলি মাফলার” বইটিকে নিম্নমানের হয়ত বলতে পারেন, কিন্তু তার লেখা “কাঠের শরীর” বইটির প্রতিটি গল্প আপনাকে ছুঁয়ে যাবে। আবার একজনের খারাপ লাগবে বলে আরেকজনের ভালো লাগবে না বিষয়টি তাও নয়। পাঠকভেদে এই ভিন্নতা থাকবেই। আর তাইতো পাঁচজন বাজে কথা বললে, পাঁচশো জন ভালোবাসার কথা বলে। আর এই ভালোবাসায় তিনি ছুটে চলেন।

লেখা নিয়ে সমালোচনা আপনি করতেই পারেন। পাঠক বলতেই পারেন, তিনি এখনও দুর্দান্ত কিছু লিখেননি। আমি নিজেও বলি, তার কাছে আরও গভীর কিছু আমি আশা করি। কিন্তু সেক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে এদেশে, সেগুলো দূর করার কাজেই ছুটে চলেন তিনি। আশা করি তিনি পারবেন। একদিন তিনি ঠিকই মাস্টারপিস কিছু লিখবেন। একজন লেখকের ব্যক্তিত্ব, স্বপ্ন, ছুটে চলার সবটাই ধারণ করেন তিনি। “আমি একজন লেখক”- এটা জোর দিয়ে বলার শক্তি যার আছে, তিনি তো একদিন নিশ্চয়ই জয় করবেন দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বকে। তার ব্যক্তিত্ব, অদম্য মানসিকতার জন্য এবারের “শক্তিশালী লেখকের গল্প” আমি তাকেই নিবেদন করলাম। তিনি কিঙ্কর আহসান। তিনি অদম্য এক লেখক। আমি নিশ্চিত তার হাত ধরে বাংলার বুকে বইয়ের ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক শক্তিশালী হবার পথে হাঁটবে। সামনে তিনি “জলপরানি” বইটি নিয়ে কাজ করছেন। লেখকের সেই বইটি নিয়ে থাকলো অনেক অনেক শুভকামনা। কিঙ্কর, আপনি বহুদূর এগিয়ে যান। বহুদূর। পাঠকের ভালোবাসা আপনার সাথে থাকুক। আজীবন।

Comments

2 responses to “শক্তিশালী লেখকের গল্প”

  1. শামস সাইদ Avatar
    শামস সাইদ

    তিনি কাজ করেন। পাশাপাশি লেখালেখি করেন। এতে প্রচুর চাপ সহ্য করতে হয়। তাই মন খুলে লিখতে পারেন না। তার ভাষ্যমতে, এদেশে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেয়া যায় না। ডেমো লেখক/পার্টটাইম লেখক হয়ে থাকতে হয় সবাইকে। উন্নত কনটেন্ট না পাওয়ার এটাই সবচাইতে বড় কারণ। তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। একজন লেখকের একটি বই লিখতে, চরিত্র দাঁড় করাতে যতটুকু সময় দরকার, পার্টটাইম লেখক ততটা দিতে পারেন না। তাই উন্নতমানের লেখা এদেশে কমই রচিত হয়। তিনি নিজেও ফুলটাইম লেখক নন। আমি বিশ্বাস করি, এজন্যই তার কাছ থেকে আমরাও তার সেরাটা পাচ্ছি না।
    এটা মানতে পারলাম না স্যার। অনেক লেখক আছেন কাজ করেও সেরা লেখা লিখেছেন। আপনি কি করে লিখেন সেটা পাঠক কেন দেখবে। ইতিহাস কেন মানবে। পাঠক দেখবে লেখা। আপনার পেটের ভাত দেখবে না। সো এসব বলা লেখকের দীনতা মনে হয় আমার কাছে।

  2. শামস সাইদ Avatar
    শামস সাইদ

    তিনি কাজ করেন। পাশাপাশি লেখালেখি করেন। এতে প্রচুর চাপ সহ্য করতে হয়। তাই মন খুলে লিখতে পারেন না। তার ভাষ্যমতে, এদেশে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেয়া যায় না। ডেমো লেখক/পার্টটাইম লেখক হয়ে থাকতে হয় সবাইকে। উন্নত কনটেন্ট না পাওয়ার এটাই সবচাইতে বড় কারণ। তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। একজন লেখকের একটি বই লিখতে, চরিত্র দাঁড় করাতে যতটুকু সময় দরকার, পার্টটাইম লেখক ততটা দিতে পারেন না। তাই উন্নতমানের লেখা এদেশে কমই রচিত হয়। তিনি নিজেও ফুলটাইম লেখক নন। আমি বিশ্বাস করি, এজন্যই তার কাছ থেকে আমরাও তার সেরাটা পাচ্ছি না।
    এটা মানতে পারলাম না স্যার। অনেক লেখক আছেন কাজ করেও সেরা লেখা লিখেছেন। আপনি কি করে লিখেন সেটা পাঠক কেন দেখবে। ইতিহাস কেন মানবে। পাঠক দেখবে লেখা। আপনার পেটের ভাত দেখবে না। সো এসব বলা লেখকের দীনতা মনে হয় আমার কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *