শক্তিশালী লেখকের গল্প

নতুন লেখকদের নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ আছে। অনেকেই বলেন, নতুনরা ভালো লিখতে পারে না। আসলেই কি তাই? গণহারেই কি সবাই ভালো লিখতে অক্ষম? নাকি আমাদের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় লেখক? আমার মতে দ্বিতীয় অপশনটাই সঠিক। আমাদের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে ভালো লেখক। কেননা, গণহারে সবাই খারাপ লেখে, এটা কোন গ্রহণযোগ্য কথা নয়। অনেক সময় আমরা নিজেরাও সম্ভাবনাময় লেখকদের কথা বলি না। বই পড়েই ক্ষান্ত থাকি। তাদের লেখা নিয়ে আওয়াজ তুলি না। অথবা মেতে থাকি অন্য কোন বাজে লেখাকে পচানোর কাজে। অথচ আমাদের ভালো লেখকদের প্রচার করা উচিত ছিলো। যাইহোক, কাউকে না কাউকে তো সম্ভাবনাময় লেখকের কথা বলতেই হবে। তাই আমি আমার জায়গা থেকে নিয়মিত বলতে চেষ্টা করবো সম্ভাবনাময় কিছু লেখকের কথা। সামনে আনার চেষ্টা করবো ভালো লেখা ও ভালো লেখক। আমাদের পাঠকদের স্বার্থে, ভালো বইয়ের স্বার্থে, সর্বোপরি বইয়ের শিল্পকে এগিয়ে নেবার স্বার্থেই আমি কাজটি করবো। প্রতি পর্বে থাকবে একজন সম্ভাবনাময় লেখকের কথা। তাহলে শুরু করা যাক প্রথম পর্ব।

আজ একজন লেখকের কথা আপনাদেরকে জানাবো। এখন পর্যন্ত তার লিখিত প্রকাশিত এবং প্রকাশিতব্য বইয়ের সংখ্যা তিনটি। বয়সে তরুণ। সম্ভাবনাময় এই লেখক। তার তিনটি কবিতার বইয়ের নাম যথাক্রমে- শহরের ভাঁজে লেখা চাঁদের কাবিন, নরকযাত্রা। সর্বশেষ, প্রকাশিতব্য বইটি হচ্ছে “মুত্বমাইন্না-নট অনলি ফর মুসলিমস”। এটি মূলত কুরআনের বেশকিছু সূরার ভাবানুবাদ। ২০১৭ সালের শেষদিকে এসে মেইনস্ট্রিমে লেখার হাতেখড়ি হয় তার। পরবর্তীতে বই প্রকাশিত হয়। তার লেখার ধরণ এবং পরিধি দেখে আমি আশাবাদী সে ভবিষ্যতে দুর্দান্ত একজন লেখক হবে। তার কবিতা সেই ইঙ্গিত দেয়। তার নিরপেক্ষ চিন্তাধারা ও সকল বিষয়ে চুঁলচেরা বিশ্লেষণ সেই বার্তা বহন করে। আমি নরকযাত্রা বইটির বেশকিছু কবিতা পড়েছি। এছাড়াও তার ফেইসবুকের ওয়ালে মুত্বমাইন্না বইটির বেশকিছু ভাবানুবাদও আমার পড়া হয়েছে। আমি তার লেখায় শক্তি দেখেছি। গভীরতা দেখেছি। পড়ার সময় পেয়েছি গতি। আমার মতে, তার ক্ষমতা রয়েছে কালজয়ী লেখক হবার। তার লেখা আমায় টানে। বয়স তার কম। কিন্তু বলা হয়ে থাকে, তরুণ বয়সেই মানুষ তার সেরা লেখাগুলো লিখতে সক্ষম হয়। বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী ঘেঁটে এমনটাই দেখা গিয়েছে। তাদের সেরা লেখাগুলো তরুণ বয়সেই লেখা। অর্থাৎ, তারুণ্যই শক্তি। আমি এই লেখকের মাঝে তারুণ্যের শক্তি দেখতে পাই। তার কবিতার অন্ত্যমিল আমাকে মুগ্ধ করে। একজন পাঠক হিসেবে নয়, বরং বিশ্লেষক হিসেবেও আমাকে মুগ্ধ করে তার কাজ। সাম্প্রতিক সময়েই সে কুরআনের সূরার ভাবানুবাদের কাজ সম্পন্ন করেছে। বইটি এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে (ওপরে আমি বইটির নাম উল্লেখ করেছি- মুত্বমাইন্না)। আমার মতে, এটি তার সেরা কাজ হবে। তারই প্রমাণ মিলে প্রতিটি লেখায়। আমি বেশকিছু লাইন সবার উদ্দেশ্যে তুলে ধরতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই তাহলে বুঝতে পারবেন, কেন আমি তাকে সম্ভাবনায় বলছি।

“অতখানি তুমি উদার হয়ো না, যতটা ফতুর করে।
অতখানি তুমি কৃপণ হয়ো না, যতটা বিষাদ গড়ে।”
[সূরা বনী ইসরায়েল: ২৯]

“তোমার প্রভুকে কীরূপে তোমার স্বীকার করতে বাঁধে?
তোমরা তো ছিলে প্রাণহীন আর অজানার অবসাদে।
তিনি তোমাদের জীবন দিলেন পৃথিবীর কতো রূপে,
কতো অনুভব— হলো যে সরব— নিশিদিন নিশ্চুপে।
জেনো সময় পেরোলে তারপরে ফের মৃত্যুর উৎসবে
আবার তোমায়— প্রাণহীনতায়— শামিল হতেই হবে।
যেমন নীরবে জীবন পেয়েছো; অধরে এসেছে প্রাণ
এক মহাদিনে— তার মতো করে— হবে ফের উত্থান।
জীবনের যতো পরিণাম আর যতো পাওনার ভীড়ে
তোমাকে তো হায় তাঁহার কাছেই যেতে হবে আহা ফিরে।”
[ সূরা আল বাকারা: ২৮]

আপনারা তার বাকি লেখাগুলোও খুঁজে খুঁজে পড়ুন। নিশ্চয়ই অভিভূত হবেন। তার সেসব লেখার মধ্যেই নিহিত রয়েছে এক সম্ভাবনাময় কবির অস্তিত্ব। আমি তার শব্দচয়নে বিমোহিত। তাকে এক কথায় মেধাবী বলতে হয়। কুরআন থেকে সূরার ভাবানুবাদ বেশ কঠিন কাজ। তরুণ এই ছেলেটি সেই কঠিন কাজে হাত দিয়েছে। আর সে সফল হবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কারণ, তার লেখার ধরণ বলে দেয় পাঠকের মন জয় করতে সক্ষম সে। কেবল কুরআনের ভাবানুবাদে সে দক্ষতা দেখিয়েছে, তেমনটা নয়। প্রেম, দ্রোহ নিয়েও তার লেখা মুগ্ধ করার মতই। একজন মানুষের সম্পূর্ণ কাজ নিয়ে আলোচনা করাটা বিস্তর সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সংক্ষেপে তার কিছু বিষয় নিয়ে বলা যেতেই পারে। এই লেখায় আমি সেটাই চেষ্টা করেছি। একজন সম্ভাবনাময় লেখককে কেবল পরিচিয় করিয়ে দিচ্ছি আপনাদের সাথে। তার বিস্তারিত কাজের পরিধি আপনারা সময়ে সময়ে বিশ্লেষণ করে নেবেন। আপাতত, দু’চারটে লাইন পড়ে নিতে পারেন। আশা করি ভালোই লাগবে।

~শ্রাবণ সন্ধ্যায়~

এমন শ্রাবণ সন্ধ্যায়
তোমার খোপায় মেঘফুল তুলে দেবার বাসনা
অথবা একান্ত চেনা কিছু আনন্দের আলো
বৃদ্ধের নির্বাক লাঠির মতো পায়চারী করে।
কলাপাতায় সেই কবে মূর্ছা যাওয়া মুমূর্ষু রোদ
পশ্চিমের ঘোলাটে ছাই রঙ, সুপারির বাগান
হঠাৎ দুলে ওঠা পুকুরজলে ভাসাভাসা অন্ধকার
ছায়া নিভে আসা পুরো একটি দিনের………..
নিশ্চুপে চলে যাওয়ার খাপছাড়া ব্যস্ততা
সবই যেনো তোমার আগমনী বার্তা
কিন্তু… তোমার ফেরা নয়।

“তোমার পানে চাওয়া মানে রৌদ্র করেছে ভীড়
তুমি আমার প্রেম ও প্রাণে প্রশান্ত তাকদীর।”

তার লেখা এমন বহু কবিতা রয়েছে, যা পাঠককে মুগ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। লেখার বিষয়বস্তু নির্বাচন, লেখার ধরণ এবং ব্যক্তিত্ব সবমিলিয়ে চমৎকার এক সমন্বয় রয়েছে এই তরুণের মাঝে। এতক্ষণ ধরে আমি তার লেখা সম্পর্কে বলেই চললাম। কিন্তু তার নাম এখনও বলিনি। কেননা, আমি চাই লেখক তার লেখায় পরিচিত হোক। এজন্য তার লেখাগুলো নিয়েই বলেছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাম বলেই দিতে হয় সবার জ্ঞাতার্থে। তরুণ এই লেখকের নাম- মাবরুর আহমাদ নাকীব। নাকীব তোমার জন্য শুভকামনা। আপন পথে হাঁটতে থাকো। তোমার মাঝে আমি সম্ভাবনার আলো দেখি। তোমার মাঝে দেখি কালজয়ী হবার শক্তি। এই শক্তিকে ধরে রাখো। সবশেষে, তোমার উদ্দেশ্যে দুটি লাইন নিবেদন করে শেষ করতে চাই-

“হে তরুণ, হাঁটো। হেঁটেছো যে পথে,
পেরিয়ে যত বাঁধা, দুর্গম পথ। ঐ তো
সময়ের আবরণ শেষে, উত্থিত কালজয়ী রথ
অপেক্ষায়, তোমায় আপন করবে বলে।”


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *