গল্পে গল্পে বিজ্ঞাপন

সাকিবের খুব মন খারাপ। সকাল হতেই গাছতলায় বসে আছে সে। সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতে শুরু করলো। এখনও বাড়ি যাওয়ার নাম নেই তার। ঠিক এমন সময় গাছতলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো তার বন্ধু আতিক। তাকে একলা বসে থাকতে দেখে দেখে অবাক হলো সে। বললো, “কিরে সাকিব, তুই এখানে? তাও আবার একলা বসে আছিস।”
আতিকের কথা শুনে গোমড়ামুখ ওপরে তুললো সাকিব। বললো,
“আর বলিস না। মনটা ভীষণ খারাপ। পড়াশোনা শেষ করে বসে আছি। কোন গতি হচ্ছে না। পুরোপুরি বেকার। এখন তো মনে হচ্ছে সার্টিফিকেট অর্জন করাটাই ভুল ছিলো।”
“উহু! একদমই না। তুই বেকার বসে আছিস কেন? নিজের প্রতিভা দিয়ে কিছু কর। ডেস্কে চাকরী খুঁজতে হবে এমন তো কোন কথা নেই, তাই না?”
“বুঝলাম। কিন্তু করবোটা কী তাহলে?”
চিন্তিত ভঙ্গিতে বললো সাকিব।
“উদ্যোক্তা হয়ে যা। চাকরীর খোঁজে না থেকে চাকরী তৈরি কর সবার জন্য নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে।”
“বিষয়টা দারুণ বলেছিস। কিন্তু দোস্ত, গাইডেন্স পাবো কোত্থেকে?”
শুনে হাসলো আতিক। বললো,
“এই আধুনিক যুগে তুই গাইডেন্সের অভাবে ভুগছিস? আরে ব্যাটা, ত্বাইরান আবিরের অনূদিত ‘সফল উদ্যোক্তা’ বইটি পড়। বহু কিছু জানতে পারবি।”
“তাই নাকি!”
‘একদম তাই।’
“তা বইটা কোথায় পাবো?”
“চিন্তা নেই। বাংলাদেশের সেরা বই বিক্রির ওয়েবসাইট রকমারি ডট কম আছে। ওখানে গিয়ে অর্ডার করলেই ওরা পাঠিয়ে দেবে।”
“তাহলে আমি এক্ষুনি অর্ডার করবো।”
“হ্যা করতে পারিস। স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর এছাড়াও পড়তে পারিস ‘আনলিমিটেড মেমোরি’ বইটি। আর তোর তো মন খারাপ। হতাশা কাটিয়ে উঠতে পড় ‘দ্য পাওয়ার অব ইনটেনশন’। শুধু তাই নয়। আমি দেখতে পাচ্ছি তোর দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই নেতিবাচক। তা না হলে গ্রাজুয়েট করা কোন ছেলে এমন বিষন্নতা নিয়ে বসে থাকে?”

শুনে মাথা চুলকাতে লাগলো সাকিব।
“ঠিকই তো বলেছিস বন্ধু। এখন তাহলে উপায়?”
“শোন, সৃজনশীল বই পড়া মানুষকে সৃজনশীল করে তোলে। তোর দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে সহায়ক বই হতে পারে ‘এটিচিউড ইজ এভরিথিং’ বইটি। এই বইটা মাস্ট পড়বি।”
“আর কিছু পড়তে হবে?”
“হ্যা নিশ্চয়ই। তোকে চিন্তা করতে হবে সফল মানুষের মতো। আর এজন্য তোকে সাহায্য করতে পারে জন সি ম্যাক্সওয়েলের বই ‘হাউ সাকসেসফুল পিপল থিংকস’ বইটি। এই বইটির এডাপটেড ভার্সন এনেছে চর্চা গ্রন্থা প্রকাশ। এই বইটিরও বাংলা ভার্সনের কাজ করেছে তরুণ প্রজন্মের স্বনামধন্য অনুবাদক ত্বাইরান আবির। একবার বইগুলো পড়েই দেখ। তারপর বাস্তব জীবনে কাজে লাগা। জীবন বদলে যাবে। আমাকেও দেখতে পাচ্ছিস না কেমন বদলে গেছি! সবসময়ই প্রোডাক্টিভ কাজে সময় ব্যয় করি। অত হতাশ হবার সময় কই বল?”
“তুই একেবারে সঠিক কথা বলেছিস দোস্ত। আমি এক্ষুনি যাচ্ছি। বই পড়বো। দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক রাখবো। এটা তো আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। ধন্যবাদ তোকে বন্ধু। চলি।”
“ঠিক আছে। যা।”

বাড়ির দিকে রওনা হলো সাকিব। একটু দূর গিয়ে ফের পেছন দিকে তাকালো।
“কিন্তু আতিক, সবই বুঝলাম। ব্যবসা শুরু করতে গেলে বিক্রি না থাকলে কিভাবে চলবে?”
শুনে হাসলো আতিক।
“চিন্তা করিস না। সেজন্য আছে ‘এক্স্যাক্টলি হোয়াট টু সে’ ‘এক্স্যাক্টলি হোয়ার টু স্টার্ট’ সিরিজ। হাতেকলমে শিখতে পারবি সেলস পারসন কাকে বলে! বিক্রির চিন্তা আর নয়।”
শুনে চকচক করে উঠলো সাকিবের চোখমুখ।
“ধন্যবাদ বন্ধু। বাঁচালি আমায়। আর হতাশা নয়।”
“কোন হতাশা নয়। কাজ কর। হাসিমুখে থাক। টাইম ইজ মানি। গতানুগতিক চাকরীর আশায় বসে না থেকে উদ্যোক্তা হয়ে যা। জাতির উন্নতিতে রাখ অবদান।”


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *