ফেসবুকে ফলোয়ার বৃদ্ধির কতিপয় কার্যকরী পদ্ধতি

এখন পর্যন্ত ফেইসবুক সকল সোশ্যাল সাইটগুলোর মধ্যে সেরা। যদিও সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালু হবার ফলে এটি কিঞ্চিৎ জায়গা হারাচ্ছে, তবুও এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের রাজা। অনলাইন বিজনেসের অধিকাংশই শুরু হয় ফেইসবুককে কেন্দ্র করে এবং এখান থেকেই সর্বাধিক সুবিধা নেয় সকলে। কাজেই, ফেইসবুকে পাবলিক ফলোয়ার্স তৈরি করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ফলোয়ার্স বৃদ্ধি করার বেশকিছু সহজ উপায়।

ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে যদি নিজের একটা ভালো অবস্থান তৈরি করতে চান, তাহলে নিয়মিত পোস্ট করে অথবা ছবি আপলোড কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরি করে ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন। দিনে কমপক্ষে একটি হলেও পোস্ট করুন। ফেইসবুকে যদিও এ ব্যাপারে একটু শিথিলতা আনয়ন করতে পারেন, কিন্তু দিনে তবুও একটি পোস্ট করাটা আপনার জন্য বেটার অপশন এবং আপনাকে বেশি সময় সক্রিয় থাকতে হবে অধিক সংখ্যক অনুসরণকারীর সাথে যুক্ত থাকার জন্য।

প্রথম প্রথম হয়তো আপনি তেমন সাড়া পাবেন না। হয়তো আপনার কন্টেন্টগুলোতে মানুষের রিয়েকশন কিংবা মন্তব্য বেশি দেখা যাবে না। এমনকি আপনার মনে হতে পারে আপনি অযথাই সময় নষ্ট করছেন। তবুও ধারাবাহিকভাবে আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যেতে থাকুন। নিশ্চিত এই ধারাবাহিকতার ফলে সাফল্যের মুখ দেখতে পাবেন।

ফেইসবুকে ধারাবাহিক থাকার জন্য নিজস্ব কিছু কৌশল সেট করে নিন এবং কঠোরভাবে সেগুলো পালন করুন। প্রতিদিনই এখানে আপনার সক্রিয়তা দেখান এবং প্রতি চব্বিশ ঘণ্টায় নূন্যতম একটি কন্টেন্ট হলেও সরবরাহ করুন। সপ্তাহে বা মাসে একটি করে কন্টেন্ট আপলোড কখনোই যথেষ্ট নয় শুরুর দিকে, আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিন সক্রিয় থাকতে হবে।

ভালো কন্টেন্ট শেয়ার করুন

সবসময়ই ভালো এবং সময়োপযোগী কন্টেন্ট শেয়ার করুন ফেইসবুকে। খেয়াল করুন আপনার আপলোড করা কন্টেন্টগুলো যেন আপনার অনুসরণকারীদের পছন্দ হয়। তারা যেন সেখান থেকে শিক্ষালাভ করতে পারে এবং সময় খরচ করে পড়া বা দেখার মূল্য পায়। যদি আপনার কন্টেন্ট সবার পছন্দ হয়, তাহলে তারা সেটি অন্যদের সাথেও শেয়ার করবে। এভাবে আপনার এ্যাঙ্গেজমেন্ট আরো বাড়বে। আপনার পোস্ট যত শেয়ার করবে লোকে আপনি তত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।

ফেইসবুকে যাচ্ছেতাই কন্টেন্ট শেয়ার করাটা আপনাকে কোন সফলতা এনে দেবে না। আপনার কন্টেন্টগুলো অবশ্যই প্রাসঙ্গিক, মূল্যবান এবং আপনার অডিয়েন্সদের কাছে আনন্দদায়ক হতে হবে।

আপনার শেয়ার করা সকল কন্টেন্ট যে আপনার তৈরিই হতে হবে বিষয়টা তা নয়। আপনি সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয় শেয়ার করতে পারেন যেগুলোর প্রতি অডিয়েন্সের আগ্রহ রয়েছে। যেমন- সংবাদপত্রের কোন সংবাদ।

সর্বাধিক এ্যাঙ্গেজড হওয়া কন্টেন্ট চেক করুন

কিভাবে জানবেন কোন ধরণের কন্টেন্টে লোক বেশি যুক্ত হয়? কিংবা আপনার কোন পোস্টে সবচাইতে বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছিলো? এই কাজটি আপনি সহজেই করতে পারবেন ফেইসবুক ইনসাইট ব্যবহার করে। খুঁজে বের করতে পারবেন এ যাবতকালে আপনার শেয়ারকৃত সর্বাধিক এ্যাঙ্গেজড হওয়া পোস্ট।

আপনার পোস্ট স্ট্যাটিস্টিক চেক করে এ্যাঙ্গেজমেন্ট কলামে মনোযোগ সহকারে দেখুন। সেখানে আপনার পোস্টে সর্বোচ্চ কত রিয়েকশন, কমেন্ট এবং শেয়ার পেয়েছেন তা সহজেই জানতে পারবেন।

অতঃপর ফেইসবুক ইনসাইট থেকে সর্বাধিক এ্যাঙ্গেজমেন্ট পাওয়া পোস্টটি দেখুন। কোন সময়ে সেটি পোস্ট করেছেন, কেমন ধরনের কন্টেন্ট ছিলো সেটি এবং সেই পোস্টে মানুষের করা সকল মন্তব্য যাচাই করুন। এসকল তথ্য সংগ্রহ করে আপনি সে অনুসারে আপনার কন্টেন্টগুলো তৈরি করতে পারেন, যাতে অডিয়েন্স সেগুলো নিয়ে বেশি আগ্রহ দেখায়। নিশ্চিত এ কাজটি আপনাকে আরো বেশি রিয়েকশন, মন্তব্য এবং শেয়ার পেতে সাহায্য করবে।

নিজের ফেইসবুক ইউআরএল ব্যবহার করুন নিজস্ব ইমেইল সিগনেচারে

প্রতিদিন আপনি কতগুলো ইমেইল সেন্ড করেন মানুষকে? হিসেব বের করুন। এই প্রতিটি মেসেজই নতুন ফলোয়ার্স পাওয়ার জন্য একটি সুবিধা তৈরি করে দেবে, যদি আপনি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন।

ফেইসবুকে নিজের বিজনেস পেইজে একটি লিংক যুক্ত করে দিন। এটা আপনাকে নতুন ফলোয়ার্স পেতে, রেসপন্স পেতে এবং অন্যান্য নানা বিষয়ে মানুষকে প্রভাবিত করতে সহায়তা করবে।

সময়ে সময়ে নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক টাইমলাইনে বিজনেস ওয়ালের লিংক যুক্ত করুন

অল্পকিছু হলেও ফলোয়ার্স পাওয়ার অন্যতম একটি উপায় হলো নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক প্রোফাইলের টাইমলাইনে বিজনেস পেইজের লিংক শেয়ার করা। এভাবে সময়ে সময়ে লিংক শেয়ার করে আপনার কাছের বন্ধুবান্ধব ও পরিচিত পেশাদার ব্যক্তিত্বদেরকে নিজের কর্ম সম্পর্কে জানাতে পারেন। হয়তো এতে তারা আপনার কাজ সম্পর্ক আগ্রহী হবে এবং এতে আপনি আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।

আপনি হয়তো অবাক হবেন আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আপনার বিজনেস পেইজে লাইক দেয়া মানুষের পরিমাণ দেখে। এমনকি সাপোর্টিভ মনোভাবের বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের লোকজন আপনার পেইজটি তাদের ফলোয়ার্সদের সাথেও শেয়ার করতে পারে। এভাবেই আপনি বহু মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবেন। সেইসাথে অর্জন করতে পারবেন আরো কিছু ফলোয়ার্স।

তো এই ছিলো ফেইসবুকে ফলোয়ার্স বাড়ানো এবং সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছানো নিয়ে বেশকিছু টিপস। সামনে আরো কিছু নিয়ে হাজির হবো। ততক্ষণ সবাই ভালো থাকুন। হ্যাপি রিডিং।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *