যুক্তরাষ্ট্রে কার এ্যাক্সিডেন্টের পাঁচটি বিষয়, যা হয়তো আপনি ইতোপূর্বে জানতেন না

‘কার এ্যাক্সিডেন্ট’ হচ্ছে মর্মান্তিক একটি টার্ম। এ এক দুঃস্বপ্নের নাম। এর সাথে জড়িয়ে থাকে হুটহাট স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস আর কতিপয় মৃত্যুর হাতছানি। নিমিষেই যে কারণে চলে যায় অজস্র প্রাণ, সেইসাথে উক্ত প্রাণের সাথে জড়িয়ে থাকা মানুষের আশা ভরসা। বিশ্বে প্রতিনিয়ত কার এ্যাক্সিডেন্টে মারা যাওয়া লোকের সংখ্যা ব্যাপক। ব্যাপারটা দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের দেশেও এই হারটা কম নয়। যাইহোক, আজকে যুক্তরাষ্ট্রের কার এ্যাক্সিডেন্ট নিয়ে কিছু জানানোর চেষ্টা থাকবে, যা হয়তো আপনি ইতোপূর্বে জানতেন না!

যুক্তরাষ্ট্রে কার এ্যাক্সিডেন্ট হচ্ছে মানুষের কাছে সর্বাধিক পরিচিত আঘাতপ্রাপ্তির ব্যাপার। প্রতি চৌদ্দ সেকেন্ড পরপরই কেউ না কেউ কার এ্যাক্সিডেন্টে আহত হচ্ছে। নিচে এ ব্যাপারে পাঁচটি তথ্য দেয়া হলো, যা হয়তো পূর্বে আপনার জানা ছিলো না।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচাইতে বেশি কার এ্যাক্সিডেন্ট ঘটে পার্কিং লটে

আমাদের মধ্যে প্রায় সবারই ধারণা যে কার এ্যাক্সিডেন্ট প্রায় সবই ঘটে মহাসড়কে। আপনার আমার এই ধারণা আসলে ভুল। বেশিরভাগ দূর্ঘটনা ঘটে পার্কিং লটে এবং কার ক্র্যাশের অধিকাংশই ঘটে বাড়ি থেকে মাত্র তিন মাইল দুরত্বের মধ্যে। পার্কিং লটগুলোতে এত বেশি গাড়ি গাদাগাদি করে থাকে এবং জায়গার সংকুলান এতই কম যে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাছাড়াও বিপজ্জনক টার্ন আউট, বেরিয়ে আসার জন্য স্পেসের অভাব এবং নানা কারণে এই দূর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। মজার ব্যাপার হলো, এসব দূর্ঘটনা ঘটার পর দোষীকে খুঁজে বের করাটাই মুশকিল হয়ে যায়। যাইহোক, পার্কিং লটকে যদিও পারসোনাল প্রোপার্টি হিসেবে ধরা হয়, তবুও চালকরা গাদাগাদি এড়াতে চাইলে পার্কিং টিকিট সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে কার এ্যাক্সিডেন্ট হচ্ছে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম শীর্ষ কারণ

সিডিসি’র মতে যুক্তরাষ্ট্রে কার এক্সিডেন্ট হচ্ছে মৃত্যুহারের শীর্ষে থাকা একটি খাত। কেবল ইলিনয়েই ২০১৬ সালে ১০১৭টি মর্মান্তিক কার এক্সিডেন্টের ঘটনা ঘটেছে। ওদিকে ২০১৫ সালে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে কার এক্সিডেন্টে মৃত মানুষের সংখ্যা ছিলো ৩৫ হাজার। ১৫-২৯ বছর বয়সী লোকেদের মধ্যে কার এক্সিডেন্ট হচ্ছে মৃত্যুর অন্যতম শীর্ষ কারণ। আর এসব এক্সিডেন্টের বেশিরভাগই মানসিক অবসাদ, হতাশা, ক্লান্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং পারিপার্শ্বিক কারণে হয়ে থাকে।

জরিমানা না করা হলেও কার এক্সিডেন্টে চালককে ‘দায়ী’ করা হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে

কার এক্সিডেন্টে চালককে জরিমানা গুনতে না হলেও দূর্ঘটনার জন্য দায়ী বিবেচনা করা হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে, এমনকি তার ড্রাইভিং টিকিট ইস্যূ না থাকলেও। একটি দূর্ঘটনার দোষীকে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের বেশকিছু পদক্ষেপ রয়েছে। অনেক সময় গাড়ির চালক দূর্ঘটনায় দায়ী থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন রিপোর্ট ফাইল করা হয় না। আর গাড়ির চালক যদি কোন ইনসিওরেন্স কোম্পানির হয়ে থাকেন, তাহলে জরিমানাও গুনতে হয় না। অর্থনৈতিক ক্ষতির এই দিকটা সেসব কোম্পানিই বহন করে।

ব্যক্তিগত আঘাতপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কার এক্সিডেন্ট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম শীর্ষ কারণ

যুক্তরাষ্ট্রে কার এক্সিডেন্ট থেকে প্রাপ্ত আঘাত মানুষের কাছে সর্বাধিক পরিচিত আঘাতপ্রাপ্তির বিষয়। প্রতি ১৪ সেকেন্ড পরপরই কেউ না কেউ কার এক্সিডেন্টে আহত হচ্ছে এবং এর ফলে তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে।

চালক অমনোযোগী হলে এমনকি দশ মাইলের কম গতিতে গাড়ি চালালেও দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। অধিকাংশ দূর্ঘটনা ঘটে অমনোযোগী চালকদের অসচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রণহীনতার ফলে এবং এর পাশাপাশি রয়েছে গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি। ফলে যা হবার তাই হয়। দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে চালকরা প্রায়ই কাঁধে, মাথায় এবং মেরুদণ্ডে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে আহত হয়ে থাকেন।

হতাশাগ্রস্ত এবং অমনোযোগী চালকদের জন্য সবচাইতে বেশি দূর্ঘটনা ঘটে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে

অমনোযোগী এবং হতাশাগ্রস্ত চালকরা যুক্তরাষ্ট্রে সবচাইতে বেশি দূর্ঘটনা ঘটানোর জন্য দায়ী। মোট দূর্ঘটনার ২৫% ভাগ দূর্ঘটনার পেছনে তাদের দায় থাকে। গাড়ি চালানোর সময় সেল ফোনের ব্যবহার প্রায় ক্ষেত্রেই চালকের মনোযোগ সরানোর জন্য দায়ী৷ এছাড়াও আরো কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলোর ফলে গাড়ির চালক মনোযোগ হারান। যেমনঃ

১। গাড়িতে বসে খাওয়াদাওয়া ও মদপান।
২। অন্য যাত্রীদের সাথে কথাবার্তা বলা।
৩। সিগারেট খাওয়া।
৪। রেডিওর দিকে মন দেয়া।
৫। যাপিত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করা।

সাধারণ বিষয় এবং দুশ্চিন্তায় ডুবে যাওয়ার ফলে ড্রাইভিংয়ে অমনোযোগী হবার হার ৬২% ভাগ এবং সেল ফোনের ব্যবহার হচ্ছে গাড়ি চালানোর সময় সবচাইতে কম অমনোযোগী হবার কারণ। এর হার ১২% ভাগ।

আপাতত এটুকুই। সামনে হাজির হবো নতুন কোন দেশের নতুন কোন বিষয় নিয়ে। ততক্ষণ ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। আর দূর্ঘটনা এড়িয়ে যেতে ভুলবেন না কিন্তু!


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *