দ্য ডিক্টেটর

‘একনায়ক চাইলেই পারে কোন দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে, আবার পারে একেবারে ধ্বংস করে দিতে। এখানে শাসনব্যবস্থায় একনায়কের মতামতই শেষ কথা। তিনি ভালো চাইলে ভালো, মন্দ চাইলে মন্দই হবে।’

ক্ষুদ্রার্থে একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসক নিয়ে মানুষের এমন ভাবনাই কাজ করে। কিন্তু বৃহদার্থে এর আরো সংজ্ঞা রয়েছে। এছাড়াও এর সাথে জড়িয়ে আছে গণমানুষের অধিকার হরণের বিষয়টিও। এসব নিয়েই মূলত বিদ্রুপাত্মক এক ফিল্ম ‘দ্য ডিক্টেটর’। চিন্তা করুন তো, মনের মাঝে যদি স্বার্থপরতা আর লোভের দেয়াল চেপে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন তন্ত্রমন্ত্রই কি সফল হবে? হোক সেটা গণতন্ত্র কিংবা স্বৈরতন্ত্র অথবা খিলাফত। একজন স্বৈরাচারী লোক গণতন্ত্রকেও তার নিজের মত করে স্বৈরতন্ত্র বানিয়ে ফেলতে পারে। তারই প্রমাণ যেন এই চলচ্চিত্র। মোটকথা, গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরাচারও যে চলতে পারে তারই কিছু মেসেজ পাবেন দর্শক চলচ্চিত্রটিতে। কমেডি/ডার্ক কমেডি ঘরানার এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ল্যারি চার্লস। ৬৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার বাজেটে নির্মিত এই চলচ্চিত্র সর্বপ্রথম ২০১২ সালের ১৬ই মে লাতভিয়াতে মুক্তি পায়। মুক্তি পাবার পরই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ব্যবসা করে প্রচুর টাকা আয় করে। বক্স অফিসে মুভিটির আয় ১৭৯ মিলিয়ন ডলার। এতেই বোঝা যায় কতটা জনপ্রিয় হয়েছিলো চলচ্চিত্রটি। রিলিজ হবার পর বাংলাদেশি মানুষের কাছেও এটি প্রচুর প্রশংসিত হয় এবং এখনও অন্যতম সেরা স্থান দখল করে আছে। বিশেষ করে হাস্যকরভাবে ডিক্টেটরশীপের বাজে দিকগুলোর উপস্থাপন দেখে দর্শকরা ভালোই মজা পেয়েছে। তাছাড়া মাঝেমধ্যে কিছু হাস্যকর দৃশ্য সবাইকে দিয়েছে নিখাদ বিনোদন। যাইহোক, এবার সংক্ষেপে মূল কাহিনী বলা যাক-

অত্যাচারী স্বৈরশাসক জেনারেল আলাদিনের অত্যাচারে সবাই অতিষ্ট। খেলার মাঠ, বিজ্ঞানীদের তৈরি প্রকল্প, সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ দেশের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে এই স্বৈরশাসক তার অত্যাচারের ছাপ রাখেনি? নাহ, কোন সেক্টরই বাদ নেই। তো এই স্বৈরশাসক আলাদিনকে একদা ইউনাইটেড সিকিউরিটি কাউন্সিলের কতৃপক্ষ কতৃক সামিটে ভাষণ দেবার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। জেনারেল আলাদিন এতে ব্যাপক আনন্দিত হয়ে সওয়ারী সাজিয়ে উটে চড়ে নিউইয়র্কে এসে হাজির হয়। কিন্তু এখানে এসে ঘটে যায় আরেক ঘটনা। তাকে কিডন্যাপ করে তার চাচা তামির। এরপর তার মতই দেখতে আরেকজনকে আলাদিন বানিয়ে সকলের সামনে উপস্থাপন করে। শুরু হয় জেনারেল আলাদিনের প্রথম লড়াই। নকল আলাদিনকে সরিয়ে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের লড়াই। যাইহোক, শেষ পর্যন্ত আলাদিন তার কাছের মানুষের সহযোগীতায় অনেক চেষ্টা করে নকল আলাদিনকে সরাতে সক্ষম হয় এবং ভাষণ দিতে ডায়াসে ওঠে। যদিও সে তখন স্বৈরতন্ত্রের পক্ষেই ভাষণ দিয়ে যাচ্ছিলো, কিন্তু ততক্ষণাৎ আমেরিকায় এসে পরিচিত হওয়া তার বান্ধবী এসে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তার দিকে তাকিয়ে আলাদিন মত ঘুরিয়ে ফেলে বান্ধবীর মন রক্ষা করার জন্য। কেননা, তার ওই বান্ধবী আসলে গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের একজন আন্দোলনকারী ছিলো। অতঃপর সকলকে হতবাক করে দিয়ে আলাদিন গণতত্রের পক্ষে তার বক্তব্য রাখে এবং দেশে গিয়ে গণতন্ত্র চালু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এরপর কী হয়? আদৌ কি গণতন্ত্র চালু করে জেনারেল আলাদিন? নাকি গণতন্ত্রের ছাঁচে স্বৈরতন্ত্রের নতুন এক নমুনার প্রচলন ঘটায়? জানতে হলে দেখতে হবে ‘দ্য ডিক্টেটর’ চলচ্চিত্রটি। তাই আর দেরী না করে দেখে ফেলুন সাড়া জাগানো এই চলচ্চিত্র। অভিনয়, গল্পের প্রবাহ এবং মূল মেসেজ সবমিলিয়ে দারুণ এক চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবেন দর্শক।

রিমাইন্ডারঃ হাসতে হাসতে সবার পেট ব্যথার জোগাড় হলে কতৃপক্ষ দায়ী নহে এবং চলচ্চিত্রটিতে বেশকিছু এডাল্ট সিন রয়েছে। তাছাড়া ‘আলাদিন মাদারফাকার’ গানটি নিশ্চয়ই সবার ভালো লাগবে।

IMDB Rating- 6.4/10
Personal Rating- 8/10

Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *