গল্পে গল্পে বিজ্ঞাপন

একসময় আমার ‘আনলিমিটেড মেমোরি’ ছিলো না। আমি কোন কাজই ঠিক মতো করতে পারতাম না। কিছুই মনে রাখতে পারতাম না। তাই ‘সফল উদ্যোক্তা’ হবার জন্য ‘দ্য পাওয়ার অব ইনটেনশন’ বইটি পড়লাম। তাতেও কাজ হলো না। কেননা, আমি মানুষের সাথে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলাম না। তাই একদিন আমার এক বন্ধু আমাকে সাজেশন দিলো ‘এক্স্যাক্টলি হোয়াট টু সে’ বইটি পড়ার জন্য। আমি তখন বইটি সংগ্রহ করলাম। তারপর পড়া শুরু করলাম। চমৎকার একটি বই। অতঃপর আমাকে একটি ইন্টারভিউতে ডাকা হলো। এর বিষয়বস্তু ছিলো অবাক করার মতো। আলোচনার বিষয় ছিলো ‘অ্যানাইহিলেশন’। নাম পরেই অক্কা পাবার জোগাড় হলো আমার। তার ওপর ওখানে আমাকে আরেকটি জটিল প্রশ্ন করা হলো- ‘হাউ সাকসেসফুল পিপল থিংকস?’। দুঃখের বিষয় আমি এর উত্তর দিতে পারলাম না। ফলে চাকরীটা আর পেলাম না। এতে হতাশ হয়ে আমি গবেষণা শুরু করলাম ‘ইসলাম এ্যান্ড দ্য ফিউচার অব টলারেন্স’ নিয়ে। তাতে মনে খুব প্রশান্তি এলো। কিন্তু হঠাৎ আমার মন বদলে গেলো। তাই আমি মুভির দিকে আসক্ত হয়ে গেলাম পড়াশোনা ছেড়ে। তখন সিনেপ্লেক্সে একটা মুভি চলছিলো। নাম তার- ‘ব্লন্ড হেয়ার ব্লু আইজ’। খুব আনন্দ নিয়ে মুভিটা দেখছিলাম। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আমার পছন্দের নায়িকা সেই মুভিতে খুন হয়। খুনীটা তাকে হত্যা করে ডায়েরীতে লিখে গিয়েছিলো- ‘মার্ডার ইন এ মিনিট’। সেই থেকে আমি আজও হতাশ। সব ছেড়ে আমি লেখালেখি করি কেবল। আর সমাজ পরিবর্তনের আশায় আছি। বেঁচে থাকি এই আশায় যে, আমার লেখা ‘এ্যাটিচিউড ইজ এভরিথিং’ পড়ে একটা জাগরণ তৈরি হবে সমাজে। আমিই সেই জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হবো। জানি না, বাল্ডারল্যান্ডের মত দেশে ‘লাইফ ইন বাল্ডারল্যান্ড’ এর মত আর কোন বিশুদ্ধ স্যাটায়ার উপন্যাস লিখতে পারবো কিনা। তবুও আশা রাখি। আশায় বাঁচি।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *