আত্মশৃঙ্খলা ও সফলতার সাতকাহন

ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক জীবন চিন্তা না করলে আপনার জীবনে কখনোই হতাশা আসবে না। এখানে আমি এটা বোঝাচ্ছি না যে আপনার জীবনে দুঃখ কষ্ট আসবে না। বোঝাতে চাচ্ছি আপনার তখন ব্যক্তিজীবনের দুঃখ কষ্টকে পাত্তা দেবার মত মানসিকতা থাকবে না। কারণ, আপনার চিন্তাধারা হবে আদর্শ এবং জনস্বার্থকেন্দ্রিক। ব্যক্তিগত বিষয়ের চাইতে আপনি আদর্শ প্রতিষ্ঠার দিকেই বেশি নিবিষ্ট হবেন। আর বিস্তৃত পরিসরে নিজেকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত করার স্বপ্নে বিভোর থাকবেন। আপনি নিজের স্বার্থকে ত্যাগ করে নিঃস্বার্থভাবে পরোপকার করাকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নেবেন। তাহলে ব্যক্তি জীবনের ব্যক্তিস্বার্থের মত ঠুনকো বিষয় নিশ্চয়ই আপনার বৃহৎ লক্ষ্যের পথে বাঁধা হতে পারবে না। এবার একটু বিশ্বের সকল মহামানবদের কথা ভাবুন। তারা তাদের জীবনকে পরোপকারে বিলীন করার জন্য কাজ করে গিয়েছেন। ফলে ব্যক্তিজীবনের চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষার দিকে তেমন নজর দেননি বা দিতে পারেননি। তার মানে কি তাদের জীবনে কোন দুঃখ কষ্ট আসেনি? অবশ্যই এসেছিলো। তাদের মধ্যে অনেকের জীবনী পড়লে আপনি নিজেই হতবাক হয়ে যাবেন। কেননা, তারা ব্যক্তিজীবনে যেসব কঠিন সময় পার করেছিলেন, তার ধারেকাছেও নেই আপনার নিজ জীবনের কোন বিষয়, যেগুলো নিয়ে আপনি হতাশা বোধ করে থাকেন।

উদাহরণস্বরূপ- বিশ্ব মানবতার জ্বলন্ত উদাহরণ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কথা বলা যেতে পারে। তিনি তার নিজ জীবনে যেসব সংগ্রাম করেছেন, যতটা কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন সেগুলো ভাবলে আপনি নিশ্চয়ই অবাক হবেন। কিন্তু দিনশেষে তিনি সেসব আমলে নেননি। নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন পুরোটা জীবন জুড়ে। এর ফলাফল কী হয়েছে? আদর্শকে চরমভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন তিনি। বলতে পারেন এই মানুষটি নিজের জীবনকে কতটুকু উপভোগ করে গিয়েছেন? একদিক থেকে ভাবলে একেবারেই পারেননি। এই করুণ সত্য আপনারা ওনার জীবনী পড়লেই বুঝতে পারবেন। নিজের জীবনকে বর্তমান সময়ের একজন সাধারণ মানুষের মতও উপভোগ করার ফুরসত পাননি তিনি। তবুও কি তার জীবন ব্যর্থ? জটিল সময়ে তিনি হার মেনে নিয়েছিলেন? নেননি। কারণ, লক্ষ্য ছিলো বড়। কর্মের পরিধি ছিলো বিস্তর। তাই ব্যক্তি জীবনের দুঃখ কষ্টগুলোকে ডালপালা মেলতে দেননি কখনোই। সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে কাজ করে গেছেন। তাই তিনি সফল। অন্যদিকে, তিনি নিজের জীবনকে উপভোগ করতে পারেননি, এটা বললেও ভুল হবে। অবশ্যই তিনি নিজের জীবনকে উপভোগ করে গিয়েছেন। তবে সেটা স্বার্থান্বেষীভাবে নয়, পরোপকারে নিজেকে সমর্পণ করার মাধ্যমে। অতএব, আপনি কেন হতাশ হবেন? ভাগ্যের পরিহাসে হয়তো নিজের জীবনের কিছু হারিয়েছেন, হয়তো ব্যক্তিস্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে, তাই বলে নিজেকে শেষ করে দেবেন? এই বোকামি কখনোই করবেন না। বরং জনস্বার্থের জন্য নিজেকে তৈরি করে নিন। জীবন সার্থক হবে।

বইঃ আত্মশৃঙ্খলা ও সফলতার সাতকাহন
লেখকঃ ত্বাইরান আবির

শীঘ্রই প্রকাশিত হবে…………..!


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *